সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম সভায় জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। তিনি জ্বালানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ ও সরবরাহব্যবস্থায় জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সভায় অংশ নিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু জ্বালানি খাতের বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
বৈঠকে দিপু ভূঁইয়া বলেন, দেশের অর্থনীতি, শিল্প, পরিবহন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে জ্বালানি খাত সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে জ্বালানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ থেকে শুরু করে আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মত দেন।
তিনি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি-হ্রাসের কারণগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, আমদানি ব্যয়, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা ব্যয়সহ মূল্য নির্ধারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
দিপু ভূঁইয়া আরও বলেন, জ্বালানি পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের স্বার্থ, অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং বাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম, অদক্ষতা বা ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে বিপিসি ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও হ্রাসের কারণ, মূল্য নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য উপায় এবং জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পদ্মা অয়েল পিএলসি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন পিএলসি ও যমুনা অয়েল পিএলসির ভূমিকা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ, বিপণন ও বিতরণব্যবস্থায় এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কীভাবে আরও দক্ষ করা যায়, সে বিষয়েও সদস্যরা মতামত দেন।
দিপু ভূঁইয়া জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিয়মিত পর্যালোচনা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয় নয়; এর সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, শিল্প উৎপাদন, কৃষি, পরিবহন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাই জ্বালানি খাতের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
সভায় কমিটির সদস্যরা বিপিসি ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্যসংক্রান্ত বিষয়গুলো কার্যকরভাবে পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেন।
সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে সভায় কমিটির সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিপিসির কার্যক্রম, পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রীয় অয়েল কোম্পানিগুলোর ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। জনস্বার্থে জ্বালানি খাতে আরও স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















