মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মঠের ঘাট এলাকায় ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ উন্নয়ন অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে মঠের ঘাট ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ, ড্রেন ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার, পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা চর্চা, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মারজানুর রহমান এবং পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ আল-সোহান। এছাড়াও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্য, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু একটি দিনের কর্মসূচি নয়; এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব এবং নাগরিক সচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব স্তরে পরিচ্ছন্নতা চর্চার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। তাই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। স্থানীয় জনগণকে পরিবেশ রক্ষায় আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তুলতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।
বক্তারা আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ কেবল একটি এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না; এটি জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে, বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন বাড়াতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
কর্মসূচি শেষে উপস্থিত সবাই একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব রূপগঞ্জ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি 








