ঢাকা ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় মরক্কো

  • ক্রীড়া ডেস্ক
  • প্রকাশ : ০৪:১২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ২৫১১ বার পড়া হয়েছে

গ্রুপ পর্বের নায়ক ইসমায়েল সাইবারি নকআউটের প্রথম ম্যাচে মিইয়ে রইলেন অনেকটাই। তবে টাইব্রেকারে শেষ শটে দলকে জেতানোর গুরুভার পড়ল তার ওপরই। প্রবল চাপের মধ্যে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়ালেন তিনি। রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় পা রাখল মরক্কো।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচটিতে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষ হয় ১-১ গোলে সমতায়। টাইব্রেকারে মরক্কো জিতে যায় ৩-২ গোলে। অথচ নির্ধারিত সময়েই বিদায়ের দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলা দলটি পিছিয়ে ছিল ৯০ মিনিট পর্যন্ত।

অনাগত সন্তানকে হারানোর শোক সঙ্গী করে ম্যাচটি খেলতে নামা কোডি গাকপো ৭২তম মিনিটে এগিয়ে দেন নেদারল্যান্ডসকে। কিন্তু ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি করার জন্য এই দিনটিকেই বেছে নেন ইসা জিওপ। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৬ থেকে অনূর্ধ্ব-২১ পর্যন্ত ছয়টি ধাপে ফ্রান্সের হয়ে খেলা সেন্টার ব্যাক গত মার্চে অনুমতি পান মায়ের দেশ মরক্কোর হয়ে খেলার। ডুবতে থাকা দলকে জিইয়ে রাখে তার হেডের গোল। এরপর টাইব্রেকারের রুদ্ধশ্বাস নাটক। ১০ শটের মাত্র ৫টি জালে ঢোকে।

দুই টসের দুটিই জিতে নিজেদের পছন্দের প্রান্ত বেছে নেওয়ার পাশাপাশি আগে শটও নেয় নেদারল্যান্ডস। গোল করেই শুরু করেন টেওন কুপমাইনার্স। মরক্কোর প্রথম শটই মিস করেন নেইল এল আয়নাউই। গোলকিপার বিভ্রান্ত হলেও জোরাল শট ক্রসবারের নিচে লেগে ফিরে আসে।

নেদারল্যান্ডসের দ্বিতীয় শট পোস্টে মেরে বসেন শেষ দিকে বদলি নামা জাস্টিন ক্লাইভার্ট। মরক্কোর দ্বিতীয় শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন ডাচ গোলকিপার বার্ট ভেরব্রাখেন। কিন্তু বল তার শরীরের নীচ দিয়ে বেরিয়ে পায়ে লেগে কোনোরকমে গোল লাইন পেরিয়ে যায়। পরের শটে গোল করেন বাউট বেখ্রস্ট। শেমসদিন তালবিও বল পাঠান জালে।

চতুর্থ শটে আরেক দফায় ভুলের পালা। বাজে শটে অনেকটা বাইরে মেরে দেন জুরিয়েন টিম্বার। মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

ম্যাচজুড়ে দারুণ খেলা ক্রেসেন্সিও সামারভিল টাইব্রেকারে শেষ শটে করেন গড়বড়। মাঝববরার শট নেন তিনি। ডানদিকে সরার পথে থাকলেও ইয়াসিন বোনু বাম হাতে ঠেকিয়ে দেন বল। শেষ শটে ভেরব্রাখেনকে উল্টো প্রান্তে পাঠিয়ে খ্যাপাটে উল্লাসে মেতে ওঠেন সাইবারি।

গোটা ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে দফায় দফায় রক্ষা করেন এই ভেরব্রাখেন। মোট পাঁচটি সেভ করেন তিনি, এর অন্তত দুটি ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। কিন্তু সতীর্থদের ব্যর্থতায় তার বীরত্বও যথেষ্ট হলো না শেষ পর্যন্ত। বিশ্বকাপে এই নিয়ে পঞ্চম টাইব্রেকারে চারটিই হারল ডাচরা। ম্যাচের ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রেখে দারুণ সব আক্রমণ করা মরক্কো ফিনিশিংয়ে ব্যর্থ হলেও শেষ হাসি তাদেরই।

পাহাড়ের কোল ঘেঁষে নয়নাভিরাম মন্তেরেই স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা দুই দলই করে গতিময়। তবে তৃতীয় মিনিটে নেদারল্যান্ডস কর্নার পেলেও কোনো দলই প্রথম ১৫ মিনিটে বিপজ্জনক হতে পারেনি। খুব উত্তেজনাও ছড়ায়নি। বেশ কয়েকটি জোরাল ট্যাকল অবশ্য হয় এই সময়ে। আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে দুই দলই।

ষষ্ঠদশ মিনিটে প্রথম সত্যিকারের সম্ভাবনা তৈরি হয়। মরক্কোর হাই-লাইন রক্ষণ ভেঙে বিপজ্জনকভাবে বক্সে ঢুকে পড়েন সামারভিল। তবে বল হারান বক্সে ঢুকে। অফসাইডও ছিলেন তিনি।

মরক্কোর জবাবও আসে দ্রুতই। মিনিট চারের পর টানা দুটি দুর্দান্ত সেভে দলকে রক্ষা করেন ডাচ গোলকিপার। ২০তম মিনিটে কর্নার থেকে এল আয়নাউইয়ের জোরাল শটে অসাধারণ রিয়্যাকশন সেভ করেন ভেরব্রাখেন। পরের মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আশরাফ হাকিমির ডান পায়ের গোলাও ঠেকিয়ে দেন ব্রাইটনের গোলকিপার।

হাইড্রেশন বিরতির পর দুই দলই বেশ আঁটসাঁট ফুটবল খেলে। পরের ২০ মিনিটে তেমন কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। ৪৪তম মিনিটে নেদারল্যান্ডসের মিকি ফন দে ফেনের দূরপাল্লার শট কোনোরকমে আঙুলে ছুঁইয়ে ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন বোনু।

যোগ করা সময়ে দারুণ কয়েকটি আক্রমণ করে মরক্কো। আজেদিন উনায়ির শট একটুর জন্য ওপর দিয়ে চলে যায়। হাকিমির দুর্দান্ত ফ্রি কিকে গোলের খুব কাছ থেকে অল্পের জন্য বলে স্পর্শ করতে পারেননি সাইবারি।

মাঝবিরতির পর ষষ্ঠ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন হাকিমি। উনায়ির দারুণ এক পাস থেকে বক্সের ভেত ডান পাশ থেকে জোরাল শট নেন মরক্কো অধিনায়ক। কিন্তু বল ক্রসবারে লেগে চলে যায় ওপর দিয়ে।

একটু পরই আবার তুমুল গতিতে বক্সে ঢুকে যান হাকিমি। দুর্দান্ত ট্যাকল করে রক্ষা করেন ফন দে ফেন। ৫৮তম মিনিটে বিলাল এল কানুসের শট ধরে ফেলেন ভেরব্রাখেন।

৬১তম মিনিটে বাঁদিক থেকে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে শট নেন সাইবারি, ব্লক করে দেন ভার্জিল ফন ডাইক। কর্নার থেকে বল জালে ঢোকার মুহূর্তে ভেরব্রাখেনের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। এরপর টানা আরও চারটি কর্নার পেয়ে কাজে লাগাতে পারেনি মরক্কো।

এর একটু পরই এগিয়ে যায় ডাচরা। বল নিলে গুলির বেগে বক্সে ঢুকে পড়েন সামারভিল। তবে মরক্কোর দুই ডিফেন্ডারকে এড়াতে গিয়ে বক্সে পড়ে যান তিনি। বসে থেকেই কোনোরকমে বল বাড়ান পাশে। ছুটে এসে গাকপো জোরাল শটে আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে বল জড়ান জালে।

গোল করে মাটিতে নুইয়েই থাকেন গাকপো। সতীর্থরা এসে ঝাঁপিয়ে পড়েন তার ওপর। পরে যখন উঠে দাঁড়ালেন লিভারপুলের ফরোয়ার্ড, তার চোখে তখন টলমল করছিল জল। চেষ্টা করলেন জার্সিতে মুখ ঢেকে তা আড়াল করতে।

ম্যাচের আগে জানা যায়, গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে অনাগত সন্তানকে হারিয়েছেন তার সঙ্গিনী। তবু দল ছেড়ে না গিয়ে মাঠে নামেন তিনি। এই গোল তাই তার জন্য ছিল আবেগময়।

এরপর ডাচরা মন দেয় রক্ষণ সামলাতো। মরক্কো চেষ্টা করে সমতা ফেরাতে। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ছয় মিনিট। প্রথম মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় তারা।

বদলি নামা তালবি নিখুঁত এক ক্রস করেন বক্সের মাঝখানে। ফন ডাইকের পেছন থেকে অনেকটা লাফিয়ে হেডে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন জিওপ।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে নেদারল্যান্ডসকে রক্ষা করেন ভেরব্রাখেন। বদলি নামা সুফিয়ান রাহিমি বক্সে কাট ইন করে দুই ডিফেন্ডারকে বিভ্রান্ত করে জোরাল শট নেন কাছ থেকে। কিন্তু ডাচ গোলকিপারের বাড়ানো পায়ে লেগে বল চলে যায় বাইরে।

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই ছিল কিছুটা সতর্ক। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ফিরে আসে ডাচদের ব্যর্থতার ইতিহাস। বেঁচে থাকে মরক্কোর স্বপ্ন।

বাড়া বাধা জয়ের পর এখন কোয়ার্টার-ফাইনালের আশাও করতে পারে মরক্কো। শেষ ষোলোয় কানাডার চ্যালেঞ্জ তো এত কঠিন হওয়ার কথা নয়!

জনপ্রিয় সংবাদ

টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় মরক্কো

প্রকাশ : ০৪:১২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

গ্রুপ পর্বের নায়ক ইসমায়েল সাইবারি নকআউটের প্রথম ম্যাচে মিইয়ে রইলেন অনেকটাই। তবে টাইব্রেকারে শেষ শটে দলকে জেতানোর গুরুভার পড়ল তার ওপরই। প্রবল চাপের মধ্যে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়ালেন তিনি। রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় পা রাখল মরক্কো।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচটিতে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষ হয় ১-১ গোলে সমতায়। টাইব্রেকারে মরক্কো জিতে যায় ৩-২ গোলে। অথচ নির্ধারিত সময়েই বিদায়ের দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলা দলটি পিছিয়ে ছিল ৯০ মিনিট পর্যন্ত।

অনাগত সন্তানকে হারানোর শোক সঙ্গী করে ম্যাচটি খেলতে নামা কোডি গাকপো ৭২তম মিনিটে এগিয়ে দেন নেদারল্যান্ডসকে। কিন্তু ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি করার জন্য এই দিনটিকেই বেছে নেন ইসা জিওপ। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৬ থেকে অনূর্ধ্ব-২১ পর্যন্ত ছয়টি ধাপে ফ্রান্সের হয়ে খেলা সেন্টার ব্যাক গত মার্চে অনুমতি পান মায়ের দেশ মরক্কোর হয়ে খেলার। ডুবতে থাকা দলকে জিইয়ে রাখে তার হেডের গোল। এরপর টাইব্রেকারের রুদ্ধশ্বাস নাটক। ১০ শটের মাত্র ৫টি জালে ঢোকে।

দুই টসের দুটিই জিতে নিজেদের পছন্দের প্রান্ত বেছে নেওয়ার পাশাপাশি আগে শটও নেয় নেদারল্যান্ডস। গোল করেই শুরু করেন টেওন কুপমাইনার্স। মরক্কোর প্রথম শটই মিস করেন নেইল এল আয়নাউই। গোলকিপার বিভ্রান্ত হলেও জোরাল শট ক্রসবারের নিচে লেগে ফিরে আসে।

নেদারল্যান্ডসের দ্বিতীয় শট পোস্টে মেরে বসেন শেষ দিকে বদলি নামা জাস্টিন ক্লাইভার্ট। মরক্কোর দ্বিতীয় শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন ডাচ গোলকিপার বার্ট ভেরব্রাখেন। কিন্তু বল তার শরীরের নীচ দিয়ে বেরিয়ে পায়ে লেগে কোনোরকমে গোল লাইন পেরিয়ে যায়। পরের শটে গোল করেন বাউট বেখ্রস্ট। শেমসদিন তালবিও বল পাঠান জালে।

চতুর্থ শটে আরেক দফায় ভুলের পালা। বাজে শটে অনেকটা বাইরে মেরে দেন জুরিয়েন টিম্বার। মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

ম্যাচজুড়ে দারুণ খেলা ক্রেসেন্সিও সামারভিল টাইব্রেকারে শেষ শটে করেন গড়বড়। মাঝববরার শট নেন তিনি। ডানদিকে সরার পথে থাকলেও ইয়াসিন বোনু বাম হাতে ঠেকিয়ে দেন বল। শেষ শটে ভেরব্রাখেনকে উল্টো প্রান্তে পাঠিয়ে খ্যাপাটে উল্লাসে মেতে ওঠেন সাইবারি।

গোটা ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে দফায় দফায় রক্ষা করেন এই ভেরব্রাখেন। মোট পাঁচটি সেভ করেন তিনি, এর অন্তত দুটি ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। কিন্তু সতীর্থদের ব্যর্থতায় তার বীরত্বও যথেষ্ট হলো না শেষ পর্যন্ত। বিশ্বকাপে এই নিয়ে পঞ্চম টাইব্রেকারে চারটিই হারল ডাচরা। ম্যাচের ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রেখে দারুণ সব আক্রমণ করা মরক্কো ফিনিশিংয়ে ব্যর্থ হলেও শেষ হাসি তাদেরই।

পাহাড়ের কোল ঘেঁষে নয়নাভিরাম মন্তেরেই স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা দুই দলই করে গতিময়। তবে তৃতীয় মিনিটে নেদারল্যান্ডস কর্নার পেলেও কোনো দলই প্রথম ১৫ মিনিটে বিপজ্জনক হতে পারেনি। খুব উত্তেজনাও ছড়ায়নি। বেশ কয়েকটি জোরাল ট্যাকল অবশ্য হয় এই সময়ে। আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে দুই দলই।

ষষ্ঠদশ মিনিটে প্রথম সত্যিকারের সম্ভাবনা তৈরি হয়। মরক্কোর হাই-লাইন রক্ষণ ভেঙে বিপজ্জনকভাবে বক্সে ঢুকে পড়েন সামারভিল। তবে বল হারান বক্সে ঢুকে। অফসাইডও ছিলেন তিনি।

মরক্কোর জবাবও আসে দ্রুতই। মিনিট চারের পর টানা দুটি দুর্দান্ত সেভে দলকে রক্ষা করেন ডাচ গোলকিপার। ২০তম মিনিটে কর্নার থেকে এল আয়নাউইয়ের জোরাল শটে অসাধারণ রিয়্যাকশন সেভ করেন ভেরব্রাখেন। পরের মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আশরাফ হাকিমির ডান পায়ের গোলাও ঠেকিয়ে দেন ব্রাইটনের গোলকিপার।

হাইড্রেশন বিরতির পর দুই দলই বেশ আঁটসাঁট ফুটবল খেলে। পরের ২০ মিনিটে তেমন কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। ৪৪তম মিনিটে নেদারল্যান্ডসের মিকি ফন দে ফেনের দূরপাল্লার শট কোনোরকমে আঙুলে ছুঁইয়ে ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন বোনু।

যোগ করা সময়ে দারুণ কয়েকটি আক্রমণ করে মরক্কো। আজেদিন উনায়ির শট একটুর জন্য ওপর দিয়ে চলে যায়। হাকিমির দুর্দান্ত ফ্রি কিকে গোলের খুব কাছ থেকে অল্পের জন্য বলে স্পর্শ করতে পারেননি সাইবারি।

মাঝবিরতির পর ষষ্ঠ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন হাকিমি। উনায়ির দারুণ এক পাস থেকে বক্সের ভেত ডান পাশ থেকে জোরাল শট নেন মরক্কো অধিনায়ক। কিন্তু বল ক্রসবারে লেগে চলে যায় ওপর দিয়ে।

একটু পরই আবার তুমুল গতিতে বক্সে ঢুকে যান হাকিমি। দুর্দান্ত ট্যাকল করে রক্ষা করেন ফন দে ফেন। ৫৮তম মিনিটে বিলাল এল কানুসের শট ধরে ফেলেন ভেরব্রাখেন।

৬১তম মিনিটে বাঁদিক থেকে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে শট নেন সাইবারি, ব্লক করে দেন ভার্জিল ফন ডাইক। কর্নার থেকে বল জালে ঢোকার মুহূর্তে ভেরব্রাখেনের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। এরপর টানা আরও চারটি কর্নার পেয়ে কাজে লাগাতে পারেনি মরক্কো।

এর একটু পরই এগিয়ে যায় ডাচরা। বল নিলে গুলির বেগে বক্সে ঢুকে পড়েন সামারভিল। তবে মরক্কোর দুই ডিফেন্ডারকে এড়াতে গিয়ে বক্সে পড়ে যান তিনি। বসে থেকেই কোনোরকমে বল বাড়ান পাশে। ছুটে এসে গাকপো জোরাল শটে আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে বল জড়ান জালে।

গোল করে মাটিতে নুইয়েই থাকেন গাকপো। সতীর্থরা এসে ঝাঁপিয়ে পড়েন তার ওপর। পরে যখন উঠে দাঁড়ালেন লিভারপুলের ফরোয়ার্ড, তার চোখে তখন টলমল করছিল জল। চেষ্টা করলেন জার্সিতে মুখ ঢেকে তা আড়াল করতে।

ম্যাচের আগে জানা যায়, গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে অনাগত সন্তানকে হারিয়েছেন তার সঙ্গিনী। তবু দল ছেড়ে না গিয়ে মাঠে নামেন তিনি। এই গোল তাই তার জন্য ছিল আবেগময়।

এরপর ডাচরা মন দেয় রক্ষণ সামলাতো। মরক্কো চেষ্টা করে সমতা ফেরাতে। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ছয় মিনিট। প্রথম মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় তারা।

বদলি নামা তালবি নিখুঁত এক ক্রস করেন বক্সের মাঝখানে। ফন ডাইকের পেছন থেকে অনেকটা লাফিয়ে হেডে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন জিওপ।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে নেদারল্যান্ডসকে রক্ষা করেন ভেরব্রাখেন। বদলি নামা সুফিয়ান রাহিমি বক্সে কাট ইন করে দুই ডিফেন্ডারকে বিভ্রান্ত করে জোরাল শট নেন কাছ থেকে। কিন্তু ডাচ গোলকিপারের বাড়ানো পায়ে লেগে বল চলে যায় বাইরে।

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই ছিল কিছুটা সতর্ক। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ফিরে আসে ডাচদের ব্যর্থতার ইতিহাস। বেঁচে থাকে মরক্কোর স্বপ্ন।

বাড়া বাধা জয়ের পর এখন কোয়ার্টার-ফাইনালের আশাও করতে পারে মরক্কো। শেষ ষোলোয় কানাডার চ্যালেঞ্জ তো এত কঠিন হওয়ার কথা নয়!