আজ ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ডুমনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে “প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬”। নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা, শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করা এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মহৎ লক্ষ্য নিয়ে এই আয়োজন করা হয়। মাঠজুড়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, গুলশান, ঢাকা জনাবা নাহিদা আক্তার। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। একটি শিশুর সুস্থ বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা ও খেলাধুলাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমান প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার মতো ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রসার জরুরি। তিনি এমন উদ্যোগ গ্রহণ করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।
শুভ উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব মো. আক্তার হোসেন। তিনি টুর্নামেন্টের শুভ সূচনা ঘোষণা করেন এবং বলেন, শিশুদের মাঝে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে ক্রীড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি নিয়মিত এমন আয়োজন চালু রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মো. দিদার আহমেদ মোল্লা এবং জনাব মো. জাকির হোসেন। তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে শিশুদের মোবাইল ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা থেকে বের করে মাঠমুখী করতে হলে এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। খেলাধুলা শিশুদের শুধু বিনোদনই দেয় না, বরং তাদের নেতৃত্ব, সহনশীলতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ শেখায়।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের উপস্থিতি পুরো অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত, উৎসাহব্যঞ্জক ও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস, দর্শকদের করতালি এবং আনন্দঘন পরিবেশে মাঠজুড়ে উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়। প্রতিটি দলই চমৎকার নৈপুণ্য, শৃঙ্খলা ও খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব প্রদর্শন করে। এতে উপস্থিত অভিভাবক ও দর্শকরা ব্যাপক আনন্দ উপভোগ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের সুস্থ, মেধাবী ও নৈতিকতাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সমন্বয় প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন সেই লক্ষ্য পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয় এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। উপস্থিত সবাই আশা প্রকাশ করেন, এই টুর্নামেন্ট শিশুদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
হাফিজুর রহমান 


















