ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় মাদ্রাসায় হামলা ও লুটপাট: পরিচালনা পর্ষদের দ্বন্দ্বে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় পরিচালনা পর্ষদের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একটি মাদ্রাসায় অতর্কিত হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাযিল (স্নাতক) মাদ্রাসায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

মাদ্রাসাটির উপ-পরিচালক (প্রশাসন) এবং আশরাফ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সদস্য সৈয়দ সানজিদ অভিযোগ করেন, রোববার বিকেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন ও ইমাম হাসানের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাদ্রাসায় অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মাদ্রাসার অফিস কক্ষ ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং কম্পিউটার, নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

সানজিদ আরও জানান, বিরোধের সূত্রপাত মূলত একটি মার্কেট দখলকে কেন্দ্র করে। তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসার সামনে ট্রাস্টের জায়গায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত একটি মার্কেট ইমাম হাসান জোরপূর্বক দখল করে রেখেছিলেন। সম্প্রতি তাকে সেখান থেকে বিতাড়িত করার ক্ষোভ থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এর আগেও বিএনপি নেতা জাকিরের নেতৃত্বে মাদ্রাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঢাকা জেলা তাঁতী দলের সভাপতি জাকির হোসেন। তিনি সৈয়দ সানজিদকে ‘সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মাদ্রাসার সঙ্গে সানজিদের কোনো সম্পর্ক নেই। সে জোরপূর্বক মাদ্রাসাটি দখল করে রেখেছিল, তাই অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী আজ তাদের সেখান থেকে বিতাড়িত করেছে।

নিজেকে মাদ্রাসাটির পরিচালনা পর্ষদ ও দারুল এহসান ট্রাস্টের সদস্য এবং একজন অভিভাবক দাবি করে জাকির হোসেন বলেন, “পুলিশ আসার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অনুরোধ করে চলে এসেছি।” তিনি আরও বলেন, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সানজিদের কারণে তিনি মাদ্রাসায় যেতে পারেন না এবং সানজিদ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে।

মাদ্রাসায় হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। রাত ৯টার দিকে আশুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। পুরো ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্ব আরোপ প্রধানমন্ত্রীর

আশুলিয়ায় মাদ্রাসায় হামলা ও লুটপাট: পরিচালনা পর্ষদের দ্বন্দ্বে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশ : ০৪:৩০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভারের আশুলিয়ায় পরিচালনা পর্ষদের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একটি মাদ্রাসায় অতর্কিত হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাযিল (স্নাতক) মাদ্রাসায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

মাদ্রাসাটির উপ-পরিচালক (প্রশাসন) এবং আশরাফ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সদস্য সৈয়দ সানজিদ অভিযোগ করেন, রোববার বিকেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন ও ইমাম হাসানের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাদ্রাসায় অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মাদ্রাসার অফিস কক্ষ ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং কম্পিউটার, নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

সানজিদ আরও জানান, বিরোধের সূত্রপাত মূলত একটি মার্কেট দখলকে কেন্দ্র করে। তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসার সামনে ট্রাস্টের জায়গায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত একটি মার্কেট ইমাম হাসান জোরপূর্বক দখল করে রেখেছিলেন। সম্প্রতি তাকে সেখান থেকে বিতাড়িত করার ক্ষোভ থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এর আগেও বিএনপি নেতা জাকিরের নেতৃত্বে মাদ্রাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঢাকা জেলা তাঁতী দলের সভাপতি জাকির হোসেন। তিনি সৈয়দ সানজিদকে ‘সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মাদ্রাসার সঙ্গে সানজিদের কোনো সম্পর্ক নেই। সে জোরপূর্বক মাদ্রাসাটি দখল করে রেখেছিল, তাই অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী আজ তাদের সেখান থেকে বিতাড়িত করেছে।

নিজেকে মাদ্রাসাটির পরিচালনা পর্ষদ ও দারুল এহসান ট্রাস্টের সদস্য এবং একজন অভিভাবক দাবি করে জাকির হোসেন বলেন, “পুলিশ আসার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অনুরোধ করে চলে এসেছি।” তিনি আরও বলেন, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সানজিদের কারণে তিনি মাদ্রাসায় যেতে পারেন না এবং সানজিদ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে।

মাদ্রাসায় হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। রাত ৯টার দিকে আশুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। পুরো ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।