ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক-এরদোয়ান বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে আলোচনা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় তুর্কি হাউসে তারেক রহমান ও এরদোয়ানের বৈঠক হয়। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে প্রধানমন্ত্রীর সারা দিনের কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় বৈঠকের বিষয়েও কথা বলেন হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একজন মূল্যবান ভাই হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে বলেছেন যে, তুরস্ক সরকার বাংলাদেশের সাথে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।”

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাত, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সাধারণ অবস্থান নেওয়া এবং কিছু নির্দিষ্ট মানবিক ইস্যুতে, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

“এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি বৈঠক ছিল এবং দুই নেতাই খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেছেন। উভয় নেতাই ভবিষ্যতে একটি বিশেষ দ্বিপক্ষীক সম্পর্ক স্থাপনের ওপর জোর দিয়েছেন।”

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা ছিল ‘গঠনমূলক, আন্তরিক এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ’। তিনি জানান, নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তাকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।

ভুটান, মালদ্বীপ ও হাইতির সঙ্গে বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচি নিয়ে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ১২টি নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে ১০টিতে তিনি সশরীরে অংশ নেন। দিনের শুরুতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে আয়োজিত প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান। এরপর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।

এদিন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনারের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে জানান হুমায়ুন কবির। সার্ক কাঠামোর আওতায় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে মাহদী আমিন জানান।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ

দিনের দুটি বৈঠক রোহিঙ্গা সংকটকেন্দ্রিক ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। ইউএনএইচসিআর এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে পরবর্তী দিন একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথাও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।

পরে এক প্রশ্নের উত্তরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান বলেন, “আমরা চাই না রিফিউজি সিচুয়েশনটা ভুলে যাওয়া হোক। বাংলাদেশে এখন যে ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা আছে, সেটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিফিউজি কেসলোড।

“প্রধানমন্ত্রী এখানে এসেছেন, উনি এখানে ইউএন-এর সব কাউন্টারপার্টস এবং বাইল্যাটারাল কাউন্টারপার্টদের সবার কাছ থেকেই সাহায্য চেয়েছেন এই সমস্যার সমাধান করার জন্য। আমাদের ক্যাম্পে যারা আছেন, তাদের জন্য আমাদের আরও ফান্ডস দরকার, সেই ফান্ডসগুলো যেন আসে এবং আমরা সবাইকে উৎসাহিত করছি আমাদেরকে একটি সমাধান খুঁজতে সাহায্য করার জন্য যাতে রিফিউজিরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে।”

ঢাকায় কার্যালয় খোলার বিষয়ে মেটার সঙ্গে আলোচনা

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় তাদের একটি কার্যালয় বা ফোকাল পয়েন্ট স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মেটার কার্যক্রম, সাইবার নিরাপত্তা, ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল হয়রানি কমাতে বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেটা কীভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ঢাকায় কার্যালয় খোলার বিষয়টি মেটা পর্যালোচনা করবে।’

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

তারেক-এরদোয়ান বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে আলোচনা

প্রকাশ : ০৪:৪৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় তুর্কি হাউসে তারেক রহমান ও এরদোয়ানের বৈঠক হয়। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে প্রধানমন্ত্রীর সারা দিনের কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় বৈঠকের বিষয়েও কথা বলেন হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একজন মূল্যবান ভাই হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে বলেছেন যে, তুরস্ক সরকার বাংলাদেশের সাথে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।”

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাত, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সাধারণ অবস্থান নেওয়া এবং কিছু নির্দিষ্ট মানবিক ইস্যুতে, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

“এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি বৈঠক ছিল এবং দুই নেতাই খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেছেন। উভয় নেতাই ভবিষ্যতে একটি বিশেষ দ্বিপক্ষীক সম্পর্ক স্থাপনের ওপর জোর দিয়েছেন।”

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা ছিল ‘গঠনমূলক, আন্তরিক এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ’। তিনি জানান, নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তাকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।

ভুটান, মালদ্বীপ ও হাইতির সঙ্গে বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচি নিয়ে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ১২টি নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে ১০টিতে তিনি সশরীরে অংশ নেন। দিনের শুরুতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে আয়োজিত প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান। এরপর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।

এদিন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনারের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে জানান হুমায়ুন কবির। সার্ক কাঠামোর আওতায় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে মাহদী আমিন জানান।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ

দিনের দুটি বৈঠক রোহিঙ্গা সংকটকেন্দ্রিক ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। ইউএনএইচসিআর এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে পরবর্তী দিন একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথাও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।

পরে এক প্রশ্নের উত্তরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান বলেন, “আমরা চাই না রিফিউজি সিচুয়েশনটা ভুলে যাওয়া হোক। বাংলাদেশে এখন যে ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা আছে, সেটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিফিউজি কেসলোড।

“প্রধানমন্ত্রী এখানে এসেছেন, উনি এখানে ইউএন-এর সব কাউন্টারপার্টস এবং বাইল্যাটারাল কাউন্টারপার্টদের সবার কাছ থেকেই সাহায্য চেয়েছেন এই সমস্যার সমাধান করার জন্য। আমাদের ক্যাম্পে যারা আছেন, তাদের জন্য আমাদের আরও ফান্ডস দরকার, সেই ফান্ডসগুলো যেন আসে এবং আমরা সবাইকে উৎসাহিত করছি আমাদেরকে একটি সমাধান খুঁজতে সাহায্য করার জন্য যাতে রিফিউজিরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে।”

ঢাকায় কার্যালয় খোলার বিষয়ে মেটার সঙ্গে আলোচনা

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় তাদের একটি কার্যালয় বা ফোকাল পয়েন্ট স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মেটার কার্যক্রম, সাইবার নিরাপত্তা, ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল হয়রানি কমাতে বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেটা কীভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ঢাকায় কার্যালয় খোলার বিষয়টি মেটা পর্যালোচনা করবে।’