ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার সদস্যদের দুই দিনব্যাপী আনন্দ ভ্রমণ সম্পন্ন

 শেরপুর ও জামালপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ

​মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী বাৎসরিক আনন্দ ভ্রমণ সফলভাবে উদযাপিত হয়েছে। এই সফরে সদস্যরা প্রকৃতি ও ইতিহাসের লীলাভূমি শেরপুর ও জামালপুর জেলার বিভিন্ন মনোরম ও ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করেন।

এই ভ্রমণের মধ্য দিয়ে সদস্যদের মধ্যে পেশাগত সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হয়েছে, যা তাদেরকে ন্যায় ও সত্যের ভিত্তিতে দেশ ও জাতির কল্যাণে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে আরও উৎসাহিত করবে বলে আয়োজকরা মনে করছেন। ​

গত ২১ অক্টোবর, মঙ্গলবার, সকাল ৮টায় প্রবীণ সাংবাদিক মো: ইউনুস আলীর দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার ডাকবাংলোর পাশ থেকে আনন্দভ্রমণের যাত্রা শুরু হয়। অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটে চলার এই প্রাণবন্ত আবহে সকলের চোখে-মুখে ছিল আনন্দের ছাপ।

​পথিমধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাতঃরাশ শেষে সদস্যরা প্রকৃতির রূপ-গন্ধে মুগ্ধ হয়ে ফটোসেশনে অংশ নেন। গজারী বনের পাশ দিয়ে দ্রুত ছুটে চলা গাড়ী থেকে নেমে বনের ভেতরেও কিছুক্ষণ সময় কাটান তারা।

​দুপুরের দিকে তাদের বহনকারী গাড়ীটি পৌঁছায় ময়মনসিংহে। সেখানে ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা বিরতি করে বিদ্রোহী কবির স্মৃতিচারণ করেন এবং ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন।

সকলের মুখে মুখে ছিল কবির কবিতা ও গান। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনের পর মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে তারা শেরপুরের ঝিনাইগাতীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে শেরপুরের তেঘরি হাজীবাড়ী এলাকায় পাঙাস মাছ চাষের ঘের দেখতে বিরতি নেন।

দীর্ঘ সময় গাড়ির ভেতরে একসাথে কাটানোর সুযোগে সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নেন। সন্ধ্যায় শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে পৌঁছানোর পর সারাদিনের ভ্রমণের ক্লান্তি ঘুচিয়ে বিশ্রাম শেষে রাতের খাবার সেরে, গল্প করতে করতে শেষ হয় আনন্দভ্রমণের প্রথম দিন।

​পরের দিন প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠে সকলে ৪২ বছরের পুরনো একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁয় বিশ্বখ্যাত তুঁলসিমালা ধানের চালের খিচুড়ি দিয়ে সকালের নাস্তা করেন। এরপর আর তর সইছিল না গজনী অবকাশ কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য। গামারী ও গজারী বনের মাঝখান দিয়ে চলতে চলতে তারা পৌঁছান গজনী অবকাশ কেন্দ্রে।

কেন্দ্রটির মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দেখে সকলেই উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, “আমার এ দেশ এতো সুন্দর!” আকাশচুম্বী পরিদর্শন টাওয়ার থেকে আবছায়া দেখা যাচ্ছিল পার্শ্ববর্তী ভারতের মেঘালয়। গারো মা পল্লীতে গারো মা ও তার সন্তানের প্রতীকী মূর্তি দেখে আপ্লুত হন সকলে।

গজনী অবকাশ কেন্দ্র থেকে প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার সদস্যরা এরপর জামালপুরের লাউচাপড়া অবকাশ কেন্দ্রে যান। অবকাশ কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার পর জামালপুরের বকশিগঞ্জ-মেলান্দহগঞ্জ সীমান্ত দেখতে যাওয়ার পথে বন্য হাতির পথরোধ করার খবরে কিছুটা ভীত হলেও, কৌতূহলবশে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে হাতি দর্শন করেন। সীমান্তে পৌঁছে খুব কাছ থেকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মেলান্দহগঞ্জ সীমান্ত দূর থেকে দেখেন তারা।

​বকশিগঞ্জে দুপুরের খাবার গ্রহণের পর শুরু হয় ফেরার প্রস্তুতি। টাঙ্গাইলের মধুপুরে যাত্রা বিরতি করে কেউ ভোলেননি পাহাড়ী আনারসের সুমিষ্ট স্বাদ নিতে। এরপর কালিহাতীতে চা পানের বিরতি শেষে প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাত ৯টায় সাটুরিয়ায় ফিরে আসার মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনব্যাপী বাৎসরিক আনন্দভ্রমণ এবং অর্জিত হয় এক দারুণ অভিজ্ঞতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের দাবি: রিজওয়ানা ও খলিলুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিচার করতে হবে

প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার সদস্যদের দুই দিনব্যাপী আনন্দ ভ্রমণ সম্পন্ন

 শেরপুর ও জামালপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ

প্রকাশ : ০৫:২২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

​মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী বাৎসরিক আনন্দ ভ্রমণ সফলভাবে উদযাপিত হয়েছে। এই সফরে সদস্যরা প্রকৃতি ও ইতিহাসের লীলাভূমি শেরপুর ও জামালপুর জেলার বিভিন্ন মনোরম ও ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করেন।

এই ভ্রমণের মধ্য দিয়ে সদস্যদের মধ্যে পেশাগত সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হয়েছে, যা তাদেরকে ন্যায় ও সত্যের ভিত্তিতে দেশ ও জাতির কল্যাণে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে আরও উৎসাহিত করবে বলে আয়োজকরা মনে করছেন। ​

গত ২১ অক্টোবর, মঙ্গলবার, সকাল ৮টায় প্রবীণ সাংবাদিক মো: ইউনুস আলীর দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার ডাকবাংলোর পাশ থেকে আনন্দভ্রমণের যাত্রা শুরু হয়। অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটে চলার এই প্রাণবন্ত আবহে সকলের চোখে-মুখে ছিল আনন্দের ছাপ।

​পথিমধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাতঃরাশ শেষে সদস্যরা প্রকৃতির রূপ-গন্ধে মুগ্ধ হয়ে ফটোসেশনে অংশ নেন। গজারী বনের পাশ দিয়ে দ্রুত ছুটে চলা গাড়ী থেকে নেমে বনের ভেতরেও কিছুক্ষণ সময় কাটান তারা।

​দুপুরের দিকে তাদের বহনকারী গাড়ীটি পৌঁছায় ময়মনসিংহে। সেখানে ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা বিরতি করে বিদ্রোহী কবির স্মৃতিচারণ করেন এবং ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন।

সকলের মুখে মুখে ছিল কবির কবিতা ও গান। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনের পর মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে তারা শেরপুরের ঝিনাইগাতীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে শেরপুরের তেঘরি হাজীবাড়ী এলাকায় পাঙাস মাছ চাষের ঘের দেখতে বিরতি নেন।

দীর্ঘ সময় গাড়ির ভেতরে একসাথে কাটানোর সুযোগে সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নেন। সন্ধ্যায় শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে পৌঁছানোর পর সারাদিনের ভ্রমণের ক্লান্তি ঘুচিয়ে বিশ্রাম শেষে রাতের খাবার সেরে, গল্প করতে করতে শেষ হয় আনন্দভ্রমণের প্রথম দিন।

​পরের দিন প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠে সকলে ৪২ বছরের পুরনো একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁয় বিশ্বখ্যাত তুঁলসিমালা ধানের চালের খিচুড়ি দিয়ে সকালের নাস্তা করেন। এরপর আর তর সইছিল না গজনী অবকাশ কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য। গামারী ও গজারী বনের মাঝখান দিয়ে চলতে চলতে তারা পৌঁছান গজনী অবকাশ কেন্দ্রে।

কেন্দ্রটির মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দেখে সকলেই উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, “আমার এ দেশ এতো সুন্দর!” আকাশচুম্বী পরিদর্শন টাওয়ার থেকে আবছায়া দেখা যাচ্ছিল পার্শ্ববর্তী ভারতের মেঘালয়। গারো মা পল্লীতে গারো মা ও তার সন্তানের প্রতীকী মূর্তি দেখে আপ্লুত হন সকলে।

গজনী অবকাশ কেন্দ্র থেকে প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার সদস্যরা এরপর জামালপুরের লাউচাপড়া অবকাশ কেন্দ্রে যান। অবকাশ কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার পর জামালপুরের বকশিগঞ্জ-মেলান্দহগঞ্জ সীমান্ত দেখতে যাওয়ার পথে বন্য হাতির পথরোধ করার খবরে কিছুটা ভীত হলেও, কৌতূহলবশে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে হাতি দর্শন করেন। সীমান্তে পৌঁছে খুব কাছ থেকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মেলান্দহগঞ্জ সীমান্ত দূর থেকে দেখেন তারা।

​বকশিগঞ্জে দুপুরের খাবার গ্রহণের পর শুরু হয় ফেরার প্রস্তুতি। টাঙ্গাইলের মধুপুরে যাত্রা বিরতি করে কেউ ভোলেননি পাহাড়ী আনারসের সুমিষ্ট স্বাদ নিতে। এরপর কালিহাতীতে চা পানের বিরতি শেষে প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাত ৯টায় সাটুরিয়ায় ফিরে আসার মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনব্যাপী বাৎসরিক আনন্দভ্রমণ এবং অর্জিত হয় এক দারুণ অভিজ্ঞতা।