নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতাই যে দেশের উন্নয়নের ভিত্তি, বিএনপি সরকার তা বিশ্বাস করে বলে বর্ণনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে যে দেশের উন্নয়নের ভিত্তি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। একজন নারীর উপার্জন করা, সঞ্চয় করা এবং আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার পছন্দের পরিধি বাড়ায় এবং পরিবারের প্রতিরোধ ক্ষমতা বা সহনশীলতাকে শক্তিশালী করে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জুবাইদা রহমান বক্তব্য রাখছিলেন।
নারী নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নবিষয়ক এই সেমিনারে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কেবল আয়ের চেয়েও বেশি কিছু; এটি নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করার ক্ষমতাও। এজন্য নানা কারণে কর্মস্থল থেকে ঝরে যাওয়ার পর ফের নারীর ফিরে আসার সুযোগ রাখার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের প্রবর্তনকে এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে, যাদের ৮০ শতাংশ হবে নারী। তারা ‘সুস্থতার বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে রোগ প্রতিরোধের বার্তা বহন করবেন, যেখানে প্রত্যেকের স্বাস্থ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ দেশের নারী ও শিশুদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবার দিকে আরও একটি পদক্ষেপ বলেও তুলে ধরেন জুবাইদা রহমান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রে নারীর সামনে থাকা বাধার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য।
তার ভাষ্য, সকল সমাজে নারী নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা অর্থনৈতিক অগ্রগতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে। জুবাইদা রহমান বলেন, আজ যখন আমরা এখানে কথা বলছি, বাংলাদেশের ৯০ হাজার ৪৯টি গ্রামের লাখ লাখ নারী মূলধারার অর্থনীতি থেকে বাদ পড়ে আছেন। তারা অবদান রাখতে ও কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, যোগ করেন তিনি।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি মনে করেন, একটি ডিগ্রি অর্জন করলেই চাকরির নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। তাই স্কুল শেষ করা থেকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা দরকার।
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী বলেন, তারেক রহমান ও বিএনপি সরকার শিক্ষাকে মূল ভিত্তি মনে করে। সরকার স্নাতক পর্যন্ত মেয়ে ও নারীদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি স্মরণ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। শিশুদের, বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে নেতৃত্বগুণ বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালুর কথাও বলেন তিনি।
নারীরা যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, সে জন্য সারা দেশে ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ চালুতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি তুলে ধরেন। জুবাইদা রহমান বলেন, পারিবারিক দায়িত্ব যেন কোনো নারীর ক্যারিয়ারের জন্য বাধা বা দণ্ড না হয়ে ওঠে।
ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে নারীর ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল সেবা এবং নতুন প্রযুক্তি কাজের ধরণ বদলে দিচ্ছে। নারীদের অংশগ্রহণ ও মতামতে গড়া ভবিষ্যৎ অর্থনীতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনী হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
অগ্রগতি ‘একটি যৌথ দায়িত্ব বলে তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষাকে নানা সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে, পরিবার মেয়েদের বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহ দিতে পারে। শুধু কতজন নারী উচ্চপদে পৌঁছেছেন, তাকে অগ্রগতির মাপকাঠি না ধরে, কতজন তাদের অনুসরণ করতে পারছেন এবং সুযোগ সব শ্রেণির নারীর জন্য উন্মুক্ত কি না, সেটিও বিবেচ্য।
তিনি বলেন, আমরা আকাঙ্ক্ষাকে সুযোগে, সুযোগকে নেতৃত্বে এবং নেতৃত্বকে বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে পরিণত করতে পারি। সেমিনারে ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী, ওরাকল বাংলাদেশ–নেপাল–ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা অংশ নেন।
সকালে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ ও মার্কিন দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে ত্রিংশ ইউএস ট্রেড শোর উদ্বোধন করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তিন দিনের এই বাণিজ্য প্রদর্শনী শনিবার পর্যন্ত চলবে।
প্রদর্শনীতে এবার সাতটি জোন করা হয়েছে, এর মধ্যে মার্কিন পণ্য কেনার জন্য ‘কার্নিভাল হল’, ‘হেরিটেজ কর্নার’ও ‘স্টার্ট-আপ’ জোন রয়েছে। ৩৬টি কোম্পানি ও সাতটি স্টার্টআপ এ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে। সব মিলিয়ে বুথ রয়েছে ৬৩টি।
অংশগ্রহণকারী বা প্রতিনিধিত্বকারী মার্কিন কোম্পানিগুলোর মধ্যে আছে ক্যাটারপিলার, শেভরন, এক্সন মবিল, মেটলাইফ, সিটি গ্রুপ, মাস্টারকার্ড, ভিসা, কোলগেট-পামোলিভ, ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল, পেপসিকো, কস্টকো হোলসেল ক্লাব, পিপিজি, ইউপিএস ও কারগিল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















