ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারেক-জুবাইদার মামলায় বিচার নিরপেক্ষ ছিল না: হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় অধস্তন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ছিল না বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ৫২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ মন্তব্য উঠে আসে।

রায়ে বলা হয়েছে, মাত্র দুই মাস চার দিনে ৪২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও মাত্র আট দিনের ব্যবধানে রায় ঘোষণার মতো দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সাধারণভাবে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। এমন গতিতে বিচারকাজ শেষ হওয়ায় এই বিশ্বাস জোরালো হয় যে, বিচার নিরপেক্ষভাবে হয়নি। একই সঙ্গে রায়ে জুবাইদা রহমানকে নোটিশ না দেয়ার বিষয়টি এবং অভিযোগ গঠনের সময় আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিচারিক আদালত গত বছর তারেক রহমানকে ৯ বছর ও জুবাইদা রহমানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে গত ২৮ মে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় বাতিল করে তাদের দু’জনকেই খালাস দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট আরও জানিয়েছে, ন্যায়বিচারের মূলনীতি লঙ্ঘিত হয়েছে এবং জুবাইদা রহমানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে, ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর, রাজধানীর কাফরুল থানায় এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তারেক রহমান প্রায় ৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং জুবাইদা রহমান ও তার মাতা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু এতে সহযোগিতা করেছেন।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ দুদক অভিযোগপত্র দেয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালের ২ আগস্ট ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. আছাদুজ্জামান রায় দেন। এর বিরুদ্ধে জুবাইদা রহমান আপিল করলে হাইকোর্ট তা গ্রহণ করে এবং শুনানি শেষে তাদের খালাস দেয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। স্ত্রী জুবাইদা ও মেয়ে জায়মা রহমান তখন থেকেই তার সঙ্গে ছিলেন। গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালত কয়েকটি মামলায় খালাস ও স্থগিতাদেশ দেন। এরপর চলতি বছরের ৬ মে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন জুবাইদা রহমান।

আদালতে তাদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আসিফ হাসান।

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ইফতার মাহফিল

তারেক-জুবাইদার মামলায় বিচার নিরপেক্ষ ছিল না: হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

প্রকাশ : ০৬:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় অধস্তন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ছিল না বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ৫২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ মন্তব্য উঠে আসে।

রায়ে বলা হয়েছে, মাত্র দুই মাস চার দিনে ৪২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও মাত্র আট দিনের ব্যবধানে রায় ঘোষণার মতো দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সাধারণভাবে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। এমন গতিতে বিচারকাজ শেষ হওয়ায় এই বিশ্বাস জোরালো হয় যে, বিচার নিরপেক্ষভাবে হয়নি। একই সঙ্গে রায়ে জুবাইদা রহমানকে নোটিশ না দেয়ার বিষয়টি এবং অভিযোগ গঠনের সময় আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিচারিক আদালত গত বছর তারেক রহমানকে ৯ বছর ও জুবাইদা রহমানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে গত ২৮ মে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় বাতিল করে তাদের দু’জনকেই খালাস দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট আরও জানিয়েছে, ন্যায়বিচারের মূলনীতি লঙ্ঘিত হয়েছে এবং জুবাইদা রহমানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে, ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর, রাজধানীর কাফরুল থানায় এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তারেক রহমান প্রায় ৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং জুবাইদা রহমান ও তার মাতা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু এতে সহযোগিতা করেছেন।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ দুদক অভিযোগপত্র দেয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালের ২ আগস্ট ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. আছাদুজ্জামান রায় দেন। এর বিরুদ্ধে জুবাইদা রহমান আপিল করলে হাইকোর্ট তা গ্রহণ করে এবং শুনানি শেষে তাদের খালাস দেয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। স্ত্রী জুবাইদা ও মেয়ে জায়মা রহমান তখন থেকেই তার সঙ্গে ছিলেন। গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালত কয়েকটি মামলায় খালাস ও স্থগিতাদেশ দেন। এরপর চলতি বছরের ৬ মে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন জুবাইদা রহমান।

আদালতে তাদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আসিফ হাসান।