ঢাকা ০৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়’

১৯৮২ সালের পর থেকে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ মানে শুধুই ফুটবলের লড়াই নয়, বরং একটি যুদ্ধও। দুই দেশের রাজনৈতিক বিরোধের প্রভাব খেলায় চলে এসেছে বারবারই। এবারও সেই উত্তেজনার আঁচ আছে। তবে তা গায়ে লাগাতে নারাজ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনার কোচ বললেন, খেলার সঙ্গে তিনি সবকিছু মেশাতে চান না।

তিনি মেশাতে না চাইলেও ৪৪ বছর আগের ঘটনা থেকে বদলে গেছে বাস্তবতা। ১৯৮২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুদ্ধ হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। দক্ষিণ আটলান্টিকের দুটি ব্রিটিশ বৈদেশিক অঞ্চল—ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ও এর অধীনস্থ ভূখণ্ড সাউথ জর্জিয়া এবং সাউথ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে অঘোষিত যুদ্ধটি স্থায়ী হছিল ৭৪ দিন।

এই সংঘাত শুরু হয় ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল, আর্জেন্টিনা যখন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আক্রমণ করে দখল করে নেয় এবং এর পরের দিন সাউথ জর্জিয়াও আক্রমণ করা হয়। ৫ এপ্রিল ব্রিটিশ সরকার দ্বীপপুঞ্জে উভচর আক্রমণ চালানোর আগে আর্জেন্টিনার নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মোকাবেলা করার জন্য একটি নৌ টাস্ক ফোর্স পাঠায়। ১৪ জুন আর্জেন্টিনার আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং দ্বীপপুঞ্জগুলো ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে। এই যুদ্ধে মোট ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সামরিক সদস্য, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সামরিক সদস্য এবং ৩ জন ফকল্যান্ড দ্বীপবাসী নিহত হন।

দুই দেশের সম্পর্ক উত্তপ্ত ছিল সেখা থেকেই। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়াার্টার-ফাইনালে যখন মুখোমুখি হয় তারা, ফুটবল আর রাজনীতি মিলেমিশে যুদ্ধ পরিস্থিতিই তৈরি হয়। সেই ম্যাচে দিয়োগো মারাদোনা হাত দিয়ে গোল করায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে আরও। মারাদোনা পরে একক প্রচেষ্টায় অসাধারণ এক গোলও উপহার দেন। আর্জেন্টিনা ম্যাচটি জিতে নেয় ২-১ গোলে।

এরপর যতবার দুই দেশ মুখোমুখি হয়েছে, বিশেষ করে বিশ্বকাপে, ফকল্যান্ড যুদ্ধও ঘুরেফিরে এসেছে বারবার। এবার ম্যাচের আগের দিন সেই আলোচনার দুয়ার বন্ধ করে দিতে চাইলেন আর্জেন্টিনার কোচ। সত্যিটা হলো, এটা কেবলই একটি ফুটবল ম্যাচ। সবকিছুকে একসঙ্গে মেশাতে পারি না, বিশেষ করে এত বছর আগে যা ঘটেছিল, সেসবের প্রতি সম্মান জানিয়ে। সেটা আমাদের ইতিহাসের এক অত্যন্ত দুঃখজনক অধ্যায় ছিল এবং এ ব্যাপারে আমাদের তেমন কিছু করার নেই— এটাই সত্যি। এখন এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়।
কোচের এই কথার সঙ্গে দুই দলের সমর্থকেরা খুব একটা একমত হবেন বলে মনে হয় না!

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের তালিকা প্রণয়নে রাজনীতি হয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

‘এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়’

প্রকাশ : ০৪:৫৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

১৯৮২ সালের পর থেকে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ মানে শুধুই ফুটবলের লড়াই নয়, বরং একটি যুদ্ধও। দুই দেশের রাজনৈতিক বিরোধের প্রভাব খেলায় চলে এসেছে বারবারই। এবারও সেই উত্তেজনার আঁচ আছে। তবে তা গায়ে লাগাতে নারাজ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনার কোচ বললেন, খেলার সঙ্গে তিনি সবকিছু মেশাতে চান না।

তিনি মেশাতে না চাইলেও ৪৪ বছর আগের ঘটনা থেকে বদলে গেছে বাস্তবতা। ১৯৮২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুদ্ধ হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। দক্ষিণ আটলান্টিকের দুটি ব্রিটিশ বৈদেশিক অঞ্চল—ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ও এর অধীনস্থ ভূখণ্ড সাউথ জর্জিয়া এবং সাউথ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে অঘোষিত যুদ্ধটি স্থায়ী হছিল ৭৪ দিন।

এই সংঘাত শুরু হয় ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল, আর্জেন্টিনা যখন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আক্রমণ করে দখল করে নেয় এবং এর পরের দিন সাউথ জর্জিয়াও আক্রমণ করা হয়। ৫ এপ্রিল ব্রিটিশ সরকার দ্বীপপুঞ্জে উভচর আক্রমণ চালানোর আগে আর্জেন্টিনার নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মোকাবেলা করার জন্য একটি নৌ টাস্ক ফোর্স পাঠায়। ১৪ জুন আর্জেন্টিনার আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং দ্বীপপুঞ্জগুলো ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে। এই যুদ্ধে মোট ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সামরিক সদস্য, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সামরিক সদস্য এবং ৩ জন ফকল্যান্ড দ্বীপবাসী নিহত হন।

দুই দেশের সম্পর্ক উত্তপ্ত ছিল সেখা থেকেই। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়াার্টার-ফাইনালে যখন মুখোমুখি হয় তারা, ফুটবল আর রাজনীতি মিলেমিশে যুদ্ধ পরিস্থিতিই তৈরি হয়। সেই ম্যাচে দিয়োগো মারাদোনা হাত দিয়ে গোল করায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে আরও। মারাদোনা পরে একক প্রচেষ্টায় অসাধারণ এক গোলও উপহার দেন। আর্জেন্টিনা ম্যাচটি জিতে নেয় ২-১ গোলে।

এরপর যতবার দুই দেশ মুখোমুখি হয়েছে, বিশেষ করে বিশ্বকাপে, ফকল্যান্ড যুদ্ধও ঘুরেফিরে এসেছে বারবার। এবার ম্যাচের আগের দিন সেই আলোচনার দুয়ার বন্ধ করে দিতে চাইলেন আর্জেন্টিনার কোচ। সত্যিটা হলো, এটা কেবলই একটি ফুটবল ম্যাচ। সবকিছুকে একসঙ্গে মেশাতে পারি না, বিশেষ করে এত বছর আগে যা ঘটেছিল, সেসবের প্রতি সম্মান জানিয়ে। সেটা আমাদের ইতিহাসের এক অত্যন্ত দুঃখজনক অধ্যায় ছিল এবং এ ব্যাপারে আমাদের তেমন কিছু করার নেই— এটাই সত্যি। এখন এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়।
কোচের এই কথার সঙ্গে দুই দলের সমর্থকেরা খুব একটা একমত হবেন বলে মনে হয় না!