রাজধানীর শান্তিনগর-কাকরাইল মোড়ে অবস্থিত একসময়ের অন্যতম অভিজাত শপিংমল ‘কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স’ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। টানা ব্যবসায়িক মন্দা, ক্রেতাশূন্যতা, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল এবং লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে গত ১ অক্টোবর থেকে মার্কেটটি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে দোকান মালিক সমিতি। এর মধ্য দিয়ে ১৯৯৮ সালে চালু হওয়া ২৮ বছরের পুরোনো এই শপিং কমপ্লেক্সটির অস্তিত্বের অবসান ঘটল।
গত এক দশক ধরে ধাপে ধাপে মার্কেটটির এই করুণ পরিণতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। মূলত চারটি কারণকে এই পতনের জন্য দায়ী করা হচ্ছে:
প্রথমত, শান্তিনগর ফ্লাইওভার নির্মাণকালীন দীর্ঘ সময় রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় ক্রেতারা এই মার্কেট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। দ্বিতীয়ত, কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার দীর্ঘ লকডাউনে ব্যবসায় মারাত্মক ধস নামে। তৃতীয়ত, এই দুই ধাক্কায় মার্কেটের স্বনামধন্য ও ভালো ব্যবসায়ীরা অন্যত্র চলে যান এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও তারা আর ফিরে আসেননি।
চতুর্থ এবং সবচেয়ে বড় কারণ হলো, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর প্রতারণা। অভিজাত ক্রেতাদের কাছে তারা জিঞ্জিরা ও চকবাজারের নিম্নমানের পণ্য ‘বিদেশি’ বলে বিক্রি করতে শুরু করেন, যার ফলে মার্কেটের সুনাম ও বিশ্বস্ততা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
এর পাশাপাশি ই-কমার্স ও ফেসবুকভিত্তিক কেনাকাটার প্রসার এবং বসুন্ধরা সিটি বা যমুনা ফিউচার পার্কের মতো মেগা শপিংমলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারাও এই ক্ষুদ্র মার্কেটের পতনের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকীবিল্লাহ ওসমানী (আনন্দ শাহ)।
২০ তলা ভবনের নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত বিস্তৃত এই শপিংমলে চালুর সময় ১৯৮টি দোকান ছিল। কিন্তু গত অক্টোবরে যখন মার্কেট বন্ধের নোটিশ ঝোলানো হয়, তখন মাত্র ২০ থেকে ২৫টি দোকান কোনোরকমে টিকে ছিল। সার্ভিস চার্জ আদায় না হওয়া এবং বিদ্যুৎ বিল ৫০ লাখ টাকার বেশি বকেয়া পড়ায় মালিক সমিতি সম্মিলিতভাবে এটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ফটকের শাটার নামানো এবং সেখানে ‘১/১০/২০২৬ ইং তারিখ হতে শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ থাকিবে’ লেখা ব্যানার ঝুলছে। তবে নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মচারীদের বেতন মেটানোর জন্য মার্কেটের বাইরের দিকে থাকা কাচ্চি ডাইন, হটকেক, মেজবান ডাইন ও রেমন্ডের শোরুম খোলা রাখা হয়েছে।
মার্কেটের দীর্ঘদিনের ভাড়াটিয়া ঘড়ি বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এক্কোচি’ তাদের দোকান বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টারে স্থানান্তর করেছে। উল্লেখ্য, মার্কেট বন্ধ হলেও ভবনের ওপরের অংশের আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টগুলো এই সিদ্ধান্তের আওতামুক্ত রয়েছে।
কর্ণফুলী গ্রুপের তৈরি করা এই মার্কেটের দোকানগুলো অনেক আগেই ব্যক্তিগত মালিকানায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে বাণিজ্যিক এই বিশাল জায়গাটি কোনো হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ব্যাংক বা করপোরেট অফিসের কাছে বিক্রি বা ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন মালিকেরা।
দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এ কে এম ইকবাল জানান, সব মালিক মিলে এটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিমধ্যে একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।
প্রথম ভোর ডেস্ক,ঢাকা 


















