ঢাকা ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরি যাচ্ছে হারুনসহ আরও ৬৩ পুলিশ কর্মকর্তা

দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দুর্নীতি, অসদাচরণ ও নাশকতার অভিযোগে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ৬৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া জোরালো করেছে সরকার। এই তালিকায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি), ডিআইজি এবং অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ইতোমধ্যে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা জেলার সাবেক এসপি মো. আসাদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলমসহ ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে যারা পলাতক রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩৩ জন কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ছাত্র-জনতার ওপর বেআইনিভাবে গুলি চালানো এবং পতিত সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তাদের অনেকেই পার্শ্ববর্তী দেশসহ আমেরিকা ও ইউরোপে পালিয়ে গেছেন। কাজে ফেরার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি।

পলাতক এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিত রংপুরের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি নূরে আলম মিনা, রাজশাহী রেঞ্জের এসপি জেসমিন কেকা ও আয়েশা সিদ্দিকা প্রমুখ।

পলায়ন ছাড়াও অসদাচরণ, দুর্নীতি ও নাশকতার অভিযোগে আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, সাবেক ডিআইজি কাজী মনিরুজ্জামান এবং এ কে এম এহসানউল্লাহর মতো আলোচিত কর্মকর্তারা।

এছাড়া আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর খুলনা রেঞ্জে সংযুক্ত মুহাম্মদ মেহেদী হাসানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নাশকতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জুলাই-আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বেশ কিছু কর্মকর্তার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও চলছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ের ওপর ভিত্তি করেই এসব কর্মকর্তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুসরণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তদন্ত ও কারণ দর্শানোর নোটিশের পর সন্তোষজনক জবাব না মেলায় চাকরিচ্যুতির চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত বরখাস্তের আগে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে অন্তত ১৫টি সার-সংক্ষেপ পিএসসি ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন মাদকবিরোধী অভিযানের বৈধতা নিয়ে জাতিসংঘের প্রশ্ন

চাকরি যাচ্ছে হারুনসহ আরও ৬৩ পুলিশ কর্মকর্তা

প্রকাশ : ০৪:০৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দুর্নীতি, অসদাচরণ ও নাশকতার অভিযোগে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ৬৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া জোরালো করেছে সরকার। এই তালিকায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি), ডিআইজি এবং অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ইতোমধ্যে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা জেলার সাবেক এসপি মো. আসাদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলমসহ ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে যারা পলাতক রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩৩ জন কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ছাত্র-জনতার ওপর বেআইনিভাবে গুলি চালানো এবং পতিত সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তাদের অনেকেই পার্শ্ববর্তী দেশসহ আমেরিকা ও ইউরোপে পালিয়ে গেছেন। কাজে ফেরার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি।

পলাতক এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিত রংপুরের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি নূরে আলম মিনা, রাজশাহী রেঞ্জের এসপি জেসমিন কেকা ও আয়েশা সিদ্দিকা প্রমুখ।

পলায়ন ছাড়াও অসদাচরণ, দুর্নীতি ও নাশকতার অভিযোগে আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, সাবেক ডিআইজি কাজী মনিরুজ্জামান এবং এ কে এম এহসানউল্লাহর মতো আলোচিত কর্মকর্তারা।

এছাড়া আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর খুলনা রেঞ্জে সংযুক্ত মুহাম্মদ মেহেদী হাসানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নাশকতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জুলাই-আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বেশ কিছু কর্মকর্তার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও চলছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ের ওপর ভিত্তি করেই এসব কর্মকর্তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুসরণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তদন্ত ও কারণ দর্শানোর নোটিশের পর সন্তোষজনক জবাব না মেলায় চাকরিচ্যুতির চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত বরখাস্তের আগে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে অন্তত ১৫টি সার-সংক্ষেপ পিএসসি ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।