ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সপ্তম দিনের মতো অচল হয়ে আছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। পাশাপাশি দ্বিতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকরা।

গত কয়েক দিনের মতো সোমবারও সকাল ৮টা থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ করে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ৯টা থেকে তারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেন।অন্যদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও দ্বিতীয় দিনের মতো ‘সর্বাত্মক কর্মবিরতি’ পালন করে। শিক্ষকরা সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “যতক্ষণ না আমাদের দাবি আদায় হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা ফিরে যাব না। আমরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করব না।

“আমরা চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করি, দেশনেতা তারেক রহমান আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। এবং একটি সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে আমাদের অতিসত্ত্বর ক্লাসে ফেরানোর ব্যবস্থা করবেন।”

আন্দোলনরত আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে ফেরাতে কমপ্লিট শাটডাউনের আজ সপ্তম দিন। বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান কর্মসূচি আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই সরকার দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করুক।”

চুয়েটের এক ছাত্রী বলেন, “এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হচ্ছে না। আমরা একাডেমিক কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি। আমরা দ্রুত একাডেমিক কাজে ফিরতে চাই। তাই সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা হোক।” সোমবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল করার কথা রয়েছে।

যেভাবে শুরু আন্দোলন

গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য করা হয়।

৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তারা শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ করে শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এরপর থেকে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম।

২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগ দেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সেদিন তিনি বলেন, দ্রুত ক্যাম্পাসে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতির সমাধান করতে চান।

ওই দিন বিকালে ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন উপাচার্যকে চুয়েটে চায় না বলে জানায় শিক্ষক সমিতি। একই রাতে নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে মশাল মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।

পরদিন শুক্রবার দুপুরেও নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ‘প্রত্যাখ্যান’ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় চুয়েট শিক্ষক সমিতি। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

শুক্রবার রাতে নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে মূল ফটকে ভেতর থেকে তালা দিয়ে পালা করে পাহারা দেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে ‘লাল কার্ড প্রদর্শন’ কর্মসূচি পালন করেন তারা। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকা হয়।

রোববারও শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এদিন ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ রেখে অবস্থানের পাশাপাশি ‘৫৬?’ লেখা কার্ড নিয়ে প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন তারা। মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন।

সায়েমকে নিয়োগের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কেন উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল—সেই প্রশ্ন তুলে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে রোববার থেকে চুয়েট শিক্ষক সমিতির ডাকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু হয়। একই দিন শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্ব আরোপ প্রধানমন্ত্রীর

সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

প্রকাশ : ০৫:১৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সপ্তম দিনের মতো অচল হয়ে আছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। পাশাপাশি দ্বিতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকরা।

গত কয়েক দিনের মতো সোমবারও সকাল ৮টা থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ করে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ৯টা থেকে তারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেন।অন্যদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও দ্বিতীয় দিনের মতো ‘সর্বাত্মক কর্মবিরতি’ পালন করে। শিক্ষকরা সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “যতক্ষণ না আমাদের দাবি আদায় হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা ফিরে যাব না। আমরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করব না।

“আমরা চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করি, দেশনেতা তারেক রহমান আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। এবং একটি সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে আমাদের অতিসত্ত্বর ক্লাসে ফেরানোর ব্যবস্থা করবেন।”

আন্দোলনরত আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে ফেরাতে কমপ্লিট শাটডাউনের আজ সপ্তম দিন। বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান কর্মসূচি আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই সরকার দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করুক।”

চুয়েটের এক ছাত্রী বলেন, “এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হচ্ছে না। আমরা একাডেমিক কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি। আমরা দ্রুত একাডেমিক কাজে ফিরতে চাই। তাই সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা হোক।” সোমবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল করার কথা রয়েছে।

যেভাবে শুরু আন্দোলন

গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য করা হয়।

৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তারা শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ করে শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এরপর থেকে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম।

২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগ দেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সেদিন তিনি বলেন, দ্রুত ক্যাম্পাসে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতির সমাধান করতে চান।

ওই দিন বিকালে ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন উপাচার্যকে চুয়েটে চায় না বলে জানায় শিক্ষক সমিতি। একই রাতে নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে মশাল মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।

পরদিন শুক্রবার দুপুরেও নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ‘প্রত্যাখ্যান’ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় চুয়েট শিক্ষক সমিতি। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

শুক্রবার রাতে নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে মূল ফটকে ভেতর থেকে তালা দিয়ে পালা করে পাহারা দেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে ‘লাল কার্ড প্রদর্শন’ কর্মসূচি পালন করেন তারা। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকা হয়।

রোববারও শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এদিন ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ রেখে অবস্থানের পাশাপাশি ‘৫৬?’ লেখা কার্ড নিয়ে প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন তারা। মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন।

সায়েমকে নিয়োগের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কেন উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল—সেই প্রশ্ন তুলে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে রোববার থেকে চুয়েট শিক্ষক সমিতির ডাকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু হয়। একই দিন শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।