ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্টারনেট-মেট্রো বন্ধ: নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে অবরুদ্ধ দিল্লি

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২ অক্টোবর) কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে রাজধানী নয়াদিল্লি। যন্তর মন্তরমুখী সড়কগুলোতে পাঁচ সহস্রাধিক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে এলাকাটিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারির পাশাপাশি ওই এলাকায় রাত ৯টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া বিক্ষোভ ঠেকাতে জনপথ, রাজীব চক, লোক কল্যাণ মার্গ ও নয়াদিল্লিসহ গুরুত্বপূর্ণ ১১টি মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ করে দেয় দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন।

দিল্লি পুলিশ আগেই এই বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি বাতিল করেছিল। তা সত্ত্বেও আম আদমি পার্টির (আপ) দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ, অতিশী এবং সঞ্জীব ঝাসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটকে দেয় এবং হেফাজতে নেয়।

আপ নেতাদের দাবি, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি সত্ত্বেও তাদের জোরপূর্বক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের বাধার কারণে ছাত্র সংগঠন আইসাসহ অন্যান্য সংগঠনের কর্মীরাও এদিন যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে পারেননি।

এই দেশজুড়ে বিক্ষোভের মূল কারণ হলো নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া। সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার আওতায় ভারতের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে।

এ নিয়ে কমিশনের ভেতরেই মতবিরোধ ছিল এবং গত ১০ মাসে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভুল বা অনুপযুক্ত নাম বাদ দিতেই আইন মেনে এই আইনি প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে এবং এর মধ্যে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত নেই। বিতর্কের মুখে কমিশন তাদের সফটওয়্যার পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।

ভোটার অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার এই অভিযোগে ভারতের অন্যান্য শহরেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে পুলিশের অনুমতি না পেয়েই ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক জোট ‘ইন্ডিয়া’ ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন ঘেরাও এবং ১ নভেম্বর দিল্লিতে বিশাল সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটাধিকার নিয়ে সৃষ্ট এই বিতর্ক ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চরম উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

জনপ্রিয় সংবাদ

দেড় দশক পর কাঞ্চনে শীতলক্ষ্যায় ফিরছে নৌকাবাইচ

ইন্টারনেট-মেট্রো বন্ধ: নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে অবরুদ্ধ দিল্লি

প্রকাশ : ০৫:২১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২ অক্টোবর) কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে রাজধানী নয়াদিল্লি। যন্তর মন্তরমুখী সড়কগুলোতে পাঁচ সহস্রাধিক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে এলাকাটিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারির পাশাপাশি ওই এলাকায় রাত ৯টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া বিক্ষোভ ঠেকাতে জনপথ, রাজীব চক, লোক কল্যাণ মার্গ ও নয়াদিল্লিসহ গুরুত্বপূর্ণ ১১টি মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ করে দেয় দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন।

দিল্লি পুলিশ আগেই এই বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি বাতিল করেছিল। তা সত্ত্বেও আম আদমি পার্টির (আপ) দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ, অতিশী এবং সঞ্জীব ঝাসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটকে দেয় এবং হেফাজতে নেয়।

আপ নেতাদের দাবি, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি সত্ত্বেও তাদের জোরপূর্বক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের বাধার কারণে ছাত্র সংগঠন আইসাসহ অন্যান্য সংগঠনের কর্মীরাও এদিন যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে পারেননি।

এই দেশজুড়ে বিক্ষোভের মূল কারণ হলো নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া। সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার আওতায় ভারতের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে।

এ নিয়ে কমিশনের ভেতরেই মতবিরোধ ছিল এবং গত ১০ মাসে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভুল বা অনুপযুক্ত নাম বাদ দিতেই আইন মেনে এই আইনি প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে এবং এর মধ্যে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত নেই। বিতর্কের মুখে কমিশন তাদের সফটওয়্যার পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।

ভোটার অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার এই অভিযোগে ভারতের অন্যান্য শহরেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে পুলিশের অনুমতি না পেয়েই ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক জোট ‘ইন্ডিয়া’ ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন ঘেরাও এবং ১ নভেম্বর দিল্লিতে বিশাল সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটাধিকার নিয়ে সৃষ্ট এই বিতর্ক ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চরম উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস