ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মডেল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানি নির্ধারণ, জারি হলো নতুন নীতিমালা

দেশের মডেল মসজিদগুলোতে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদিম এবং নিরাপত্তা প্রহরীদের সম্মানি ও বেতন-ভাতার পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করে নতুন ‘মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মডেল মসজিদে কর্মরত পেশ ইমামকে মাসিক ২০ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনকে ১৫ হাজার টাকা এবং খাদিমকে ১২ হাজার টাকা সম্মানি প্রদান করা হবে। তবে খতিব এবং নিরাপত্তা প্রহরীর ক্ষেত্রে সম্মানি নির্ধারণ করা হবে সম্পূর্ণ চুক্তিভিত্তিক প্রক্রিয়ায়।

নীতিমালায় আর্থিক সক্ষমতাসম্পন্ন মডেল মসজিদগুলোর জন্য একটি বিকল্প কাঠামোর কথাও বলা হয়েছে। যেসব মডেল মসজিদের পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, সেসব মসজিদ কমিটি পূর্বের ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে নির্ধারিত সরকারি গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদান করতে পারবে। এক্ষেত্রে ইমামের বেতন গ্রেড-১০, মুয়াজ্জিনের গ্রেড-১৬ এবং খাদিমের গ্রেড-১৮ হিসেবে নির্ধারিত হবে। তবে এক্ষেত্রেও খতিব ও নিরাপত্তা প্রহরীর পদটি চুক্তিভিত্তিক হিসেবেই বহাল থাকবে।

আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি নীতিমালায় উৎসব ভাতার বিধানও রাখা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে মডেল মসজিদের এসব জনবলকে উৎসবের ঠিক আগের মাসের সম্মানির সমপরিমাণ অর্থ উৎসব ভাতা হিসেবে প্রদান করা যাবে। নীতিমালায় কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, খতিবসহ মসজিদে কর্মরত সকল জনবলকে মসজিদের পবিত্রতা ও সম্পদের ‘আমানতদার’ হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মডেল মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য সিটি করপোরেশন, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে এই নীতিমালায়। এসব মসজিদের অধীনে পবিত্র কোরআন শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, হিফজখানা এবং শিশুদের মক্তব শিক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়মিত দায়িত্বের মধ্যে জুমার সালাত, প্রাক-খুতবা ও খুতবা, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, দুই ঈদের সালাত এবং জানাজার সালাতের সুশৃঙ্খল আয়োজন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পবিত্র রমজান মাসে খতম তারাবিহ আদায়ের জন্য হাফেজ নিয়োগ এবং তাঁদের আবাসনের সার্বিক ব্যবস্থা করার সুস্পষ্ট নির্দেশনাও এই নীতিমালায় যুক্ত করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্ব আরোপ প্রধানমন্ত্রীর

মডেল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানি নির্ধারণ, জারি হলো নতুন নীতিমালা

প্রকাশ : ০৪:৪৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের মডেল মসজিদগুলোতে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদিম এবং নিরাপত্তা প্রহরীদের সম্মানি ও বেতন-ভাতার পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করে নতুন ‘মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মডেল মসজিদে কর্মরত পেশ ইমামকে মাসিক ২০ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনকে ১৫ হাজার টাকা এবং খাদিমকে ১২ হাজার টাকা সম্মানি প্রদান করা হবে। তবে খতিব এবং নিরাপত্তা প্রহরীর ক্ষেত্রে সম্মানি নির্ধারণ করা হবে সম্পূর্ণ চুক্তিভিত্তিক প্রক্রিয়ায়।

নীতিমালায় আর্থিক সক্ষমতাসম্পন্ন মডেল মসজিদগুলোর জন্য একটি বিকল্প কাঠামোর কথাও বলা হয়েছে। যেসব মডেল মসজিদের পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, সেসব মসজিদ কমিটি পূর্বের ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে নির্ধারিত সরকারি গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদান করতে পারবে। এক্ষেত্রে ইমামের বেতন গ্রেড-১০, মুয়াজ্জিনের গ্রেড-১৬ এবং খাদিমের গ্রেড-১৮ হিসেবে নির্ধারিত হবে। তবে এক্ষেত্রেও খতিব ও নিরাপত্তা প্রহরীর পদটি চুক্তিভিত্তিক হিসেবেই বহাল থাকবে।

আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি নীতিমালায় উৎসব ভাতার বিধানও রাখা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে মডেল মসজিদের এসব জনবলকে উৎসবের ঠিক আগের মাসের সম্মানির সমপরিমাণ অর্থ উৎসব ভাতা হিসেবে প্রদান করা যাবে। নীতিমালায় কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, খতিবসহ মসজিদে কর্মরত সকল জনবলকে মসজিদের পবিত্রতা ও সম্পদের ‘আমানতদার’ হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মডেল মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য সিটি করপোরেশন, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে এই নীতিমালায়। এসব মসজিদের অধীনে পবিত্র কোরআন শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, হিফজখানা এবং শিশুদের মক্তব শিক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়মিত দায়িত্বের মধ্যে জুমার সালাত, প্রাক-খুতবা ও খুতবা, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, দুই ঈদের সালাত এবং জানাজার সালাতের সুশৃঙ্খল আয়োজন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পবিত্র রমজান মাসে খতম তারাবিহ আদায়ের জন্য হাফেজ নিয়োগ এবং তাঁদের আবাসনের সার্বিক ব্যবস্থা করার সুস্পষ্ট নির্দেশনাও এই নীতিমালায় যুক্ত করা হয়েছে।