ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-১১ আসনে নীরব নাহিদ, সক্রিয় কাইয়ুম: শেষ হাসি কার?

বামদিক থেকে কাইয়ুম ও নাহিদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-১১ (রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা) এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, অন্যদিকে এই আসনের পরিচিত মুখ ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম।

ইতোমধ্যে ৩০০ আসনে জমা পড়া মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলাম ও ড. এম এ কাইয়ুম—উভয়ের মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে মাঠের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। বিএনপির প্রচারণা যেখানে সক্রিয় ও দৃশ্যমান, সেখানে নাহিদ ইসলামের সরাসরি নির্বাচনী তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কম।

এনসিপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সমঝোতার পর জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান এবং নাহিদ ইসলামকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। এতে করে জামায়াত-এনসিপি জোটের ভোটব্যাংক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। তবে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঢাকা-১১ আসনে এই জোট কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই এখনো নাহিদ ইসলামকে এলাকায় সরাসরি প্রচারণায় দেখেননি। মধ্য বাড্ডা ও রামপুরার একাধিক ভোটার জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এম এ কাইয়ুমকে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হিসেবে চেনেন। অন্যদিকে তরুণ ভোটারদের একটি অংশ জুলাই আন্দোলনে নাহিদ ইসলামের ভূমিকার কারণে তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন।

এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “নাহিদ ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছেন, আমি তাকে খাটো করে দেখছি না। তবে আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় কাজ করেছি, মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আছে। ইনশাআল্লাহ ভোটাররা তার প্রতিফলন দেখাবেন।”

অন্যদিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “দলীয় ও জাতীয় ইস্যুতে ব্যস্ততার কারণে এখনো ঢাকা-১১ আসনে পুরোপুরি সময় দেওয়া হয়নি। তবে এখন থেকে নিয়মিত গণসংযোগে নামবো। আল্লাহ ভরসা।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভর করেই এনসিপি এগোতে চায়। তবে ভোটের ফল নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, ভোটার উপস্থিতি এবং জোটের মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার ওপর।

ভোটের এখনো প্রায় এক মাস বাকি। কৌশলে আসতে পারে বড় পরিবর্তন। নীরব থেকেও নাহিদ ইসলাম চমক দেখাতে পারবেন, নাকি বিএনপির শক্ত অবস্থানই শেষ পর্যন্ত এম এ কাইয়ুমকে এগিয়ে রাখবে—সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে গ্যালারিতে জাইমা রহমান

ঢাকা-১১ আসনে নীরব নাহিদ, সক্রিয় কাইয়ুম: শেষ হাসি কার?

প্রকাশ : ০৭:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-১১ (রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা) এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, অন্যদিকে এই আসনের পরিচিত মুখ ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম।

ইতোমধ্যে ৩০০ আসনে জমা পড়া মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলাম ও ড. এম এ কাইয়ুম—উভয়ের মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে মাঠের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। বিএনপির প্রচারণা যেখানে সক্রিয় ও দৃশ্যমান, সেখানে নাহিদ ইসলামের সরাসরি নির্বাচনী তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কম।

এনসিপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সমঝোতার পর জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান এবং নাহিদ ইসলামকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। এতে করে জামায়াত-এনসিপি জোটের ভোটব্যাংক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। তবে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঢাকা-১১ আসনে এই জোট কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই এখনো নাহিদ ইসলামকে এলাকায় সরাসরি প্রচারণায় দেখেননি। মধ্য বাড্ডা ও রামপুরার একাধিক ভোটার জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এম এ কাইয়ুমকে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হিসেবে চেনেন। অন্যদিকে তরুণ ভোটারদের একটি অংশ জুলাই আন্দোলনে নাহিদ ইসলামের ভূমিকার কারণে তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন।

এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “নাহিদ ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছেন, আমি তাকে খাটো করে দেখছি না। তবে আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় কাজ করেছি, মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আছে। ইনশাআল্লাহ ভোটাররা তার প্রতিফলন দেখাবেন।”

অন্যদিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “দলীয় ও জাতীয় ইস্যুতে ব্যস্ততার কারণে এখনো ঢাকা-১১ আসনে পুরোপুরি সময় দেওয়া হয়নি। তবে এখন থেকে নিয়মিত গণসংযোগে নামবো। আল্লাহ ভরসা।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভর করেই এনসিপি এগোতে চায়। তবে ভোটের ফল নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, ভোটার উপস্থিতি এবং জোটের মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার ওপর।

ভোটের এখনো প্রায় এক মাস বাকি। কৌশলে আসতে পারে বড় পরিবর্তন। নীরব থেকেও নাহিদ ইসলাম চমক দেখাতে পারবেন, নাকি বিএনপির শক্ত অবস্থানই শেষ পর্যন্ত এম এ কাইয়ুমকে এগিয়ে রাখবে—সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন।