ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বর পর্যন্ত কাতারের এলএনজি পাবে না বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পাবে না। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কাতার এনার্জি তাদের অনিবার্য পরিস্থিতির (ফোর্স ম্যাজেউর) নোটিশের মেয়াদ বৃদ্ধি করে এই তথ্য জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই কাতারের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে। এর ফলে চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটি। রয়টার্সের হিসাবে, সংঘাতের কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

গত বছর একই সময়ে তারা যেখানে ৫০৯টি এলএনজি কার্গো পাঠিয়েছিল, সেখানে চলতি বছরের আগস্টের শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৮টি কার্গো সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে কাতার এনার্জি।

শুধু এশিয়া নয়, ইউরোপের দেশগুলোও এই সংকটের মারাত্মক শিকার হচ্ছে। ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন জানিয়েছে, কাতার এনার্জি সম্প্রতি তাদের আরও ৬টি এলএনজি কার্গো বাতিল করেছে। এ নিয়ে এডিসনের মোট ৩৫টি চালানের সরবরাহ বাতিল হলো।

২০০৯ সাল থেকে কাতার এনার্জির সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদী দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি থাকলেও, ঘাটতি মেটাতে এডিসন এখন বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করছে। ইতালির মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করে এই প্রতিষ্ঠানটি।

সামনে শীত মৌসুম আসতে থাকায় এশীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের সীমিত বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় জার্মানি সহ ইউরোপের একাধিক দেশ দ্রুত তাদের নিজস্ব মজুত বাড়াতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে চলমান এই সংকট ও ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে কাতার এনার্জি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিসেম্বর পর্যন্ত কাতারের এলএনজি পাবে না বাংলাদেশ

প্রকাশ : ০৩:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পাবে না। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কাতার এনার্জি তাদের অনিবার্য পরিস্থিতির (ফোর্স ম্যাজেউর) নোটিশের মেয়াদ বৃদ্ধি করে এই তথ্য জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই কাতারের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে। এর ফলে চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটি। রয়টার্সের হিসাবে, সংঘাতের কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

গত বছর একই সময়ে তারা যেখানে ৫০৯টি এলএনজি কার্গো পাঠিয়েছিল, সেখানে চলতি বছরের আগস্টের শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৮টি কার্গো সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে কাতার এনার্জি।

শুধু এশিয়া নয়, ইউরোপের দেশগুলোও এই সংকটের মারাত্মক শিকার হচ্ছে। ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন জানিয়েছে, কাতার এনার্জি সম্প্রতি তাদের আরও ৬টি এলএনজি কার্গো বাতিল করেছে। এ নিয়ে এডিসনের মোট ৩৫টি চালানের সরবরাহ বাতিল হলো।

২০০৯ সাল থেকে কাতার এনার্জির সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদী দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি থাকলেও, ঘাটতি মেটাতে এডিসন এখন বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করছে। ইতালির মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করে এই প্রতিষ্ঠানটি।

সামনে শীত মৌসুম আসতে থাকায় এশীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের সীমিত বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় জার্মানি সহ ইউরোপের একাধিক দেশ দ্রুত তাদের নিজস্ব মজুত বাড়াতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে চলমান এই সংকট ও ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে কাতার এনার্জি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।