ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০ টাকার তেলে ২০০ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি: জিম্মি যাত্রীরা

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে কয়েকটি আন্তঃজেলা রুটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া প্রতি আসনে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে মালিকপক্ষ।

সরকার নির্ধারিত কোনো ভাড়ার তালিকা না থাকায় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল নজরদারির কারণে পরিবহন কোম্পানিগুলো নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।

রাজধানীর গুলিস্তান, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে বরিশাল, ঝালকাঠি, খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী এসি বাসগুলো এই বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।

সৌদিয়া, ইমাদ পরিবহন, গোল্ডেন লাইন, গ্রিন লাইন ও ব্লু লাইনসহ বেশ কয়েকটি বড় এসি বাস অপারেটর টিকিটপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা ভাড়া বাড়িয়েছে। ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-ঝালকাঠি রুটের সাকুরা পরিবহনের যাত্রীরা জানান, আগে নন-এসি বাসের টিকিট ৬০০ টাকা থাকলেও এখন তা ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এসি বাসের ভাড়া ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করা হয়েছে।

বড় বোনের শেষকৃত্যে অংশ নিতে ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রী পলাশ কান্তি জানান, নন-এসি বাসে টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে তাকে ১০০ টাকা বেশি দিয়ে ৮০০ টাকায় এসি টিকিট কিনতে হয়েছে।

ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটের ইমাদ পরিবহনের যাত্রী হাসনা বেগম অভিযোগ করেন, ৮৫০ টাকা দিয়ে এসি বাসের টিকিট কেনার পরও বাসে ওঠার আগে তাকে আরও ১০০ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়। সাধারণ নাগরিকেরা বাস মালিক ও শ্রমিকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা।

তবে পরিবহন কোম্পানিগুলো ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সাকুরা পরিবহনের নির্বাহী আবু বকর সিদ্দিক দাবি করেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে নন-এসি টিকিটে ২৫ টাকা ও এসি টিকিটে ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি জানান, তাদের ৩৬ আসনের বাসগুলোতে প্রতি ট্রিপে চার হাজার টাকার বাড়তি জ্বালানি লাগছে, এসিতে ব্যয় আরও বেশি হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে ইমাদ পরিবহনের সায়েদাবাদ কাউন্টার ম্যানেজার মো. বায়েজিদ জানান, প্রতি লিটার জ্বালানির দাম ২০ টাকা বাড়ার প্রভাব সামাল দিতে তারা টিকিটের দাম ১০০ টাকা সমন্বয় করেছেন।

এসি বাসের জন্য সরকার নির্ধারিত কোনো ভাড়ার তালিকা না থাকায় এ বিষয়ে অনেকটা নিরুপায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সংস্থাটির রাজস্ব কর্মকর্তা এরশাদ মিয়া জানান, বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন প্রিমিয়াম পরিবহন হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় এসি বাস সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার কাঠামোর বাইরে রয়েছে। তাই নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা না থাকায় সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

উল্লেখ্য, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩৪(২) ধারা অনুযায়ী সরকার গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ করতে পারলেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল বাসের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।

গত ৯ এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংসদে এসি বাসের জন্য ভাড়ার তালিকা তৈরি ও ডিজিটাল ভাড়া প্রদর্শনের ব্যবস্থার কথা জানালেও বিআরটিএ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতির কথা জানাতে পারেননি।

সূত্র: ডেইলি স্টার

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদে মুসল্লিদের সঙ্গে আবু মোহাম্মদ মাছুম, দিলেন নতুন প্রতিশ্রুতি

২০ টাকার তেলে ২০০ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি: জিম্মি যাত্রীরা

প্রকাশ : ০৫:২৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে কয়েকটি আন্তঃজেলা রুটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া প্রতি আসনে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে মালিকপক্ষ।

সরকার নির্ধারিত কোনো ভাড়ার তালিকা না থাকায় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল নজরদারির কারণে পরিবহন কোম্পানিগুলো নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।

রাজধানীর গুলিস্তান, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে বরিশাল, ঝালকাঠি, খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী এসি বাসগুলো এই বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।

সৌদিয়া, ইমাদ পরিবহন, গোল্ডেন লাইন, গ্রিন লাইন ও ব্লু লাইনসহ বেশ কয়েকটি বড় এসি বাস অপারেটর টিকিটপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা ভাড়া বাড়িয়েছে। ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-ঝালকাঠি রুটের সাকুরা পরিবহনের যাত্রীরা জানান, আগে নন-এসি বাসের টিকিট ৬০০ টাকা থাকলেও এখন তা ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এসি বাসের ভাড়া ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করা হয়েছে।

বড় বোনের শেষকৃত্যে অংশ নিতে ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রী পলাশ কান্তি জানান, নন-এসি বাসে টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে তাকে ১০০ টাকা বেশি দিয়ে ৮০০ টাকায় এসি টিকিট কিনতে হয়েছে।

ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটের ইমাদ পরিবহনের যাত্রী হাসনা বেগম অভিযোগ করেন, ৮৫০ টাকা দিয়ে এসি বাসের টিকিট কেনার পরও বাসে ওঠার আগে তাকে আরও ১০০ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়। সাধারণ নাগরিকেরা বাস মালিক ও শ্রমিকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা।

তবে পরিবহন কোম্পানিগুলো ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সাকুরা পরিবহনের নির্বাহী আবু বকর সিদ্দিক দাবি করেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে নন-এসি টিকিটে ২৫ টাকা ও এসি টিকিটে ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি জানান, তাদের ৩৬ আসনের বাসগুলোতে প্রতি ট্রিপে চার হাজার টাকার বাড়তি জ্বালানি লাগছে, এসিতে ব্যয় আরও বেশি হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে ইমাদ পরিবহনের সায়েদাবাদ কাউন্টার ম্যানেজার মো. বায়েজিদ জানান, প্রতি লিটার জ্বালানির দাম ২০ টাকা বাড়ার প্রভাব সামাল দিতে তারা টিকিটের দাম ১০০ টাকা সমন্বয় করেছেন।

এসি বাসের জন্য সরকার নির্ধারিত কোনো ভাড়ার তালিকা না থাকায় এ বিষয়ে অনেকটা নিরুপায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সংস্থাটির রাজস্ব কর্মকর্তা এরশাদ মিয়া জানান, বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন প্রিমিয়াম পরিবহন হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় এসি বাস সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার কাঠামোর বাইরে রয়েছে। তাই নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা না থাকায় সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

উল্লেখ্য, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩৪(২) ধারা অনুযায়ী সরকার গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ করতে পারলেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল বাসের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।

গত ৯ এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংসদে এসি বাসের জন্য ভাড়ার তালিকা তৈরি ও ডিজিটাল ভাড়া প্রদর্শনের ব্যবস্থার কথা জানালেও বিআরটিএ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতির কথা জানাতে পারেননি।

সূত্র: ডেইলি স্টার