ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একলাফে তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি: ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ

কোনো ধরনের পূর্বালোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার রাতে এই ঘোষণার পরপরই পুরোনো দামে তেল নিতে রংপুর ও যশোরের পেট্রলপাম্পগুলোতে শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহনের ঢল নামে।

মধ্যরাত ১২টায় নতুন দাম কার্যকর হওয়ার আগপর্যন্ত পাম্পগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড় ও দীর্ঘ সারি। তবে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন দাম কার্যকর হলে পাম্পগুলো মুহূর্তের মধ্যেই জনশূন্য হয়ে পড়ে। একলাফে এত বিশাল অঙ্কের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ ও নির্দিষ্ট আয়ের চাকরিজীবীরা রীতিমতো দিশেহারা।

রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে রংপুর নগরের মেসার্স সুরমা ফিলিং স্টেশন এবং মেসার্স আকবর অ্যান্ড সন্স পেট্রলপাম্পে গিয়ে দেখা যায় এক অভাবনীয় দৃশ্য। পুরোনো দামে তেল নিতে আসা শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ সারিতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। হঠাৎ করে আসা এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহক সামলাতে পাম্পের কর্মীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। ঘড়ির কাঁটা ১২টার দিকে এগোতে থাকলে তেল না পাওয়ার শঙ্কায় অপেক্ষমাণ মানুষের উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে।

এ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকেরা সরকারের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। মোটরসাইকেল আরোহী আবু হানিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কোনো কথা নাই, আলোচনা নাই, হঠাৎ লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় দিছে সরকার। এটা কেমন সরকার?’

সিরাতুন নবী নামের আরেকজন বলেন, ‘দুই-চার টাকা বাড়াইলেও হইতো। তাই বলে একলাফে ২০ টাকা!’ আরেক আরোহী ইমতিয়াজ হোসেনের কণ্ঠে ছিল হতাশা, ‘এত বেশি দাম বাড়ালো, অথচ কারও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখছি না। মানুষের সবকিছু সয়ে গেল নাকি!’

রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে পাম্পের মিটারে প্রতি লিটারের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হলে আগে থেকে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি।

নুরুল ইসলাম নামের এক গ্রাহক ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘এক ঘণ্টা ধরে আগের দামে তেল পেতে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। পাম্পের আগের কেনা তেল তো শেষ হয়নি, তাহলে সেই তেল কেন নতুন দামে বিক্রি করবে?’

নজমুল ইসলাম নামের আরেক মোটরসাইকেল চালক একই প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সরকার বলল ১২টা থেকে বেশি দাম কার্যকর। প্রশ্ন হচ্ছে, পাম্পে থাকা আগের তেল শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেশি দামে বেচবে কেন? সরকার কি পাম্পমালিকদের আগের তেল বেশি দামে বিক্রির সুযোগ করে দিল? সাধারণ জনগণের দিকে সরকারের কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই।’

রংপুরের মতো একই চিত্র দেখা যায় যশোরেও। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘোষণার পরপরই শহরের এম কে রোডের মেসার্স তোফাজ্জল হোসাইন পেট্রলপাম্পসহ অন্যান্য পাম্পে চালকদের ভিড় জমে যায়। সড়কে যানজট সামলাতে নিয়োজিত কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা জাহিদুল ইসলাম শেখ নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী তার অসহায়ত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি হলেও আমাদের আয় বাড়েনি। এমন অবস্থায় একলাফে লিটারে ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো। বর্তমান বাজারে আমাদের মতো বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সংসার চালানো এমনিতেই কঠিন, তার ওপর এই বাড়তি খরচ সামলানো অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।’

পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাম বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষের এই অস্বাভাবিক ভিড় শুরু হয়। তবে রাত ১২টায় নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর পাম্পগুলোর চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়। বাড়তি দামের বোঝা মাথায় নিয়ে হতাশ মানুষেরা ফিরে গেলে একপর্যায়ে পাম্পগুলো অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়।

সূত্র: প্রথম আলো

জনপ্রিয় সংবাদ

বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

একলাফে তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি: ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ

প্রকাশ : ০৪:২৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কোনো ধরনের পূর্বালোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার রাতে এই ঘোষণার পরপরই পুরোনো দামে তেল নিতে রংপুর ও যশোরের পেট্রলপাম্পগুলোতে শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহনের ঢল নামে।

মধ্যরাত ১২টায় নতুন দাম কার্যকর হওয়ার আগপর্যন্ত পাম্পগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড় ও দীর্ঘ সারি। তবে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন দাম কার্যকর হলে পাম্পগুলো মুহূর্তের মধ্যেই জনশূন্য হয়ে পড়ে। একলাফে এত বিশাল অঙ্কের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ ও নির্দিষ্ট আয়ের চাকরিজীবীরা রীতিমতো দিশেহারা।

রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে রংপুর নগরের মেসার্স সুরমা ফিলিং স্টেশন এবং মেসার্স আকবর অ্যান্ড সন্স পেট্রলপাম্পে গিয়ে দেখা যায় এক অভাবনীয় দৃশ্য। পুরোনো দামে তেল নিতে আসা শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ সারিতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। হঠাৎ করে আসা এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহক সামলাতে পাম্পের কর্মীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। ঘড়ির কাঁটা ১২টার দিকে এগোতে থাকলে তেল না পাওয়ার শঙ্কায় অপেক্ষমাণ মানুষের উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে।

এ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকেরা সরকারের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। মোটরসাইকেল আরোহী আবু হানিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কোনো কথা নাই, আলোচনা নাই, হঠাৎ লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় দিছে সরকার। এটা কেমন সরকার?’

সিরাতুন নবী নামের আরেকজন বলেন, ‘দুই-চার টাকা বাড়াইলেও হইতো। তাই বলে একলাফে ২০ টাকা!’ আরেক আরোহী ইমতিয়াজ হোসেনের কণ্ঠে ছিল হতাশা, ‘এত বেশি দাম বাড়ালো, অথচ কারও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখছি না। মানুষের সবকিছু সয়ে গেল নাকি!’

রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে পাম্পের মিটারে প্রতি লিটারের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হলে আগে থেকে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি।

নুরুল ইসলাম নামের এক গ্রাহক ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘এক ঘণ্টা ধরে আগের দামে তেল পেতে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। পাম্পের আগের কেনা তেল তো শেষ হয়নি, তাহলে সেই তেল কেন নতুন দামে বিক্রি করবে?’

নজমুল ইসলাম নামের আরেক মোটরসাইকেল চালক একই প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সরকার বলল ১২টা থেকে বেশি দাম কার্যকর। প্রশ্ন হচ্ছে, পাম্পে থাকা আগের তেল শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেশি দামে বেচবে কেন? সরকার কি পাম্পমালিকদের আগের তেল বেশি দামে বিক্রির সুযোগ করে দিল? সাধারণ জনগণের দিকে সরকারের কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই।’

রংপুরের মতো একই চিত্র দেখা যায় যশোরেও। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘোষণার পরপরই শহরের এম কে রোডের মেসার্স তোফাজ্জল হোসাইন পেট্রলপাম্পসহ অন্যান্য পাম্পে চালকদের ভিড় জমে যায়। সড়কে যানজট সামলাতে নিয়োজিত কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা জাহিদুল ইসলাম শেখ নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী তার অসহায়ত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি হলেও আমাদের আয় বাড়েনি। এমন অবস্থায় একলাফে লিটারে ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো। বর্তমান বাজারে আমাদের মতো বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সংসার চালানো এমনিতেই কঠিন, তার ওপর এই বাড়তি খরচ সামলানো অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।’

পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাম বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষের এই অস্বাভাবিক ভিড় শুরু হয়। তবে রাত ১২টায় নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর পাম্পগুলোর চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়। বাড়তি দামের বোঝা মাথায় নিয়ে হতাশ মানুষেরা ফিরে গেলে একপর্যায়ে পাম্পগুলো অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়।

সূত্র: প্রথম আলো