ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবা-মায়ের পর বিশ্বমঞ্চে ছেলে: ইতিহাস গড়ে আজ জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় (নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা) সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে একই বিশ্বমঞ্চে চার দশকের ব্যবধানে জিয়া পরিবারের তিন সদস্যের উপস্থিতির এক বিরল ঐতিহাসিক অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে।

৪৬ বছর আগে, ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট এই একই মঞ্চে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তৎকালীন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার বক্তব্যে বিশ্বমঞ্চে উঠে এসেছিল ধনী-দরিদ্র বৈষম্য, ক্ষুধা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা। এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন তার সহধর্মিণী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মোট পাঁচবার এই মঞ্চে বক্তব্য রাখেন, যেখানে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও ছোট রাষ্ট্রগুলোর অধিকারের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় এবার বাবা-মায়ের পথ ধরে বিশ্বমঞ্চে উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক উপস্থিতির নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বুধবার নিউইয়র্কে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আবেগ ও অনুভূতি ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে বাংলায় ভাষণ দেবেন। তার ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের দ্বিতীয় দিনের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে সক্ষমতা বাড়াতে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই বৈঠকে দেশে নিজস্ব ভ্যাকসিন উৎপাদন, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং স্মার্ট ফার্মার কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ‘জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানান।

পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান এবং ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জলবায়ু কূটনীতিতেও বাংলাদেশ জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছে।

‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক সভায় নদী ও পরিবেশ রক্ষায় বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী খনন ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে জলবায়ু তহবিলের ন্যায্য হিস্যা দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাণিজ্যিক কূটনীতির অন্যতম সাফল্য হিসেবে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউইয়র্কের এই সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আজ তারেক রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি

বাবা-মায়ের পর বিশ্বমঞ্চে ছেলে: ইতিহাস গড়ে আজ জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

প্রকাশ : ০৪:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় (নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা) সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে একই বিশ্বমঞ্চে চার দশকের ব্যবধানে জিয়া পরিবারের তিন সদস্যের উপস্থিতির এক বিরল ঐতিহাসিক অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে।

৪৬ বছর আগে, ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট এই একই মঞ্চে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তৎকালীন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার বক্তব্যে বিশ্বমঞ্চে উঠে এসেছিল ধনী-দরিদ্র বৈষম্য, ক্ষুধা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা। এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন তার সহধর্মিণী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মোট পাঁচবার এই মঞ্চে বক্তব্য রাখেন, যেখানে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও ছোট রাষ্ট্রগুলোর অধিকারের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় এবার বাবা-মায়ের পথ ধরে বিশ্বমঞ্চে উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক উপস্থিতির নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বুধবার নিউইয়র্কে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আবেগ ও অনুভূতি ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে বাংলায় ভাষণ দেবেন। তার ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের দ্বিতীয় দিনের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে সক্ষমতা বাড়াতে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই বৈঠকে দেশে নিজস্ব ভ্যাকসিন উৎপাদন, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং স্মার্ট ফার্মার কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ‘জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানান।

পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান এবং ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জলবায়ু কূটনীতিতেও বাংলাদেশ জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছে।

‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক সভায় নদী ও পরিবেশ রক্ষায় বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী খনন ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে জলবায়ু তহবিলের ন্যায্য হিস্যা দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাণিজ্যিক কূটনীতির অন্যতম সাফল্য হিসেবে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউইয়র্কের এই সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আজ তারেক রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।