বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। রাশিয়ার ওপর আরোপের পরিকল্পনা করা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরই বিশ্ববাজারে এই প্রভাব পড়ে। এর প্রেক্ষিতে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই তেলের দামে স্পষ্ট পতন লক্ষ্য করা গেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। এতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য নেমে আসে ১০৭ দশমিক ৯২ মার্কিন ডলারে। এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিশেষ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।
ওই আদেশের মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর কার্যকর হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা বেশ কিছু পরিকল্পিত নিষেধাজ্ঞা বাতিল ঘোষণা করা হয়। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মূলত রুশ পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ এবং বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস ক্রয়ের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মতো কঠোর বিধিনিষেধ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং সমুদ্রপথে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এই সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছে যায়, যা ওই বছরের মে মাসের পর সর্বোচ্চ ছিল।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে রুশ তেলের সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রুশ তেল ও গ্যাসের ওপর থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার খড়্গ সরে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ আগের চেয়ে স্থিতিশীল থাকবে। সরবরাহ নিয়ে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের সেই উৎকণ্ঠা হ্রাস পাওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে এই ইতিবাচক নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

















