ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোজ্যতেল: বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে বাড়তি দামে বিক্রি

আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দামে বেশ কিছুদিন ধরে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এর বিন্দুমাত্র ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। উল্টো বিশ্ববাজারের চিত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খাতুনগঞ্জে এই দুই নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্যতেলের দাম আরও বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, গত তিন মাসে বিশ্ববাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের গড় দাম কমেছে। অথচ ঠিক একই সময়ে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বাজারে সরবরাহের ঘাটতির অজুহাত তুলে ভোজ্যতেলের দাম মণপ্রতি অন্তত ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করছেন। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন দেশের সাধারণ ভোক্তারা।

বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডেটা বা ‘পিং শিট’-এর আগস্ট মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জুন-আগস্ট-এই তিন মাসে পাম ও সয়াবিন তেলের গড় দাম এপ্রিল-জুনের গড়ের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ১১৭ ডলার।

জুনে তা ছিল ১ হাজার ১০৪ ডলার এবং জুলাইয়ে ১ হাজার ১০১ ডলার। ফলে জুন-আগস্ট তিন মাসে গড় দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ১০৭ দশমিক ৩৩ ডলার। এর আগে এপ্রিল-জুনে এই গড় ছিল ১ হাজার ১২৮ দশমিক ৬৭ ডলার। অর্থাৎ, আগের তিন মাসের তুলনায় পাম তেলের গড় দাম কমেছে প্রায় ২১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেও ঠিক একই নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এপ্রিল, মে ও জুনে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৬৪৩, ১ হাজার ৭৮১ ও ১ হাজার ৭৪০ ডলার। এই তিন মাসের গড় দাঁড়ায় ১ হাজার ৭২১ দশমিক ৩৩ ডলার।

অন্যদিকে জুন, জুলাই ও আগস্টে দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৭৪০, ১ হাজার ৬৫৮ ও ১ হাজার ৬৩৮ ডলার। ফলে জুন-আগস্টের গড় দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৬৭ ডলার। অর্থাৎ, আগের তিন মাসের তুলনায় সয়াবিন তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমেছে প্রায় ৪২ দশমিক ৬৭ ডলার বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই নিম্নমুখী গড়ের বিপরীতে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। সেখানে বর্তমানে সয়াবিন তেল প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং পাম তেল ৬ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সুপার পাম তেলের দর চলছে মণপ্রতি প্রায় ৬ হাজার ৮০০ টাকা।

বাজারসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দেড় মাস আগেও খাতুনগঞ্জে সয়াবিন তেলের দর ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা মণ। অর্থাৎ এই অল্প সময়ের ব্যবধানে মণপ্রতি দাম বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৩০০ টাকা বা ৪ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে পাম তেলের দরও মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত করেছেন।

দাম বাড়ার পেছনে খাতুনগঞ্জের সয়াবিন তেল ব্যবসায়ী শাহজালাল সরবরাহের ঘাটতিকে দুষছেন। তিনি বলেন, বাজারে তেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ডিলাররা যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করছেন, তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় বাধ্য হয়েই দাম বেড়েছে।

পাইকারি বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়েছে খুচরা বাজারে। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৮ থেকে ২১০ টাকা, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর সরকার ইতিমধ্যে দুই দফায় সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করেছে। গত ২৯ এপ্রিল এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতল ৯৫৫ থেকে ৯৭৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৭৬ থেকে ১৮০ টাকা করা হয়।

এরপর গত ২ সেপ্টেম্বর এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার।

বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই পূরণ করতে হয় আমদানির মাধ্যমে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর, ব্যাংকিং ব্যয়, পরিশোধন ও প্যাকেজিং খরচসহ বিভিন্ন বিষয় স্থানীয় বাজারদরে বড় প্রভাব ফেলে।

খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আলা উদ্দীন জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের পাইকারি দামের তুলনা করতে হলে শুধু টনপ্রতি মূল্য দেখলে হবে না। আমদানি থেকে শুরু করে খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত পুরো ব্যয় কাঠামো এবং সরবরাহের পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাজারদর নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া আগের উচ্চ দামে আমদানি করা তেল বাজারে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে দাম কমানো সম্ভব হয় না বলেও ব্যবসায়ীরা যুক্তি দেখিয়েছেন।

আমদানির পরিসংখ্যান বলছে দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিকই রয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে মোট ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল ৫০ হাজার ৮৯৬ টন, যা মোট আমদানির প্রায় ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ। আর সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে ১৫ হাজার ৬১ টন, যা মোটের প্রায় ২২ দশমিক ৯ শতাংশ।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন এই আমদানির তথ্য নিশ্চিত করে জানান, কাস্টমস মূলত আমদানিসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে, তবে বাজারদরের বিষয়টি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নানা উপাদানের ওপর নির্ভরশীল।

এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে কঠোর নজরদারির তাগিদ দিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

ক্যাবের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সামনে রমজান মাস। এখন থেকেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধির কোনো অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে কি না, সেটি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নিবিড় নজরদারিতে রাখা দরকার।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল ভোক্তারা কতটা পাচ্ছেন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির কারণও কঠোর নজরদারির আওতায় আনা উচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদে মুসল্লিদের সঙ্গে আবু মোহাম্মদ মাছুম, দিলেন নতুন প্রতিশ্রুতি

ভোজ্যতেল: বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে বাড়তি দামে বিক্রি

প্রকাশ : ০৫:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দামে বেশ কিছুদিন ধরে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এর বিন্দুমাত্র ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। উল্টো বিশ্ববাজারের চিত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খাতুনগঞ্জে এই দুই নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্যতেলের দাম আরও বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, গত তিন মাসে বিশ্ববাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের গড় দাম কমেছে। অথচ ঠিক একই সময়ে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বাজারে সরবরাহের ঘাটতির অজুহাত তুলে ভোজ্যতেলের দাম মণপ্রতি অন্তত ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করছেন। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন দেশের সাধারণ ভোক্তারা।

বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডেটা বা ‘পিং শিট’-এর আগস্ট মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জুন-আগস্ট-এই তিন মাসে পাম ও সয়াবিন তেলের গড় দাম এপ্রিল-জুনের গড়ের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ১১৭ ডলার।

জুনে তা ছিল ১ হাজার ১০৪ ডলার এবং জুলাইয়ে ১ হাজার ১০১ ডলার। ফলে জুন-আগস্ট তিন মাসে গড় দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ১০৭ দশমিক ৩৩ ডলার। এর আগে এপ্রিল-জুনে এই গড় ছিল ১ হাজার ১২৮ দশমিক ৬৭ ডলার। অর্থাৎ, আগের তিন মাসের তুলনায় পাম তেলের গড় দাম কমেছে প্রায় ২১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেও ঠিক একই নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এপ্রিল, মে ও জুনে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৬৪৩, ১ হাজার ৭৮১ ও ১ হাজার ৭৪০ ডলার। এই তিন মাসের গড় দাঁড়ায় ১ হাজার ৭২১ দশমিক ৩৩ ডলার।

অন্যদিকে জুন, জুলাই ও আগস্টে দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৭৪০, ১ হাজার ৬৫৮ ও ১ হাজার ৬৩৮ ডলার। ফলে জুন-আগস্টের গড় দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৬৭ ডলার। অর্থাৎ, আগের তিন মাসের তুলনায় সয়াবিন তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমেছে প্রায় ৪২ দশমিক ৬৭ ডলার বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই নিম্নমুখী গড়ের বিপরীতে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। সেখানে বর্তমানে সয়াবিন তেল প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং পাম তেল ৬ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সুপার পাম তেলের দর চলছে মণপ্রতি প্রায় ৬ হাজার ৮০০ টাকা।

বাজারসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দেড় মাস আগেও খাতুনগঞ্জে সয়াবিন তেলের দর ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা মণ। অর্থাৎ এই অল্প সময়ের ব্যবধানে মণপ্রতি দাম বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৩০০ টাকা বা ৪ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে পাম তেলের দরও মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত করেছেন।

দাম বাড়ার পেছনে খাতুনগঞ্জের সয়াবিন তেল ব্যবসায়ী শাহজালাল সরবরাহের ঘাটতিকে দুষছেন। তিনি বলেন, বাজারে তেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ডিলাররা যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করছেন, তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় বাধ্য হয়েই দাম বেড়েছে।

পাইকারি বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়েছে খুচরা বাজারে। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৮ থেকে ২১০ টাকা, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর সরকার ইতিমধ্যে দুই দফায় সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করেছে। গত ২৯ এপ্রিল এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতল ৯৫৫ থেকে ৯৭৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৭৬ থেকে ১৮০ টাকা করা হয়।

এরপর গত ২ সেপ্টেম্বর এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার।

বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই পূরণ করতে হয় আমদানির মাধ্যমে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর, ব্যাংকিং ব্যয়, পরিশোধন ও প্যাকেজিং খরচসহ বিভিন্ন বিষয় স্থানীয় বাজারদরে বড় প্রভাব ফেলে।

খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আলা উদ্দীন জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের পাইকারি দামের তুলনা করতে হলে শুধু টনপ্রতি মূল্য দেখলে হবে না। আমদানি থেকে শুরু করে খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত পুরো ব্যয় কাঠামো এবং সরবরাহের পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাজারদর নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া আগের উচ্চ দামে আমদানি করা তেল বাজারে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে দাম কমানো সম্ভব হয় না বলেও ব্যবসায়ীরা যুক্তি দেখিয়েছেন।

আমদানির পরিসংখ্যান বলছে দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিকই রয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে মোট ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল ৫০ হাজার ৮৯৬ টন, যা মোট আমদানির প্রায় ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ। আর সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে ১৫ হাজার ৬১ টন, যা মোটের প্রায় ২২ দশমিক ৯ শতাংশ।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন এই আমদানির তথ্য নিশ্চিত করে জানান, কাস্টমস মূলত আমদানিসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে, তবে বাজারদরের বিষয়টি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নানা উপাদানের ওপর নির্ভরশীল।

এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে কঠোর নজরদারির তাগিদ দিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

ক্যাবের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সামনে রমজান মাস। এখন থেকেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধির কোনো অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে কি না, সেটি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নিবিড় নজরদারিতে রাখা দরকার।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল ভোক্তারা কতটা পাচ্ছেন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির কারণও কঠোর নজরদারির আওতায় আনা উচিত।