স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর ও আইনানুগ অবস্থানে রয়েছে। তিনি জানান, একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত এই সরকারের ওপর জনগণের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নাজুক পরিস্থিতি কাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুনর্গঠনের কাজ চলছে।
আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে “বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি”-এর সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা সবই আইনানুগভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। বাধ্যতামূলক অবসরের ক্ষেত্রেও অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই শেষে বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত অপরাধীদের বিষয়ে তিনি বলেন, জামিন একটি আইনি বিষয় হলেও তারা যাতে পুনরায় অপরাধে জড়াতে না পারে সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মন্ত্রী জানান, ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। এতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বড় সিন্ডিকেট ও চোরাচালান চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে ঐতিহ্যবাহী ধাঁচ বজায় রেখে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শার্টের রঙ অপরিবর্তিত থাকলেও প্যান্টে ‘খাকি’ রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শিগগিরই কার্যকর হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জয়েন্ট ফোর্সের কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম কার্যকর ও প্রাণবন্ত অধিবেশন। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক বিতর্ক এবং রেকর্ডসংখ্যক আইন প্রণয়ন গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম ভোর ডেস্ক,ঢাকা 








