ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল সংযুক্তির দাবিতে অগ্রগতি, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত মেট্রোরেল (এমআরটি) সম্প্রসারণের দাবিতে দেওয়া ডিও (ডেমি-অফিশিয়াল) লেটারের পর গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বিষয়টি পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে।

গত ৩০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার উজ্জ্বল হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, এমআরটি লাইন প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জ জেলাকে পুনরায় সম্পৃক্ত করার বিষয়ে প্রাপ্ত ডিওপত্র বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার দেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া (দিপু ভূইয়া)। তিনি চিঠিতে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের বাইরে রাখার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

ডিও লেটারে তিনি উল্লেখ করেন, প্রাচ্যের ডান্ডি হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ আয়তনে ছোট হলেও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। জেলাটিতে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস এবং সাত হাজার ৫০০-এর বেশি ছোট-বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। দেশের মোট নিটওয়্যার উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ এ জেলায় সম্পন্ন হয়। পাশাপাশি হোসিয়ারি শিল্প, বিশ্বখ্যাত জামদানি শিল্প এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর উৎপাদন কারখানাও এখানে অবস্থিত।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিক পানাম নগরীসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের কারণে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক নারায়ণগঞ্জে আসেন। এছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির প্রয়োজনে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ মানুষ নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত গণপরিবহনের অভাব এবং তীব্র যানজটের কারণে তাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মহানগরী ও আশপাশের এলাকার জন্য প্রাথমিকভাবে যে মেট্রোরেল পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেখানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী—এই ছয়টি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই পরিকল্পনায় সাইনবোর্ড-ভূইগড়-জালকুড়ি-শিবুমার্কেট-চাষাঢ়া হয়ে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত এমআরটি লাইন সম্প্রসারণের প্রস্তাব ছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রস্তাবিত রুট পরিবর্তনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ শহরের অংশটি বাদ দেওয়ার আলোচনা সামনে আসায় জেলার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে নারায়ণগঞ্জবাসী আধুনিক গণপরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মেট্রোরেল প্রকল্পে নারায়ণগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবিতে ইতোমধ্যে মানববন্ধন, সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের মতে, ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের পাশাপাশি শিল্প-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, পর্যটনের বিকাশ, পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ডিও লেটারে প্রধানমন্ত্রীকে এমআরটি লাইন প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড-ভূইগড়-জালকুড়ি-শিবুমার্কেট-চাষাঢ়া হয়ে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত অংশটি পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোয় নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল সংযোগ বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা ও নাগরিকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল সংযুক্তির দাবিতে অগ্রগতি, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ

প্রকাশ : ০৭:৪০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত মেট্রোরেল (এমআরটি) সম্প্রসারণের দাবিতে দেওয়া ডিও (ডেমি-অফিশিয়াল) লেটারের পর গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বিষয়টি পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে।

গত ৩০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার উজ্জ্বল হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, এমআরটি লাইন প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জ জেলাকে পুনরায় সম্পৃক্ত করার বিষয়ে প্রাপ্ত ডিওপত্র বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার দেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া (দিপু ভূইয়া)। তিনি চিঠিতে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের বাইরে রাখার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

ডিও লেটারে তিনি উল্লেখ করেন, প্রাচ্যের ডান্ডি হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ আয়তনে ছোট হলেও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। জেলাটিতে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস এবং সাত হাজার ৫০০-এর বেশি ছোট-বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। দেশের মোট নিটওয়্যার উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ এ জেলায় সম্পন্ন হয়। পাশাপাশি হোসিয়ারি শিল্প, বিশ্বখ্যাত জামদানি শিল্প এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর উৎপাদন কারখানাও এখানে অবস্থিত।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিক পানাম নগরীসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের কারণে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক নারায়ণগঞ্জে আসেন। এছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির প্রয়োজনে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ মানুষ নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত গণপরিবহনের অভাব এবং তীব্র যানজটের কারণে তাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মহানগরী ও আশপাশের এলাকার জন্য প্রাথমিকভাবে যে মেট্রোরেল পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেখানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী—এই ছয়টি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই পরিকল্পনায় সাইনবোর্ড-ভূইগড়-জালকুড়ি-শিবুমার্কেট-চাষাঢ়া হয়ে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত এমআরটি লাইন সম্প্রসারণের প্রস্তাব ছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রস্তাবিত রুট পরিবর্তনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ শহরের অংশটি বাদ দেওয়ার আলোচনা সামনে আসায় জেলার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে নারায়ণগঞ্জবাসী আধুনিক গণপরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মেট্রোরেল প্রকল্পে নারায়ণগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবিতে ইতোমধ্যে মানববন্ধন, সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের মতে, ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের পাশাপাশি শিল্প-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, পর্যটনের বিকাশ, পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ডিও লেটারে প্রধানমন্ত্রীকে এমআরটি লাইন প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড-ভূইগড়-জালকুড়ি-শিবুমার্কেট-চাষাঢ়া হয়ে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত অংশটি পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোয় নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল সংযোগ বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা ও নাগরিকরা।