নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথে আরেক ধাপ এগোল। বালু নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত সেতু নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে ডেমরা-কামশাইর সড়কের কেওডালা-কায়েতপাড়া নদীঘাট এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৬২৫ দশমিক ৩৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ৯৭ কোটি ৬৩ লাখ ৭২ হাজার ৩২৬ টাকা ব্যয়ে এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সেতুটি নির্মিত হলে রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন, কায়েতপাড়া, ডেমরা সংলগ্ন এলাকা এবং আশপাশের কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াতে আমূল পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিন ধরে নৌকা ও অস্থায়ী ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে নদী পারাপার করতে হওয়ায় স্থানীয় জনগণকে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বর্ষা মৌসুমে সেই দুর্ভোগ আরও বাড়ত।
এলাকাবাসী জানান, একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, শিল্পকারখানায় শ্রমিকদের যাতায়াত এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসায় মারাত্মক সমস্যা দেখা দিত। সেতুটি চালু হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে বলে তারা আশা করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, এই সেতু নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে কিছু সংস্থার জটিলতায় আটকে ছিল। কিন্তু জনগণের স্বার্থে সেই বাধা দূর করে অবশেষে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে। রূপগঞ্জের মানুষ আমাকে সংসদে পাঠিয়েছে তাদের উন্নয়নের জন্য। আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। জনগণের স্বার্থে যে কোনো উন্নয়ন কাজে আমি দৃঢ়ভাবে পাশে থাকব।
তিনি আরও বলেন, জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প যদি সরকারিভাবে কোনো জমি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণের মাধ্যমে তা নিতে পারে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করবে, তা মেনে নেওয়া হবে না। রূপগঞ্জে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, বর্তমান সময়ে একটি এলাকার উন্নয়ন নির্ভর করে তার যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর। যেখানে সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো উন্নত, সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত প্রসার লাভ করে। এই সেতু নির্মাণ হলে রূপগঞ্জের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নদী পারাপারের সীমাবদ্ধতার কারণে এ অঞ্চলে অনেক সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ পিছিয়ে ছিল। সেতু নির্মাণ হলে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, জমির মূল্য বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় বাজারব্যবস্থা আরও সম্প্রসারিত হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জয়, রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান খান, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। অনেকেই বলেন, বহু বছরের দাবি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ায় তারা আনন্দিত। দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হলে বালু নদীর ওপর এই সেতু শুধু একটি যোগাযোগ অবকাঠামোই হবে না, বরং রূপগঞ্জের সামগ্রিক উন্নয়ন, অর্থনীতি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন প্রতীক হয়ে উঠবে।
নারায়ণগঞ্জ (রূপগঞ্জ) সংবাদদাতা 


















