ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটপাত হকারমুক্ত করাটাই কি সাফল্য?

  • রাশেদুল হক
  • প্রকাশ : ০৭:৫৪:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৭৬৯ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক সমন্বিত অভিযানে ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে গত ১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সাময়িক সুফল লাভ করলেও, আখেরে তা বুমেরাং হবার ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে।

হকার্স ফেডারেশনের তথ্যমতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেই প্রায় দুই লাখ হকার রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে দুই সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে ফুটপাতের দোকানের সঠিক হিসাব ও হালনাগাদ তথ্য নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ এসব দোকান নিয়মিত বাড়ে ও কমে। ক্ষুদ্র পূঁজির কিংবা স্বল্প আয়ের দিন এনে দিন খাওয়া হকারসহ বিভিন্ন টং দোকানমালিক জীবন জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর যাবৎ।

অভিযোগ রয়েছে প্রশাসন, সরকার দলীয় মাস্তান, চাঁদাবাজ, স্থানীয় পাতি নেতাদের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় তারা এতবছর এগুলো করেছে নির্বিঘ্নে। এখন এ উচ্ছেদ অভিযান তাদেরকে ফেলে দিয়েছে চরম বেকায়দায়। একজন হকার বা দোকানীর পরিবারে গড়ে ৪ জন করে সদস্য হিসেব করলেও, প্রায় দশ পনেরো লাখ জনগন এখন চরম অনিশ্চয়তায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বাসাভাড়া, মুদি দোকানের বিল, গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয়, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদী ক্রয় ছাড়াও, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যয় বাদ দিলে, পেটের ভাত জুটাতেও এখন তাদের নাভিঃশ্বাস উঠেছে! মৌলিক অধিকার শব্দগুলো এখন যেনো তাদের চাহিদার সাথে বড়ই বেমানান। উচ্ছেদ অভিযানের আগে যদি পুর্ণাঙ্গ একটি তালিকা করে তাদেরকে পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে এহেন হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হতো না বলেই বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন।

হলিডে মার্কেট কিংবা নাইট মার্কেটের ব্যবস্থা করা হলে, ঠিক কোন কোন স্থানে কতজনকে এ সুযোগ প্রদান করা হবে, তা নিয়েও যথেষ্ট ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। তাই সরকারের উচিৎ হবে একটি কার্যকর মনিটরিং সেল খুলে, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধে উঠে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত হকার, দোকানীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অতিদ্রুত তাদেরকে রেশনিং এর আওতায় নিয়ে আসা।

ভুখা পেট কোনও আইন বুঝেনা, এ কথার তাৎপর্য যত দ্রুত অনুধাবন করা যায়, ততই মঙ্গল। নতুবা কবি রফিক আজদের ‘ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো’র ক্ষুধার্তদের দল দিনে দিনে ভারী হতে হতে কতটা দীর্ঘ হবে তা সময়ই বলে দেবে! এক যাত্রায় যেনো দুই ফল না হয়, সেজন্য এখনই সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করার কোনও বিকল্প নেই।

সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করার সরকারের এ সাহসী ও প্রশংসিত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে কোনও কার্পণ্য না থাকলেও, জনমনে প্রশ্ন থেকেই যায়, শুধু সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করাটাই কি সাফল্য নিকট অতীতে উচ্ছেদের পর কেন পুনরায় সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে যাবার ঘটনা ঘটেছে বারংবার, তার পেছনের কারণগুলোকেও সমানভাবে খতিয়ে দেখার জোর দাবী সকলের! এ যে বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকের রুটি-রুজিরও প্রশ্ন-।

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদ ও ঈদগাহ উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন এমপি দিপু

ফুটপাত হকারমুক্ত করাটাই কি সাফল্য?

প্রকাশ : ০৭:৫৪:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

সম্প্রতি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক সমন্বিত অভিযানে ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে গত ১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সাময়িক সুফল লাভ করলেও, আখেরে তা বুমেরাং হবার ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে।

হকার্স ফেডারেশনের তথ্যমতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেই প্রায় দুই লাখ হকার রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে দুই সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে ফুটপাতের দোকানের সঠিক হিসাব ও হালনাগাদ তথ্য নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ এসব দোকান নিয়মিত বাড়ে ও কমে। ক্ষুদ্র পূঁজির কিংবা স্বল্প আয়ের দিন এনে দিন খাওয়া হকারসহ বিভিন্ন টং দোকানমালিক জীবন জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর যাবৎ।

অভিযোগ রয়েছে প্রশাসন, সরকার দলীয় মাস্তান, চাঁদাবাজ, স্থানীয় পাতি নেতাদের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় তারা এতবছর এগুলো করেছে নির্বিঘ্নে। এখন এ উচ্ছেদ অভিযান তাদেরকে ফেলে দিয়েছে চরম বেকায়দায়। একজন হকার বা দোকানীর পরিবারে গড়ে ৪ জন করে সদস্য হিসেব করলেও, প্রায় দশ পনেরো লাখ জনগন এখন চরম অনিশ্চয়তায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বাসাভাড়া, মুদি দোকানের বিল, গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয়, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদী ক্রয় ছাড়াও, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যয় বাদ দিলে, পেটের ভাত জুটাতেও এখন তাদের নাভিঃশ্বাস উঠেছে! মৌলিক অধিকার শব্দগুলো এখন যেনো তাদের চাহিদার সাথে বড়ই বেমানান। উচ্ছেদ অভিযানের আগে যদি পুর্ণাঙ্গ একটি তালিকা করে তাদেরকে পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে এহেন হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হতো না বলেই বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন।

হলিডে মার্কেট কিংবা নাইট মার্কেটের ব্যবস্থা করা হলে, ঠিক কোন কোন স্থানে কতজনকে এ সুযোগ প্রদান করা হবে, তা নিয়েও যথেষ্ট ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। তাই সরকারের উচিৎ হবে একটি কার্যকর মনিটরিং সেল খুলে, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধে উঠে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত হকার, দোকানীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অতিদ্রুত তাদেরকে রেশনিং এর আওতায় নিয়ে আসা।

ভুখা পেট কোনও আইন বুঝেনা, এ কথার তাৎপর্য যত দ্রুত অনুধাবন করা যায়, ততই মঙ্গল। নতুবা কবি রফিক আজদের ‘ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো’র ক্ষুধার্তদের দল দিনে দিনে ভারী হতে হতে কতটা দীর্ঘ হবে তা সময়ই বলে দেবে! এক যাত্রায় যেনো দুই ফল না হয়, সেজন্য এখনই সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করার কোনও বিকল্প নেই।

সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করার সরকারের এ সাহসী ও প্রশংসিত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে কোনও কার্পণ্য না থাকলেও, জনমনে প্রশ্ন থেকেই যায়, শুধু সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করাটাই কি সাফল্য নিকট অতীতে উচ্ছেদের পর কেন পুনরায় সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে যাবার ঘটনা ঘটেছে বারংবার, তার পেছনের কারণগুলোকেও সমানভাবে খতিয়ে দেখার জোর দাবী সকলের! এ যে বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকের রুটি-রুজিরও প্রশ্ন-।