ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়া শ্রম রপ্তানি: ৪৯ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল

মালয়েশিয়ায় শ্রম রপ্তানিতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। ফলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সনদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। রোববার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “এই ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্ট—যাদের লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তাদেরটা প্রত্যাহারই থাকছে এবং সরকারের সিদ্ধান্তটাই বহাল থাকছে বলা যায়।”

গত ১৯ জুলাই ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির সনদ প্রত্যাহার করে সরকার। এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে দুটি রিট মামলা করা হয়। প্রথম রিট আবেদনটি করেন একজন রিক্রুটিং এজেন্ট। পরে ১১ জন রিক্রুটিং এজেন্ট আরেকটি রিট মামলা করেন।

দুটি রিটের ক্ষেত্রেই হাই কোর্ট সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি রিটের ক্ষেত্রে হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রোববার ১১ জন রিক্রুটিং এজেন্টের অপর রিট মামলার ক্ষেত্রেও হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করা হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল কাজল বলেন, “রোববার আমরা চেম্বার আদালতে শুনানি করে পরবর্তী ১১টি রিক্রুটিং এজেন্ট, যারা হাই কোর্টে রিট পিটিশন ফাইল করে সরকারের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিলেন, তাদেরটাও আজকে স্থগিত হয়ে গেল।”

তিনি বলেন, “আপিল বিভাগের ৩০শে সেপ্টেম্বর এবং আজকের আদেশের ফলে সরকার যে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্ট যাদের সনদ প্রত্যাহার করেছিল, আসলে সেই সরকারের আদেশটিই বহাল থাকল।” মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে ‘সিন্ডিকেট’করে জনশক্তি রপ্তানিতে বাধা এবং তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে মামলা হয়। ওই মামলায় অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়।

সেই অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করেছে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “মালয়েশিয়াতে লোক পাঠানোর নাম করে একটা সিন্ডিকেট করে বাংলাদেশের মানুষের মালয়েশিয়াতে যাওয়া, তাদেরকে বাধাগ্রস্ত করা, ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং একপর্যায়ে বাংলাদেশের মানুষের মালয়েশিয়াতে যাওয়াটাই বন্ধ হয়ে গেছে।” রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা কাজল বলেন, “একধরনের চাকরির কথা বলে অন্য ধরনের চাকরিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। “বৈধভাবে জনশক্তি রপ্তানির কথা থাকলেও বিভিন্ন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে নিয়ে গিয়ে অন্য চাকরি দেওয়ার কারণে মানুষের ভোগান্তি হয়েছে।”

কোনো রিক্রুটিং এজেন্ট, সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করলে লাইসেন্স প্রত্যাহারের ক্ষমতা সরকারের রয়েছে জানিয়ে কাজল বলেন, “আইনের মধ্যে এরকম একটা পরিস্থিতিতে কোনো রিক্রুটিং এজেন্ট এবং এজেন্ট সংশ্লিষ্ট কোনো মালিক কিংবা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি কোনো কারণে অভিযোগ থাকে, মামলা হয় এবং সেই মামলার যদি আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়, তাহলে সেই ক্ষেত্রে তাদের লাইসেন্স প্রত্যাহারের ক্ষমতা সরকারের আছে।”

যে ৪৯ লাইসেন্স বাতিল

বাতিল হওয়া এজেন্সির মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী ও মেয়ের মালিকানাধীন দুটি এজেন্সি অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ও অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল রয়েছে।

ঢাকা-২০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড এবং ফেনী-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদউদ্দিন চৌধুরীর ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনালও রয়েছে তালিকায়।

এছাড়া জনশক্তি খাতের ব্যবসায়ী নূর আলীর ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড এবং মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের আলোচিত রুহুল আমিন ওরফে স্বপনের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালও তালিকায় রয়েছে।

বিভিন্ন অনিয়ম ও ‘সিন্ডিকেটের’ কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ করেছিল মালয়েশিয়া। ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর আবার বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রমিক নেওয়ার চুক্তি করে দেশটি। ওই সময় শ্রমিক ভিসায় দেশটিতে যেতে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৫৪০ টাকা ফি ঠিক দেয় সরকার।

বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারের চুক্তির আওতায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১০টি নির্ধারিত রিক্রুটিং এজেন্সি দেশটিতে শ্রমিক পাঠাত। পরে ২০২১ সালে নতুন একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে দুই দেশ। এতে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০টি করা হয়।

তবে সেখানেও নতুন ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ১০০ এজেন্সির মধ্যে ২০-২৫টি এজেন্সির ‘সিন্ডিকেট’ মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক।

এর ধারাবাহিকতায় এর আগেও কয়েকটি এজেন্সির কর্ণধারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংস্থাটি। এবার আরও ৬০টি মামলা করার উদ্যোগ নেয় দুদক।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এসব এজেন্সি ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন শ্রমিক মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে। সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি অর্থ নিয়ে তারা মোট ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি ২০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া বাকি এজেন্সিগুলো হল—শাহীন ট্রাভেলস, ইরভিং এন্টারপ্রাইজ, হেইডোরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত অ্যাসোসিয়েট, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল, বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড, কিউ কে কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট, জিএমজি ট্রেডিং, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল-খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, ডাহমাশি করপোরেশন, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানিসপাওয়ার করপোরেশন, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, নাতাশা ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বি এম ট্রাভেলস লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, বিএনএস ওভারসিজ, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালটেন্সি, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জে জি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস, পিআর ওভারসিজ ও এমইএফ গ্লোবাল বাংলাদেশ।

মালয়েশিয়া শ্রম রপ্তানি: ৪৯ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল

প্রকাশ : ০৬:১৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

মালয়েশিয়ায় শ্রম রপ্তানিতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। ফলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সনদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। রোববার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “এই ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্ট—যাদের লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তাদেরটা প্রত্যাহারই থাকছে এবং সরকারের সিদ্ধান্তটাই বহাল থাকছে বলা যায়।”

গত ১৯ জুলাই ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির সনদ প্রত্যাহার করে সরকার। এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে দুটি রিট মামলা করা হয়। প্রথম রিট আবেদনটি করেন একজন রিক্রুটিং এজেন্ট। পরে ১১ জন রিক্রুটিং এজেন্ট আরেকটি রিট মামলা করেন।

দুটি রিটের ক্ষেত্রেই হাই কোর্ট সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি রিটের ক্ষেত্রে হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রোববার ১১ জন রিক্রুটিং এজেন্টের অপর রিট মামলার ক্ষেত্রেও হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করা হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল কাজল বলেন, “রোববার আমরা চেম্বার আদালতে শুনানি করে পরবর্তী ১১টি রিক্রুটিং এজেন্ট, যারা হাই কোর্টে রিট পিটিশন ফাইল করে সরকারের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিলেন, তাদেরটাও আজকে স্থগিত হয়ে গেল।”

তিনি বলেন, “আপিল বিভাগের ৩০শে সেপ্টেম্বর এবং আজকের আদেশের ফলে সরকার যে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্ট যাদের সনদ প্রত্যাহার করেছিল, আসলে সেই সরকারের আদেশটিই বহাল থাকল।” মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে ‘সিন্ডিকেট’করে জনশক্তি রপ্তানিতে বাধা এবং তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে মামলা হয়। ওই মামলায় অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়।

সেই অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করেছে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “মালয়েশিয়াতে লোক পাঠানোর নাম করে একটা সিন্ডিকেট করে বাংলাদেশের মানুষের মালয়েশিয়াতে যাওয়া, তাদেরকে বাধাগ্রস্ত করা, ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং একপর্যায়ে বাংলাদেশের মানুষের মালয়েশিয়াতে যাওয়াটাই বন্ধ হয়ে গেছে।” রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা কাজল বলেন, “একধরনের চাকরির কথা বলে অন্য ধরনের চাকরিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। “বৈধভাবে জনশক্তি রপ্তানির কথা থাকলেও বিভিন্ন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে নিয়ে গিয়ে অন্য চাকরি দেওয়ার কারণে মানুষের ভোগান্তি হয়েছে।”

কোনো রিক্রুটিং এজেন্ট, সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করলে লাইসেন্স প্রত্যাহারের ক্ষমতা সরকারের রয়েছে জানিয়ে কাজল বলেন, “আইনের মধ্যে এরকম একটা পরিস্থিতিতে কোনো রিক্রুটিং এজেন্ট এবং এজেন্ট সংশ্লিষ্ট কোনো মালিক কিংবা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি কোনো কারণে অভিযোগ থাকে, মামলা হয় এবং সেই মামলার যদি আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়, তাহলে সেই ক্ষেত্রে তাদের লাইসেন্স প্রত্যাহারের ক্ষমতা সরকারের আছে।”

যে ৪৯ লাইসেন্স বাতিল

বাতিল হওয়া এজেন্সির মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী ও মেয়ের মালিকানাধীন দুটি এজেন্সি অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ও অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল রয়েছে।

ঢাকা-২০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড এবং ফেনী-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদউদ্দিন চৌধুরীর ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনালও রয়েছে তালিকায়।

এছাড়া জনশক্তি খাতের ব্যবসায়ী নূর আলীর ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড এবং মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের আলোচিত রুহুল আমিন ওরফে স্বপনের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালও তালিকায় রয়েছে।

বিভিন্ন অনিয়ম ও ‘সিন্ডিকেটের’ কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ করেছিল মালয়েশিয়া। ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর আবার বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রমিক নেওয়ার চুক্তি করে দেশটি। ওই সময় শ্রমিক ভিসায় দেশটিতে যেতে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৫৪০ টাকা ফি ঠিক দেয় সরকার।

বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারের চুক্তির আওতায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১০টি নির্ধারিত রিক্রুটিং এজেন্সি দেশটিতে শ্রমিক পাঠাত। পরে ২০২১ সালে নতুন একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে দুই দেশ। এতে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০টি করা হয়।

তবে সেখানেও নতুন ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ১০০ এজেন্সির মধ্যে ২০-২৫টি এজেন্সির ‘সিন্ডিকেট’ মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক।

এর ধারাবাহিকতায় এর আগেও কয়েকটি এজেন্সির কর্ণধারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংস্থাটি। এবার আরও ৬০টি মামলা করার উদ্যোগ নেয় দুদক।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এসব এজেন্সি ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন শ্রমিক মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে। সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি অর্থ নিয়ে তারা মোট ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি ২০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া বাকি এজেন্সিগুলো হল—শাহীন ট্রাভেলস, ইরভিং এন্টারপ্রাইজ, হেইডোরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত অ্যাসোসিয়েট, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল, বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড, কিউ কে কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট, জিএমজি ট্রেডিং, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল-খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, ডাহমাশি করপোরেশন, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানিসপাওয়ার করপোরেশন, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, নাতাশা ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বি এম ট্রাভেলস লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, বিএনএস ওভারসিজ, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালটেন্সি, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জে জি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস, পিআর ওভারসিজ ও এমইএফ গ্লোবাল বাংলাদেশ।