ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেঁচে ফেরাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা: চাকরির প্রলোভনে ইউক্রেন যুদ্ধে ৩০ বাংলাদেশি: ২০ জনের মৃত্যু

ইউক্রেনে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছেন চাকরির প্রলোভনে রাশিয়া যাওয়া বাংলাদেশিরা। সম্প্রতি ইউক্রেনের সম্মুখসারির যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বেঁচে ফেরা ঝিনাইদহের তরুণ রাজন হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন তাঁর লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা।

গত মে মাসে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাকরির কথা বলে ট্রাভেল এজেন্সি জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল তাকে রাশিয়া পাঠায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর পাসপোর্ট ও ফোন কেড়ে নিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়।
মাত্র তিন সপ্তাহের অস্ত্র প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকেসহ আরও ২৯ বাংলাদেশিকে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয়। রাজন জানান, যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইউক্রেনীয় ড্রোনের হামলায় ১৭ জন বাংলাদেশি নিহত হন। পরে ড্রোন হামলায় রাজনের কোমর ও পা অবশ হয়ে যায় এবং চার দিনে চার কিলোমিটার পথ বুকে ও হাতে ভর দিয়ে পাড়ি দিয়ে তিনি রুশ সেনা ক্যাম্পে ফিরে আসেন।

সেখানে পৌঁছানোর পরও তাঁকে চিকিৎসা না দিয়ে অস্ত্রের জন্য মারধর করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, ইউক্রেনীয় সৈন্যদের অবস্থান শনাক্ত করতে রুশ বাহিনী তাদের ‘টোপ’ বা ‘শিকার’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০)-এর তদন্তেও এই ভয়াবহ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এসআরবি-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল, আরএস ইন্টারন্যাশনাল এবং টিএস গ্রুপ নামের তিনটি এজেন্সি চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে।

জনপ্রতি গড়ে সাড়ে আট লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমানসহ দুজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, এই চক্রের সঙ্গে ইগর নামে এক রুশ নাগরিক এবং জুলিয়া নামে কিরগিজস্তানের এক নারী জড়িত।

এসআরবির তথ্যমতে, যুদ্ধে পাঠানো ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনই নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। উন্নত জীবনের আশায় অনেকেই জমি বা গবাদিপশু বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

নিহতদের পরিবার এখন অন্তত স্বজনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছে। তবে আটকে পড়াদের উদ্ধার এবং নিহতদের মরদেহ ফেরানোর বিষয়ে পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি। সূত্র: বিবিসি

 

কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা

বেঁচে ফেরাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা: চাকরির প্রলোভনে ইউক্রেন যুদ্ধে ৩০ বাংলাদেশি: ২০ জনের মৃত্যু

প্রকাশ : ০৪:৪৯:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ইউক্রেনে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছেন চাকরির প্রলোভনে রাশিয়া যাওয়া বাংলাদেশিরা। সম্প্রতি ইউক্রেনের সম্মুখসারির যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বেঁচে ফেরা ঝিনাইদহের তরুণ রাজন হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন তাঁর লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা।

গত মে মাসে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাকরির কথা বলে ট্রাভেল এজেন্সি জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল তাকে রাশিয়া পাঠায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর পাসপোর্ট ও ফোন কেড়ে নিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়।
মাত্র তিন সপ্তাহের অস্ত্র প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকেসহ আরও ২৯ বাংলাদেশিকে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয়। রাজন জানান, যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইউক্রেনীয় ড্রোনের হামলায় ১৭ জন বাংলাদেশি নিহত হন। পরে ড্রোন হামলায় রাজনের কোমর ও পা অবশ হয়ে যায় এবং চার দিনে চার কিলোমিটার পথ বুকে ও হাতে ভর দিয়ে পাড়ি দিয়ে তিনি রুশ সেনা ক্যাম্পে ফিরে আসেন।

সেখানে পৌঁছানোর পরও তাঁকে চিকিৎসা না দিয়ে অস্ত্রের জন্য মারধর করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, ইউক্রেনীয় সৈন্যদের অবস্থান শনাক্ত করতে রুশ বাহিনী তাদের ‘টোপ’ বা ‘শিকার’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০)-এর তদন্তেও এই ভয়াবহ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এসআরবি-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল, আরএস ইন্টারন্যাশনাল এবং টিএস গ্রুপ নামের তিনটি এজেন্সি চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে।

জনপ্রতি গড়ে সাড়ে আট লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমানসহ দুজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, এই চক্রের সঙ্গে ইগর নামে এক রুশ নাগরিক এবং জুলিয়া নামে কিরগিজস্তানের এক নারী জড়িত।

এসআরবির তথ্যমতে, যুদ্ধে পাঠানো ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনই নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। উন্নত জীবনের আশায় অনেকেই জমি বা গবাদিপশু বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

নিহতদের পরিবার এখন অন্তত স্বজনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছে। তবে আটকে পড়াদের উদ্ধার এবং নিহতদের মরদেহ ফেরানোর বিষয়ে পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি। সূত্র: বিবিসি