ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের মাথায় চার সেলাই, ডোপ টেস্টে পাঠাল পুলিশ

ঢাকার মোহাম্মদপুরে জেনিভা ক্যাম্পের অদূরে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের পাশের ফুটপাথে কথিত ‘নাগরিক সংগঠন’-এর মাদকবিরোধী অভিযানে এক সন্দেহভাজন মাদকসেবীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, স্থানীয় সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের লোকজন পুলিশ ছাড়াই ওই অভিযান চালান। তবে সংসদ সদস্যের নির্বাহী সহকারী ইনতিশার মাশুক প্রধান এ ধরনের কোনো অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করেছেন।

পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার বেলা ১১টার দিকে সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের কার্যালয়ের লোকজন জেনিভা ক্যাম্পে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ পরিচালনা করেন। এ সময় মাদক সেবনরত আরিফ হোসেন (৩০) মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন।

পরে তাঁকে কলেজ গেট থেকে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা করানোর পর থানায় নিয়ে যায়। আরিফের মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে জানিয়ে পুলিশের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মোহাম্মদপুর থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যম-কে বলেন, “মোহাম্মদপুর রেসিডেন্সিয়াল কলেজের পাশের রাস্তাটার অবস্থা খুবই খারাপ। সেখানে স্থানীয় নাগরিক সমাজসহ সম্মিলিতভাবে একটি অভিযান চালানো হয়। “ওই সময় ওই ছেলেটা (আরিফ) গাঁজা খাচ্ছিল। সেখানে পুলিশও ছিল। ওখানে ধস্তাধস্তিতে ওই ছেলেটা আহত হয়।”

কিছুক্ষণ পর থানার ওই কর্মকর্তা ফোন করে তাঁকে উদ্ধৃত না করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “ওরে আমরা ধরিনি, জনগণে ধরে পুলিশে দিছে। সে মাদকসেবী কি না, সেটা জানার জন্য আমরা ডোপ টেস্ট করতে পাঠিয়েছি।”

বিষয়টি জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ইনতিশার মাশুক প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সংসদ সদস্যের দপ্তর থেকে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে একজনের মাথা ফাটিয়ে ফেলা হয়েছে—পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া এমন তথ্য তাঁকে জানানো হয়। জবাবে ইনতিশার বলেন, “ওখানে একটা নাগরিক সংগঠন আছে, ওরা মাঝে মাঝে এরকম অভিযান দেয়।

“ওটা এমপি মহোদয়ের না। এমপি মহোদয়ের তরফ থেকে এরকম কোনো অভিযান চালানো হয়নি।” এর আগে শনিবার অস্ত্র হাতে গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্যের ওই অভিযান নিয়ে তুমুল বিতর্ক দেখা দিলে সোমবার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।

রূপগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, মুগ্ধ সম্প্রীতি ও পরিবেশে

মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের মাথায় চার সেলাই, ডোপ টেস্টে পাঠাল পুলিশ

প্রকাশ : ০৪:১৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার মোহাম্মদপুরে জেনিভা ক্যাম্পের অদূরে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের পাশের ফুটপাথে কথিত ‘নাগরিক সংগঠন’-এর মাদকবিরোধী অভিযানে এক সন্দেহভাজন মাদকসেবীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, স্থানীয় সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের লোকজন পুলিশ ছাড়াই ওই অভিযান চালান। তবে সংসদ সদস্যের নির্বাহী সহকারী ইনতিশার মাশুক প্রধান এ ধরনের কোনো অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করেছেন।

পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার বেলা ১১টার দিকে সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের কার্যালয়ের লোকজন জেনিভা ক্যাম্পে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ পরিচালনা করেন। এ সময় মাদক সেবনরত আরিফ হোসেন (৩০) মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন।

পরে তাঁকে কলেজ গেট থেকে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা করানোর পর থানায় নিয়ে যায়। আরিফের মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে জানিয়ে পুলিশের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মোহাম্মদপুর থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যম-কে বলেন, “মোহাম্মদপুর রেসিডেন্সিয়াল কলেজের পাশের রাস্তাটার অবস্থা খুবই খারাপ। সেখানে স্থানীয় নাগরিক সমাজসহ সম্মিলিতভাবে একটি অভিযান চালানো হয়। “ওই সময় ওই ছেলেটা (আরিফ) গাঁজা খাচ্ছিল। সেখানে পুলিশও ছিল। ওখানে ধস্তাধস্তিতে ওই ছেলেটা আহত হয়।”

কিছুক্ষণ পর থানার ওই কর্মকর্তা ফোন করে তাঁকে উদ্ধৃত না করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “ওরে আমরা ধরিনি, জনগণে ধরে পুলিশে দিছে। সে মাদকসেবী কি না, সেটা জানার জন্য আমরা ডোপ টেস্ট করতে পাঠিয়েছি।”

বিষয়টি জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ইনতিশার মাশুক প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সংসদ সদস্যের দপ্তর থেকে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে একজনের মাথা ফাটিয়ে ফেলা হয়েছে—পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া এমন তথ্য তাঁকে জানানো হয়। জবাবে ইনতিশার বলেন, “ওখানে একটা নাগরিক সংগঠন আছে, ওরা মাঝে মাঝে এরকম অভিযান দেয়।

“ওটা এমপি মহোদয়ের না। এমপি মহোদয়ের তরফ থেকে এরকম কোনো অভিযান চালানো হয়নি।” এর আগে শনিবার অস্ত্র হাতে গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্যের ওই অভিযান নিয়ে তুমুল বিতর্ক দেখা দিলে সোমবার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।