ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতের অমিল মানেই বিদ্বেষ বা সংঘর্ষ নয়: এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন

  • হাফিজুর রহমান
  • প্রকাশ : ০৭:১৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৭২৬ বার পড়া হয়েছে

মতের অমিল মানেই বিদ্বেষ, সংঘর্ষ বা সহিংসতা নয় বলে মন্তব্য করেছেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক লাইভে এসে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সেই ভিন্নমতকে সম্মান করার মধ্য দিয়েই একটি সভ্য ও আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। নতুন বাংলাদেশে আমরা সবাই মিলে সেই দায়িত্বশীল ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিশ্চিত করবো।

সম্প্রতি খিলক্ষেত এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল কখনোই শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। ঘটনার পরপরই দলীয়ভাবে তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ আইনবহির্ভূত বা সহিংস আচরণ করলে তার দায় দল নেবে না। শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখাই আমাদের রাজনীতির মূল ভিত্তি।

এ সময় এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ কিংবা অন্য যেকোনো পক্ষের উস্কানিতে পড়ে কোনো ধরনের বিবাদ, বাকবিতণ্ডা বা সংঘর্ষে জড়ানো যাবে না। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হবে যুক্তি, কর্মসূচি ও জনগণের আস্থার ভিত্তিতে সহিংসতার মাধ্যমে নয়।

ডিজিটাল যুগের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব দ্রুত ভুল তথ্য, গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ে, যা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং অস্থিরতা বাড়ায়। অনেক সময় সত্য-মিথ্যার পার্থক্য না বুঝেই মানুষ আবেগের বশবর্তী হয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়।

এ প্রেক্ষিতে ঢাকা-১৮ আসনের সকল সম্মানিত জনগণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে মতামত প্রকাশের আগে একটু সময় নিন। তথ্য যাচাই-বাছাই করুন, নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে পুরো প্রেক্ষাপট জানার চেষ্টা করুন। সত্য জানাই দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ চাই, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু তা হবে শালীন, দায়িত্বশীল ও সত্যনির্ভর। রাজনীতি হোক সম্মানজনক, সহনশীল এবং মানুষের কল্যাণকেন্দ্রিক।

শেষে তিনি বলেন, ভ্রান্তি নয় সত্যই হোক আমাদের পথচলার ভিত্তি। শান্তি, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মতের অমিল মানেই বিদ্বেষ বা সংঘর্ষ নয়: এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন

প্রকাশ : ০৭:১৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

মতের অমিল মানেই বিদ্বেষ, সংঘর্ষ বা সহিংসতা নয় বলে মন্তব্য করেছেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক লাইভে এসে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সেই ভিন্নমতকে সম্মান করার মধ্য দিয়েই একটি সভ্য ও আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। নতুন বাংলাদেশে আমরা সবাই মিলে সেই দায়িত্বশীল ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিশ্চিত করবো।

সম্প্রতি খিলক্ষেত এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল কখনোই শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। ঘটনার পরপরই দলীয়ভাবে তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ আইনবহির্ভূত বা সহিংস আচরণ করলে তার দায় দল নেবে না। শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখাই আমাদের রাজনীতির মূল ভিত্তি।

এ সময় এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ কিংবা অন্য যেকোনো পক্ষের উস্কানিতে পড়ে কোনো ধরনের বিবাদ, বাকবিতণ্ডা বা সংঘর্ষে জড়ানো যাবে না। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হবে যুক্তি, কর্মসূচি ও জনগণের আস্থার ভিত্তিতে সহিংসতার মাধ্যমে নয়।

ডিজিটাল যুগের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব দ্রুত ভুল তথ্য, গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ে, যা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং অস্থিরতা বাড়ায়। অনেক সময় সত্য-মিথ্যার পার্থক্য না বুঝেই মানুষ আবেগের বশবর্তী হয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়।

এ প্রেক্ষিতে ঢাকা-১৮ আসনের সকল সম্মানিত জনগণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে মতামত প্রকাশের আগে একটু সময় নিন। তথ্য যাচাই-বাছাই করুন, নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে পুরো প্রেক্ষাপট জানার চেষ্টা করুন। সত্য জানাই দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ চাই, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু তা হবে শালীন, দায়িত্বশীল ও সত্যনির্ভর। রাজনীতি হোক সম্মানজনক, সহনশীল এবং মানুষের কল্যাণকেন্দ্রিক।

শেষে তিনি বলেন, ভ্রান্তি নয় সত্যই হোক আমাদের পথচলার ভিত্তি। শান্তি, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।