ঢাকা ০৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্র দেশজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে, যেগুলোর মধ্যে আছে অনেকগুলো সঙ্গীতানুষ্ঠান, ফ্লাইপাস্ট ও আতশবাজি প্রদশর্নী। এ উপলক্ষ্যে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে এক সমাবেশ অনুষ্ঠানে শনিবার (৩ জুলাই) ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্স লিখেছে, ৪ জুলাইয়ের এ আয়োজন স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিতে হলেও ট্রাম্প ভাষণ দিয়েছেন অনেকটা প্রচারণার ধরনে।

ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটে মঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পর ভাষণ শুরু করে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না।” তুমুল ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার আগে ন্যাশনাল মল এলাকাটি প্রায় দুই ঘণ্টার জন্য খালি করতে হয়েছিল। এতে ট্রাম্পের বক্তৃতা শুরু হতে দেরি হয়। পরে মঞ্চে উঠে তিনি ওই মন্তব্য করেন আর জানান, প্রয়োজন হলে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে পারবেন তিনি।

শুরু হওয়ার আগে ন্যাশনাল মল এলাকাটি লোকজনে পরিপূর্ণ ছিল। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তারা মলের চারপাশ ঘিরে থাকা জাদুঘর ও সরকারি ভবনগুলোতে আশ্রয় নেন। আবহাওয়া শান্ত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তাদের আবার ওই খোলা মাঠে ফিরে আসার অনুমতি দেয়। ভাষণের শুরুতে ট্রাম্প আবহাওয়ার রুদ্ররূপের কথা উল্লেখ করে অপেক্ষমান উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনরা যদি ভেবে থাকেন সেটি সহজ ছিল, তাহলে ভুল ভেবেছেন, তা সহজ ছিল না।”

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরও অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য ও ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য ট্রাম্প উপস্থিত লোকজনকে ধন্যবাদ জানান। বিবিসি লিখেছে, শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাষণ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তার মধ্যেই তিনি দাবি করেন, দেশটি ‘আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে’। সমাবেশগুলোতে প্রায়ই তিনি এমনটি বলে থাকেন। এরপর আবার তিনি মূল বক্তব্যে ফিরে গিয়ে অনেকটা ইতিহাস কেন্দ্রীক কথা বলতে শুরু করেন।

কিন্তু বক্তৃতার সাত মিনিটের মাথায় তিনি ‘কমিউনিস্ট’ শব্দটি নিয়ে এসে তাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করেন। ট্রাম্প ‘কমিউনিস্ট’ বলতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধীদল ডেমোক্র্যাট ও অন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বুঝিয়ে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি তিনি মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর কথা উল্লেখ করে মার্কিন নাগরিকদের অস্ত্র রাখার অধিকার রক্ষা করে যাবেন বলে প্রত্যয় জানান। উপস্থিত জনতা তার এ বক্তব্য করতালি দিয়ে স্বাগত জানায়।

তার এ বক্তৃতায় আমেরিকান উদ্যোগের প্রশংসা, ‘কমিউনিস্টদের’ নিন্দা ও ক্ষমতায় থাকাকালে নিজের কৃতিত্বের কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে আসা উৎফুল্ল জনতাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমেরিকানদের স্বপ্ন আবার ফিরে এসেছে।” স্বাভাবিকের তুলনায় তার এ ভাষণ অনেকবেশি ইতিহাস ঘেঁষা হলেও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জনসভাগুলোতে তিনি যেসব কথা বলে থাকেন সেগুলোও বলেছেন।

তিনি ‘সেইভ আমেরিকা’ আইন পাস করার প্রত্যয় জানান। এই আইন পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের ভোট দিতে নাগরিকত্বের প্রমাণ ও আইডি কার্ড দেখাতে হবে। এই আইনে অসুস্থ না হলে বা সামরিক মোতায়েনের মতো অন্যান্য ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যাতীত ডাকযোগে ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ করা হবে।

চলতি সপ্তাহে এক রায়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ডাকযোগে ভোট দেওয়ার অধিকারকে সুরক্ষা দিয়েছেন। এক রক্ষণশীল মনোভাবাপন্ন সুপ্রিম কোর্টের কাছে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি উল্লেখযোগ্য পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রায়ের পর হোয়াইট হাউজ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

ট্রাম্পের তার ভাষণে বারবার ‘কমিউনিস্ট প্রেতাত্মার’ কথা উল্লেখ করেন আর এটিকে এমন এক ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করেন যা ছেঁটে ফেলতে হবে।

বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্পের সমালোচকরা সম্ভবত দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের শীতল যুদ্ধের শত্রুদের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক বিরোধীদের গুলিয়ে ফেলার জন্য তাকে অভিযুক্ত করবেন। ৪০ মিনিট ধরে দেওয়া ভাষণের শেষে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা একটি নতুন ‘সুবর্ণ যুগের’ দ্বাপপ্রান্তে আছে আর এই ‘ভবিষ্যৎ স্বয়ং ঈশ্বর কর্তৃক নির্ধারিত’।

‘ঈশ্বর আমেরিকার মঙ্গল করুন’ বলে ভাষণ শেষ করেন তিনি। এরপর ন্যাশনাল মলের এক প্রান্তে অবস্থিত কংগ্রেস ভবন মার্কিন ক্যাপিটল থেকে আতশবাজির প্রদর্শনী শুরু হয়। হাল্কা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে ৪০ মিনিট ধরে চলা এই আতশবাজির প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী আলোকিত হয়ে ওঠে। ইতিহাসের বৃহত্তম আতশবাজির প্রদর্শনী হিসেবে গিনেস বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্য রয়েছে এ আয়োজনের। এ সময় বিক্ষিপ্তভাবে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল আর তা আতশবাজি প্রদর্শনীর সঙ্গে ‘পাল্লা দিচ্ছিল’।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন

প্রকাশ : ০৫:২৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র দেশজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে, যেগুলোর মধ্যে আছে অনেকগুলো সঙ্গীতানুষ্ঠান, ফ্লাইপাস্ট ও আতশবাজি প্রদশর্নী। এ উপলক্ষ্যে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে এক সমাবেশ অনুষ্ঠানে শনিবার (৩ জুলাই) ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্স লিখেছে, ৪ জুলাইয়ের এ আয়োজন স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিতে হলেও ট্রাম্প ভাষণ দিয়েছেন অনেকটা প্রচারণার ধরনে।

ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটে মঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পর ভাষণ শুরু করে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না।” তুমুল ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার আগে ন্যাশনাল মল এলাকাটি প্রায় দুই ঘণ্টার জন্য খালি করতে হয়েছিল। এতে ট্রাম্পের বক্তৃতা শুরু হতে দেরি হয়। পরে মঞ্চে উঠে তিনি ওই মন্তব্য করেন আর জানান, প্রয়োজন হলে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে পারবেন তিনি।

শুরু হওয়ার আগে ন্যাশনাল মল এলাকাটি লোকজনে পরিপূর্ণ ছিল। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তারা মলের চারপাশ ঘিরে থাকা জাদুঘর ও সরকারি ভবনগুলোতে আশ্রয় নেন। আবহাওয়া শান্ত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তাদের আবার ওই খোলা মাঠে ফিরে আসার অনুমতি দেয়। ভাষণের শুরুতে ট্রাম্প আবহাওয়ার রুদ্ররূপের কথা উল্লেখ করে অপেক্ষমান উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনরা যদি ভেবে থাকেন সেটি সহজ ছিল, তাহলে ভুল ভেবেছেন, তা সহজ ছিল না।”

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরও অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য ও ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য ট্রাম্প উপস্থিত লোকজনকে ধন্যবাদ জানান। বিবিসি লিখেছে, শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাষণ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তার মধ্যেই তিনি দাবি করেন, দেশটি ‘আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে’। সমাবেশগুলোতে প্রায়ই তিনি এমনটি বলে থাকেন। এরপর আবার তিনি মূল বক্তব্যে ফিরে গিয়ে অনেকটা ইতিহাস কেন্দ্রীক কথা বলতে শুরু করেন।

কিন্তু বক্তৃতার সাত মিনিটের মাথায় তিনি ‘কমিউনিস্ট’ শব্দটি নিয়ে এসে তাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করেন। ট্রাম্প ‘কমিউনিস্ট’ বলতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধীদল ডেমোক্র্যাট ও অন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বুঝিয়ে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি তিনি মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর কথা উল্লেখ করে মার্কিন নাগরিকদের অস্ত্র রাখার অধিকার রক্ষা করে যাবেন বলে প্রত্যয় জানান। উপস্থিত জনতা তার এ বক্তব্য করতালি দিয়ে স্বাগত জানায়।

তার এ বক্তৃতায় আমেরিকান উদ্যোগের প্রশংসা, ‘কমিউনিস্টদের’ নিন্দা ও ক্ষমতায় থাকাকালে নিজের কৃতিত্বের কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে আসা উৎফুল্ল জনতাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমেরিকানদের স্বপ্ন আবার ফিরে এসেছে।” স্বাভাবিকের তুলনায় তার এ ভাষণ অনেকবেশি ইতিহাস ঘেঁষা হলেও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জনসভাগুলোতে তিনি যেসব কথা বলে থাকেন সেগুলোও বলেছেন।

তিনি ‘সেইভ আমেরিকা’ আইন পাস করার প্রত্যয় জানান। এই আইন পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের ভোট দিতে নাগরিকত্বের প্রমাণ ও আইডি কার্ড দেখাতে হবে। এই আইনে অসুস্থ না হলে বা সামরিক মোতায়েনের মতো অন্যান্য ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যাতীত ডাকযোগে ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ করা হবে।

চলতি সপ্তাহে এক রায়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ডাকযোগে ভোট দেওয়ার অধিকারকে সুরক্ষা দিয়েছেন। এক রক্ষণশীল মনোভাবাপন্ন সুপ্রিম কোর্টের কাছে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি উল্লেখযোগ্য পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রায়ের পর হোয়াইট হাউজ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

ট্রাম্পের তার ভাষণে বারবার ‘কমিউনিস্ট প্রেতাত্মার’ কথা উল্লেখ করেন আর এটিকে এমন এক ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করেন যা ছেঁটে ফেলতে হবে।

বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্পের সমালোচকরা সম্ভবত দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের শীতল যুদ্ধের শত্রুদের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক বিরোধীদের গুলিয়ে ফেলার জন্য তাকে অভিযুক্ত করবেন। ৪০ মিনিট ধরে দেওয়া ভাষণের শেষে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা একটি নতুন ‘সুবর্ণ যুগের’ দ্বাপপ্রান্তে আছে আর এই ‘ভবিষ্যৎ স্বয়ং ঈশ্বর কর্তৃক নির্ধারিত’।

‘ঈশ্বর আমেরিকার মঙ্গল করুন’ বলে ভাষণ শেষ করেন তিনি। এরপর ন্যাশনাল মলের এক প্রান্তে অবস্থিত কংগ্রেস ভবন মার্কিন ক্যাপিটল থেকে আতশবাজির প্রদর্শনী শুরু হয়। হাল্কা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে ৪০ মিনিট ধরে চলা এই আতশবাজির প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী আলোকিত হয়ে ওঠে। ইতিহাসের বৃহত্তম আতশবাজির প্রদর্শনী হিসেবে গিনেস বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্য রয়েছে এ আয়োজনের। এ সময় বিক্ষিপ্তভাবে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল আর তা আতশবাজি প্রদর্শনীর সঙ্গে ‘পাল্লা দিচ্ছিল’।