ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়েটে ভিসি পুনর্বহালের দাবিতে সর্বাত্মক শাটডাউন, চলছে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ

অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ রেখে সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর অংশ হিসেবে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সদ্য বিদায়ী উপাচার্যকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাকে পুনরায় স্বপদে বহালের দাবিতে এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চুয়েটে সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

তবে জরুরি ও মানবিক সেবার স্বার্থে নিরাপত্তা শাখা ও মেডিকেল সেবা এই শাটডাউন কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এদিকে, শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও।

শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক ক্ষোভের সূত্রপাত গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর)। ওই দিন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

এর আগে গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবর সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। হল থেকে বেরিয়ে ছাত্রীরাও সেই মিছিলে যোগ দেন। পরে রাত ১২টার দিকে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা দিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু হয়।

এর মধ্যে মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে অধ্যাপক সায়েম ক্যাম্পাসে এলে শিক্ষার্থীরা কিছু সময়ের জন্য মূল ফটকের তালা খুলে দেন। তবে রাতেও ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং শিক্ষার্থীরা সেখানে পালাক্রমে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের টানা এই আন্দোলনের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে চুয়েট ক্যাম্পাস।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

চুয়েটে ভিসি পুনর্বহালের দাবিতে সর্বাত্মক শাটডাউন, চলছে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ

প্রকাশ : ০৪:১৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ রেখে সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর অংশ হিসেবে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সদ্য বিদায়ী উপাচার্যকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাকে পুনরায় স্বপদে বহালের দাবিতে এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চুয়েটে সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

তবে জরুরি ও মানবিক সেবার স্বার্থে নিরাপত্তা শাখা ও মেডিকেল সেবা এই শাটডাউন কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এদিকে, শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও।

শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক ক্ষোভের সূত্রপাত গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর)। ওই দিন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

এর আগে গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবর সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। হল থেকে বেরিয়ে ছাত্রীরাও সেই মিছিলে যোগ দেন। পরে রাত ১২টার দিকে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা দিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু হয়।

এর মধ্যে মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে অধ্যাপক সায়েম ক্যাম্পাসে এলে শিক্ষার্থীরা কিছু সময়ের জন্য মূল ফটকের তালা খুলে দেন। তবে রাতেও ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং শিক্ষার্থীরা সেখানে পালাক্রমে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের টানা এই আন্দোলনের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে চুয়েট ক্যাম্পাস।