ঢাকা ০১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন, প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার অঙ্গীকার

শিশুদের সুস্থ, নিরাপদ ও রোগমুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই এবং সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি শিশুকে শতভাগ টিকার আওতায় নিয়ে আসা।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে জিন্দা পার্ক-এ আয়োজিত লিটল অ্যাঞ্জেলস সেমিনারে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “একটি সুস্থ জাতি গঠনের ভিত্তি তৈরি হয় শিশুদের মাধ্যমে। তাই শিশুদের সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকাই সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায়।” তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে টিকাদান কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত ও কার্যকর করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে মায়েদের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে টিকা সম্পর্কে ভুল ধারণা বা অবহেলার কারণে শিশুরা ঝুঁকিতে পড়ে। তাই পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) যৌথভাবে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে UNICEF, World Health Organization, Gaviসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা। তাদের সহায়তায় টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যাতে কোনো শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।” তিনি মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন এবং তাদের আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, রূপগঞ্জ একটি দ্রুত বর্ধনশীল ও ঘনবসতিপূর্ণ শিল্প এলাকা। এখানে লাখো মানুষের বসবাস হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছে। তিনি বলেন, “বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়।”

তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ১০০ থেকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করার জোর দাবি জানান। পাশাপাশি চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, আগামী জাতীয় বাজেটে রূপগঞ্জে ১০০ শয্যার একটি আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এতে স্থানীয় জনগণ সহজে ও দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. রাজেশ নরওয়েল, মোঃ রায়হান কবির, সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠান শেষে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয় এবং উপস্থিত অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও শক্তিশালী ও সুস্থ হিসেবে গড়ে তুলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফর শুরু, পথে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা

রূপগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন, প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার অঙ্গীকার

প্রকাশ : ০৬:২৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

শিশুদের সুস্থ, নিরাপদ ও রোগমুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই এবং সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি শিশুকে শতভাগ টিকার আওতায় নিয়ে আসা।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে জিন্দা পার্ক-এ আয়োজিত লিটল অ্যাঞ্জেলস সেমিনারে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “একটি সুস্থ জাতি গঠনের ভিত্তি তৈরি হয় শিশুদের মাধ্যমে। তাই শিশুদের সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকাই সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায়।” তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে টিকাদান কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত ও কার্যকর করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে মায়েদের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে টিকা সম্পর্কে ভুল ধারণা বা অবহেলার কারণে শিশুরা ঝুঁকিতে পড়ে। তাই পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) যৌথভাবে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে UNICEF, World Health Organization, Gaviসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা। তাদের সহায়তায় টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যাতে কোনো শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।” তিনি মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন এবং তাদের আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, রূপগঞ্জ একটি দ্রুত বর্ধনশীল ও ঘনবসতিপূর্ণ শিল্প এলাকা। এখানে লাখো মানুষের বসবাস হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছে। তিনি বলেন, “বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়।”

তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ১০০ থেকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করার জোর দাবি জানান। পাশাপাশি চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, আগামী জাতীয় বাজেটে রূপগঞ্জে ১০০ শয্যার একটি আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এতে স্থানীয় জনগণ সহজে ও দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. রাজেশ নরওয়েল, মোঃ রায়হান কবির, সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠান শেষে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয় এবং উপস্থিত অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও শক্তিশালী ও সুস্থ হিসেবে গড়ে তুলবে।