ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিপু আপনাদের ছেড়ে যায়নি, আপনারাই তার ভরসা : রূপগঞ্জে আফরোজা আব্বাস

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠ যখন ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তখন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিএনপির এক মানবিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। তিনি বলেন, “দিপু আপনাদের ছেড়ে যায়নি। গত আঠারো বছর ধরে সুখে-দুঃখে আপনাদের পাশে ছিল। আজ দিপুর একটাই চাওয়া—আপনারা তার পাশে থাকবেন। দিপু কখনো আপনাদের কাছে টাকা-পয়সা চায় না। আপনারাই দিপুর অস্ত্র।”

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভা এলাকায় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

আফরোজা আব্বাস বলেন, “আমি হঠাৎ করে এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিই। দিপুকে ফোন দিয়েছিলাম। জানতাম, দিপু আমাকে ছাড়বেই না। তাই এখানে চলে এলাম। আমাদের নির্বাচনী আবহ এখন তৈরি হয়ে গেছে। যদিও এখনো আমি আমার স্বামী মির্জা আব্বাসের নির্বাচনী প্রচারণায় নামিনি, তবে আমার দেবর দিপুর জন্য এখানে আসতে এক মুহূর্তও দেরি করিনি। দিপু মির্জা আব্বাসের ছোট ভাই।”

তিনি আরও বলেন, “গত বছর আমি এখানে এসেছিলাম একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার সময়। একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। তখন আমার চেয়ারম্যান আমাকে বলেছিলেন—আপনি সেখানে যান এবং দিপু যেন আপনার পাশে থাকে। চেয়ারম্যান দিপুকে এতটাই পছন্দ করেন এবং তার ওপর এতটাই আস্থা রাখেন যে কঠিন সময়েও দিপুকে পাশে রাখার নির্দেশ দেন।”

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দমন-পীড়নের কথা স্মরণ করে আফরোজা আব্বাস বলেন, “আমরা টানা আঠারো বছর ঘরে থাকতে পারিনি। হামলা-মামলা, গুম ও খুনের শিকার হয়েছি। আমার স্বামী, আমার দেবররা কারাগারে ছিলেন। আমাদের অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। কিন্তু এত দমন-পীড়নের পরও আমরা মাথা নত করিনি।”

তিনি বলেন, “এই নির্যাতনের জবাব আমরা সহিংসতায় দেবো না। আমরা ব্যালটের মাধ্যমেই জবাব দেবো। আগামী ১২ তারিখ ভোটের মধ্য দিয়েই জনগণ তাদের রায় জানাবে।”

বক্তব্যে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দিপু একা কিছু করতে পারবে না যদি আপনারা পাশে না থাকেন। আপনারাই দিপুর শক্তি, আপনারাই দিপুর সাহস। দিপুর জন্য নয়—নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্যই আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।”

অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিল শেষে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচনী সময় ঘনিয়ে আসায় মানবিক কর্মসূচির পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়াতে এমন আয়োজন আরও জোরদার করা হবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রূপগঞ্জে আফরোজা আব্বাসের এই বক্তব্য শুধু দিপুর পক্ষে সমর্থন আহ্বান নয়, বরং বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ এবং আসন্ন নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে পরিবর্তনের বার্তাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেওয়ার ব্যবস্থা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দিপু আপনাদের ছেড়ে যায়নি, আপনারাই তার ভরসা : রূপগঞ্জে আফরোজা আব্বাস

প্রকাশ : ০৬:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠ যখন ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তখন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিএনপির এক মানবিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। তিনি বলেন, “দিপু আপনাদের ছেড়ে যায়নি। গত আঠারো বছর ধরে সুখে-দুঃখে আপনাদের পাশে ছিল। আজ দিপুর একটাই চাওয়া—আপনারা তার পাশে থাকবেন। দিপু কখনো আপনাদের কাছে টাকা-পয়সা চায় না। আপনারাই দিপুর অস্ত্র।”

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভা এলাকায় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

আফরোজা আব্বাস বলেন, “আমি হঠাৎ করে এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিই। দিপুকে ফোন দিয়েছিলাম। জানতাম, দিপু আমাকে ছাড়বেই না। তাই এখানে চলে এলাম। আমাদের নির্বাচনী আবহ এখন তৈরি হয়ে গেছে। যদিও এখনো আমি আমার স্বামী মির্জা আব্বাসের নির্বাচনী প্রচারণায় নামিনি, তবে আমার দেবর দিপুর জন্য এখানে আসতে এক মুহূর্তও দেরি করিনি। দিপু মির্জা আব্বাসের ছোট ভাই।”

তিনি আরও বলেন, “গত বছর আমি এখানে এসেছিলাম একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার সময়। একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। তখন আমার চেয়ারম্যান আমাকে বলেছিলেন—আপনি সেখানে যান এবং দিপু যেন আপনার পাশে থাকে। চেয়ারম্যান দিপুকে এতটাই পছন্দ করেন এবং তার ওপর এতটাই আস্থা রাখেন যে কঠিন সময়েও দিপুকে পাশে রাখার নির্দেশ দেন।”

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দমন-পীড়নের কথা স্মরণ করে আফরোজা আব্বাস বলেন, “আমরা টানা আঠারো বছর ঘরে থাকতে পারিনি। হামলা-মামলা, গুম ও খুনের শিকার হয়েছি। আমার স্বামী, আমার দেবররা কারাগারে ছিলেন। আমাদের অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। কিন্তু এত দমন-পীড়নের পরও আমরা মাথা নত করিনি।”

তিনি বলেন, “এই নির্যাতনের জবাব আমরা সহিংসতায় দেবো না। আমরা ব্যালটের মাধ্যমেই জবাব দেবো। আগামী ১২ তারিখ ভোটের মধ্য দিয়েই জনগণ তাদের রায় জানাবে।”

বক্তব্যে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দিপু একা কিছু করতে পারবে না যদি আপনারা পাশে না থাকেন। আপনারাই দিপুর শক্তি, আপনারাই দিপুর সাহস। দিপুর জন্য নয়—নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্যই আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।”

অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিল শেষে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচনী সময় ঘনিয়ে আসায় মানবিক কর্মসূচির পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়াতে এমন আয়োজন আরও জোরদার করা হবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রূপগঞ্জে আফরোজা আব্বাসের এই বক্তব্য শুধু দিপুর পক্ষে সমর্থন আহ্বান নয়, বরং বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ এবং আসন্ন নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে পরিবর্তনের বার্তাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।