ঢাকা ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে আড়াইহাজার-রূপগঞ্জে উৎসবের আমেজ, বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার–রূপগঞ্জ এলাকায় বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে সৃষ্টি হয় ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল থেকেই সমাবেশস্থলে দলে দলে জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ সমর্থকরা।

হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা নিয়ে, মুখে স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল উৎসবমুখর জনসমুদ্রে। সমাবেশস্থল ছাড়াও আশপাশের সড়ক, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। স্থানীয়দের ভাষায়, “অনেক বছর পর এমন প্রাণবন্ত রাজনৈতিক পরিবেশ দেখা গেল।”

জনসভাটি বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েতের কারণে তারেক রহমানের সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়। ফলে নেতাকর্মীদের অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হয়ে ওঠে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার মধ্যেও কারও মধ্যে বিরক্তি বা ক্লান্তির ছাপ দেখা যায়নি; বরং স্লোগান, গান ও করতালির মাধ্যমে উদ্দীপনা ধরে রাখেন তারা।

অবশেষে শুক্রবার ভোরে তারেক রহমান সমাবেশস্থলে পৌঁছালে মুহূর্তেই পুরো মাঠ বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। “তারেক রহমান এসেছে”, “ভোট দেব ধানের শীষে”—এমন স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নেতাকর্মীরা করতালি, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা ও আবেগঘন অভিবাদনের মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেন। দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি যেন এক মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়।

ভোরে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় তারেক রহমান তার বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভোটাধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল এবং এবার জনগণ সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য প্রস্তুত।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তার বক্তব্য চলাকালে বারবার স্লোগান ও করতালিতে মাঠ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। অনেক নেতাকর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেক সমর্থক জানান, সরাসরি তারেক রহমানকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে তারা নতুন করে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। একজন সমর্থক বলেন, “অনেক বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করেছি। আজকের এই জনসভা আমাদের আশা ও সাহস দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে।”

জনসভা শেষে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলেন, এই বিশাল জনসমাবেশ প্রমাণ করে—তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি এখনও অটুট ও সুসংগঠিত রয়েছে। তারেক রহমানের উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা, আত্মবিশ্বাস এবং ঐক্যের বার্তা দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, আড়াইহাজার–রূপগঞ্জে অনুষ্ঠিত এই জনসভা বিএনপির জন্য ছিল নেতার প্রতি ভালোবাসা, রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন এবং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোবল জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। নেতাকর্মীদের আবেগ, উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশার প্রতিফলন এই জনসভায় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেওয়ার ব্যবস্থা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে আড়াইহাজার-রূপগঞ্জে উৎসবের আমেজ, বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস

প্রকাশ : ০৮:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার–রূপগঞ্জ এলাকায় বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে সৃষ্টি হয় ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল থেকেই সমাবেশস্থলে দলে দলে জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ সমর্থকরা।

হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা নিয়ে, মুখে স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল উৎসবমুখর জনসমুদ্রে। সমাবেশস্থল ছাড়াও আশপাশের সড়ক, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। স্থানীয়দের ভাষায়, “অনেক বছর পর এমন প্রাণবন্ত রাজনৈতিক পরিবেশ দেখা গেল।”

জনসভাটি বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েতের কারণে তারেক রহমানের সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়। ফলে নেতাকর্মীদের অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হয়ে ওঠে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার মধ্যেও কারও মধ্যে বিরক্তি বা ক্লান্তির ছাপ দেখা যায়নি; বরং স্লোগান, গান ও করতালির মাধ্যমে উদ্দীপনা ধরে রাখেন তারা।

অবশেষে শুক্রবার ভোরে তারেক রহমান সমাবেশস্থলে পৌঁছালে মুহূর্তেই পুরো মাঠ বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। “তারেক রহমান এসেছে”, “ভোট দেব ধানের শীষে”—এমন স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নেতাকর্মীরা করতালি, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা ও আবেগঘন অভিবাদনের মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেন। দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি যেন এক মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়।

ভোরে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় তারেক রহমান তার বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভোটাধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল এবং এবার জনগণ সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য প্রস্তুত।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তার বক্তব্য চলাকালে বারবার স্লোগান ও করতালিতে মাঠ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। অনেক নেতাকর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেক সমর্থক জানান, সরাসরি তারেক রহমানকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে তারা নতুন করে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। একজন সমর্থক বলেন, “অনেক বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করেছি। আজকের এই জনসভা আমাদের আশা ও সাহস দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে।”

জনসভা শেষে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলেন, এই বিশাল জনসমাবেশ প্রমাণ করে—তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি এখনও অটুট ও সুসংগঠিত রয়েছে। তারেক রহমানের উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা, আত্মবিশ্বাস এবং ঐক্যের বার্তা দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, আড়াইহাজার–রূপগঞ্জে অনুষ্ঠিত এই জনসভা বিএনপির জন্য ছিল নেতার প্রতি ভালোবাসা, রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন এবং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোবল জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। নেতাকর্মীদের আবেগ, উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশার প্রতিফলন এই জনসভায় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।