ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি বলছেন তিনি ‘অসুস্থ’, চিকিৎসকের দাবি ‘সমস্যা নেই’

বুকে ব্যথা অনুভব করছেন দাবি করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ আছেন তিনি। এরপর ২৭ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সেখান থেকে বের হতে পারেননি অধ্যাপক শেখ শরীফুল। আন্দোলনকারীরা তার পদত্যাগের দাবিতে এখনো অনড়। এরইমধ্যে উপাচার্য ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে উপাচার্য ভবনের ভিতরে যাওয়া সাংবাদিকদের নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল বলেন, আপনারা জানেন গতকাল দুপুর ১২টা থেকে আমরা বিদ্যুৎ সংযোগহীন অবস্থায় আছি। ফলে গতকাল দুপুর থেকে আমাদের লাঞ্চ, ডিনার, সকালে নাস্তা কিছুই ঠিকভাবে হয়নি। রাত ২টার সময় পুলিশ কর্তৃক সরবরাহকৃত কিছু ডিনার আমরা করেছিলাম এবং সারারাত নির্ঘুম কাটিয়েছি। ফলে সকাল থেকেই আমার প্রচণ্ড মাথা যন্ত্রণা এবং হালকা বুকে ব্যথা ছিল। দুপুর ১২টা থেকে ব্যথার মাত্রা বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে এখন আমি আর কারও সাথে কথা বলার মত অবস্থায় নাই। আমি দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যেতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

এদিকে উপাচার্যের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরে দুপুর দেড়টার দিকে তার দপ্তরে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক মো. শাহাবুদ্দিন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উনার পালস, ব্লাডপ্রেশার নরমাল। উনি ভালো আছেন, অসুবিধা নেই।

উপাচার্যকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে কিনা প্রশ্নে ডা. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘না না, উনি বলছেন উনার পালস কেমন আছে, ব্লাড প্রেসার কেমন আছে দেখতে। সব ঠিক আছে। ব্লাড প্রেসার ১২০/৮০। উনি কোনো ওষুধ খান না, মাঝেমধ্যে প্রেসারের ওষুধ খান। আমি বলেছি, যদি প্রেসার বাড়তি হয় তাহলে খাবেন। আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে কিছু বলেন নাই, আমিও এমন কিছু পাই নাই। তিনি শুধু বলেছেন, আমি অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি, আনকমফোর্ট ফিল করছি।

এ দিন দুপুর ২টার দিকে উপাচার্যকে দেখতে যান রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা টিপলু কান্তি দে। এরপর বের হয়ে তিনি বলেন, উনার অনেক সোয়েটিং (ঘাম) হচ্ছে এবং পালপিটিশন (বুক ধড়ফড়) হচ্ছে। উনি আগে থেকে হাইপার টেনশনের রোগী। উনি ওষুধ নেন ইরেগুলার, এটা অনেক ক্ষতির। প্রেসারটা প্রায় ১৫০/১০০। আমি মনে করি উনাকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত। ডোন্ট বি লেট। তিনিও সম্মত হয়েছেন। বুকের বাম পাশে ব্যথা আছে। এটা ইসিজি ছাড়া বোঝা যাবে না।

দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকায় উপাচার্য উদ্বিগ্ন আছেন এবং এ কারণে তার রক্তচাপ ওঠানামা করছে বলেও মনে করেন এই চিকিৎসক।

চুয়েটে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই দিন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা চলছে।

এর মধ্যেই দায়িত্বে যোগদানের ১৭ দিন পর সোমবার অফিস সময় শুরু হওয়ার আগেই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ছাত্রদলের সাবেক-বর্তমান কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে যান অধ্যাপক শরীফুল আলম। এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের নিচের ফটকে তালা দেয় শিক্ষার্থীরা।

নতুন উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশের খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। উপাচার্যকে তারা বেলা ১২টার মধ্যে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বেঁধে দেন। কিন্তু উপাচার্য তাতে কান না দেওয়ায় বেলা সাড়ে ১২টায় ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকে তিনি সেখানেই অবরুদ্ধ আছেন।

ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি বলছেন তিনি ‘অসুস্থ’, চিকিৎসকের দাবি ‘সমস্যা নেই’

প্রকাশ : ০৫:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বুকে ব্যথা অনুভব করছেন দাবি করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ আছেন তিনি। এরপর ২৭ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সেখান থেকে বের হতে পারেননি অধ্যাপক শেখ শরীফুল। আন্দোলনকারীরা তার পদত্যাগের দাবিতে এখনো অনড়। এরইমধ্যে উপাচার্য ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে উপাচার্য ভবনের ভিতরে যাওয়া সাংবাদিকদের নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল বলেন, আপনারা জানেন গতকাল দুপুর ১২টা থেকে আমরা বিদ্যুৎ সংযোগহীন অবস্থায় আছি। ফলে গতকাল দুপুর থেকে আমাদের লাঞ্চ, ডিনার, সকালে নাস্তা কিছুই ঠিকভাবে হয়নি। রাত ২টার সময় পুলিশ কর্তৃক সরবরাহকৃত কিছু ডিনার আমরা করেছিলাম এবং সারারাত নির্ঘুম কাটিয়েছি। ফলে সকাল থেকেই আমার প্রচণ্ড মাথা যন্ত্রণা এবং হালকা বুকে ব্যথা ছিল। দুপুর ১২টা থেকে ব্যথার মাত্রা বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে এখন আমি আর কারও সাথে কথা বলার মত অবস্থায় নাই। আমি দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যেতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

এদিকে উপাচার্যের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরে দুপুর দেড়টার দিকে তার দপ্তরে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক মো. শাহাবুদ্দিন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উনার পালস, ব্লাডপ্রেশার নরমাল। উনি ভালো আছেন, অসুবিধা নেই।

উপাচার্যকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে কিনা প্রশ্নে ডা. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘না না, উনি বলছেন উনার পালস কেমন আছে, ব্লাড প্রেসার কেমন আছে দেখতে। সব ঠিক আছে। ব্লাড প্রেসার ১২০/৮০। উনি কোনো ওষুধ খান না, মাঝেমধ্যে প্রেসারের ওষুধ খান। আমি বলেছি, যদি প্রেসার বাড়তি হয় তাহলে খাবেন। আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে কিছু বলেন নাই, আমিও এমন কিছু পাই নাই। তিনি শুধু বলেছেন, আমি অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি, আনকমফোর্ট ফিল করছি।

এ দিন দুপুর ২টার দিকে উপাচার্যকে দেখতে যান রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা টিপলু কান্তি দে। এরপর বের হয়ে তিনি বলেন, উনার অনেক সোয়েটিং (ঘাম) হচ্ছে এবং পালপিটিশন (বুক ধড়ফড়) হচ্ছে। উনি আগে থেকে হাইপার টেনশনের রোগী। উনি ওষুধ নেন ইরেগুলার, এটা অনেক ক্ষতির। প্রেসারটা প্রায় ১৫০/১০০। আমি মনে করি উনাকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত। ডোন্ট বি লেট। তিনিও সম্মত হয়েছেন। বুকের বাম পাশে ব্যথা আছে। এটা ইসিজি ছাড়া বোঝা যাবে না।

দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকায় উপাচার্য উদ্বিগ্ন আছেন এবং এ কারণে তার রক্তচাপ ওঠানামা করছে বলেও মনে করেন এই চিকিৎসক।

চুয়েটে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই দিন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা চলছে।

এর মধ্যেই দায়িত্বে যোগদানের ১৭ দিন পর সোমবার অফিস সময় শুরু হওয়ার আগেই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ছাত্রদলের সাবেক-বর্তমান কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে যান অধ্যাপক শরীফুল আলম। এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের নিচের ফটকে তালা দেয় শিক্ষার্থীরা।

নতুন উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশের খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। উপাচার্যকে তারা বেলা ১২টার মধ্যে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বেঁধে দেন। কিন্তু উপাচার্য তাতে কান না দেওয়ায় বেলা সাড়ে ১২টায় ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকে তিনি সেখানেই অবরুদ্ধ আছেন।