ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে রিপাবলিক অব ভানুয়াটুর নাগরিকত্ব গ্রহণ ও সেখানে সম্পত্তি থাকার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (আজ) এক বিবৃতিতে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে যে তিনি ভানুয়াটুর নাগরিক এবং সেখানে তার বাড়ি কিংবা বিনিয়োগ রয়েছে। বাস্তবে এসব তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, “আমি কখনো ভানুয়াতুতে যাইনি এবং অন্য কোনো দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ইচ্ছাও আমার কখনো ছিল না।”
বিবৃতিতে তিনি জানান, ২০১১ সালের শুরু থেকে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে তাকে লক্ষ্য করে একাধিকবার গুমের চেষ্টা চালানো হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেন।
ড. এম এ কাইয়ুম আরও জানান, রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হওয়ায় তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর থেকে রিফিউজি কার্ড পান। এক পর্যায়ে তৎকালীন সরকার তাকে জোরপূর্বক দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলে তিনি মালয়েশিয়ায় একটি শরণার্থী ক্যাম্পে প্রায় এক মাস অবস্থান করেন। ইউএনএইচসিআরের রিফিউজি কার্ড থাকার কারণেই মালয়েশিয়ান হাই কোর্ট তাকে ডিপোর্ট করার অনুমতি দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এই ঘটনাগুলোকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বর্তমানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ড. কাইয়ুম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং দেশে পুনরায় স্বাধীন পরিবেশ ফিরে আসার পর ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে তিনি স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কথিত পাসপোর্ট ও অন্যান্য ডকুমেন্টের বিষয়ে তিনি বলেন, সেগুলো সম্পূর্ণ জাল। “ছড়ানো ডকুমেন্টে থাকা সাক্ষর আমার প্রকৃত সাক্ষরের সঙ্গে মিল নেই,” বলেন তিনি।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কখনো তাকে ভানুয়াটুর বড় বিনিয়োগকারী, কখনো সেখানে সম্পত্তির মালিক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগের বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই।
তিনি আরও বলেন, তিনি সবসময় সত্য যাচাইয়ের পক্ষে এবং অপপ্রচারের বিপক্ষে অবস্থান নেন। “ইনশাআল্লাহ নির্বাচিত হলে রাজনীতিতে মিথ্যাচার না করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করব,” বলেন তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









