ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে চার খুনের ঘটনায় হত্যার স্থান, সময় ও কারণ নিয়ে পুলিশ কমিশনারের নতুন ভাষ্য

  • রংপুর সংবাদদাতা
  • প্রকাশ : ০৫:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৫১৪ বার পড়া হয়েছে

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে বাসার তৃতীয় তলার খোলা ছাদে হত্যা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। তাঁর বক্তব্য, পরে মা ও মেয়ের লাশ ছাদের গেটের ভেতরে সিঁড়িতে সরিয়ে রাখা হয়, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে দেখা না যায়। ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী ঘুম থেকে উঠে আসামি সিদ্ধার্থ দাসকে দেখে ফেললে তাকেও হত্যা করা হয়।

বৃহস্পতিবার(২৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় রংপুর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মাবুদ এসব তথ্য জানান।

পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনের জন্য যেতেন গ্রেপ্তার দুই তরুণ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। পাশের বাড়ির ছাদ ফাঁকা থাকলেও গণপতি চক্রবর্তীর ছাদে দেয়াল থাকায় বাইরে থেকে সহজে দেখা যেত না। এ কারণে তাঁরা পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে ইয়াবা সেবন করতেন।

সিদ্ধার্থর জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আটটি ইয়াবা সেবন করেন। এটি তাঁদের জীবনে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা সেবনের ঘটনা। দিনের আলো ফোটার পর সকালে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে গিয়ে তাঁদের দেখে ফেলেন। তিনি ধমক দিয়ে বলেন, ‘তোরা এত সকালে কী করিস?’ তখন তাঁদের মাথা কাজ করছিল না। আত্মসম্মানের ভয়ে তাঁরা গণপতি চক্রবর্তীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে টান দিয়ে তাঁকে হত্যা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মাবুদ আরও বলেন, ‘সম্ভবত স্যারের (গণপতি চক্রবর্তী) স্ত্রী ও মেয়ে শব্দ পেয়ে তখন ছাদে চলে আসেন। তাঁরা চিৎকার করলে মুগ্ধ গণপতির গলায় থাকা গামছা দিয়ে স্ত্রীর গলা চেপে ধরেন। আর সিদ্ধার্থ এক হাতে মেয়ের গলা এবং অন্য হাতে তাঁর মুখ চেপে ধরেন। পরে দুজন মিলে গামছা দিয়ে মেয়ের গলায় পেঁচিয়ে ধরেন। তাতেও তাঁর মৃত্যু না হলে কবুতরের খাবার রাখার বাক্সের পাশ থেকে রশি এনে গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেন।’

এরপর ছাদে পাওয়া একটি পুরোনো প্লাস (বৈদ্যুতিক তার কাটার যন্ত্র) নিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নিচতলায় যান এবং বিদ্যুতের তার কেটে দেন। পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে সেটি যাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সে কারণে তাঁরা বিদ্যুতের তার কেটে দেন।

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, এরপর সিদ্ধার্থ আবার ছাদে গিয়ে মুগ্ধকে সঙ্গে নিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী ও মেয়ের লাশ ছাদের গেটের ভেতরে সিঁড়ির দিকে রেখে দেন। পাশের বাড়ির ছাদ মাত্র দুই ফুট দূরে হলেও সেখান থেকে যেন লাশ দেখা না যায়, সে জন্য এভাবে রাখা হয়। দুই তরুণ গণপতি চক্রবর্তীর কক্ষে ঢোকার পর তাঁর ছেলে আয়ুশ ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধার্থকে দেখে ফেলে। শিশুটি সিদ্ধার্থকে দেখে জিজ্ঞাসা করে, ‘সিদ্ধার্থ দাদা, তুমি এখানে কেন?’ পাশের বাড়ির কেউ শব্দ শুনে ফেলতে পারে-এমন আশঙ্কায় কাপড় দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শিশুটিকেও হত্যা করা হয়।

আগের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নতা

গত রোববার একই স্থানে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার গ্রেপ্তার দুই তরুণের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলেছিলেন, গণপতি চক্রবর্তীকে ভোরে বাসার ছাদে, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে তিনতলার সিঁড়িতে এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। তখন বলা হয়েছিল, ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটির ওপর হামলা চালানো হয়।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে কমিশনার বলেন, ‘আমরা এর আগে বলেছিলাম বাচ্চাটা ঘুমিয়ে ছিল, তারা ঘুমন্ত বাচ্চার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে—এটা তাদের থেকে যেটুকু আমরা বক্তব্য পেয়েছিলাম, তখন আমরা সেটুকু বলেছিলাম। কোর্টে গিয়ে তারা বলেছে, বিজ্ঞ আদালতে তারা স্বীকারোক্তি দিয়েছে, বাচ্চাটা ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধার্থকে দেখে।’

হত্যার কারণেও নতুন তথ্য

হত্যার কারণ নিয়ে আগের বক্তব্য থেকে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। গত রোববার তিনি বলেছিলেন, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে দুই তরুণ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে আজ তিনি বলেন, ইয়াবা সেবনে বাধার পাশাপাশি গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে সিদ্ধার্থর অসন্তোষও থাকতে পারে।

সিদ্ধার্থ দাসের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে আব্দুল মাবুদ বলেন, গণপতি চক্রবর্তীরা সিদ্ধার্থর পূর্বপুরুষের জমি কিনেছিলেন। সেই জমি তুলনামূলক বেশি দামে কেনা হলেও সিদ্ধার্থের পরিবারের শরিকেরা তাঁদের প্রাপ্য টাকা পাননি—এমন একটি বিষয় তাঁরা তদন্ত করে দেখছেন। এ নিয়ে সিদ্ধার্থের মনে ক্ষোভ থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টিও তদন্তে দেখা হচ্ছে বলে আজ সংবাদ সম্মেলনে জানান পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, মাছুয়াপাড়ার অধিকাংশ বাসিন্দা দাস বংশের এবং গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের। তাঁদের মধ্যে রাস্তাঘাটে দেখাসাক্ষাৎ হলেও বাসায় যাতায়াত বা ঘনিষ্ঠ মেলামেশা ছিল না। এটিও দুই তরুণের মনে কোনো ক্ষোভের কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রশ্নের মুখে সংবাদ সম্মেলন

লিখিত বক্তব্য পাঠ করার পর পুলিশ কমিশনারকে প্রশ্ন করতে থাকেন সাংবাদিকেরা। তবে তিনি মাত্র দুটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দ্রুত সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। এতে হত্যাকাণ্ডের স্থান, সময় ও কারণ নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে পরিবর্তনের বিষয়ে আর কোনো প্রশ্নের সুযোগ না থাকায় সাংবাদিকেরা প্রতিক্রিয়া জানান।

পুলিশ কমিশনারের উদ্দেশে একজন গণমাধ্যমকর্মীকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘যদি প্রশ্নের জবাব দিতে না পারেন, তাহলে অফিসে নিজের বক্তব্য ভিডিও করেই পাঠাতে পারতেন।’

গত শনিবার রাতে রংপুর নগরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

রংপুরে চার খুনের ঘটনায় হত্যার স্থান, সময় ও কারণ নিয়ে পুলিশ কমিশনারের নতুন ভাষ্য

প্রকাশ : ০৫:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে বাসার তৃতীয় তলার খোলা ছাদে হত্যা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। তাঁর বক্তব্য, পরে মা ও মেয়ের লাশ ছাদের গেটের ভেতরে সিঁড়িতে সরিয়ে রাখা হয়, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে দেখা না যায়। ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী ঘুম থেকে উঠে আসামি সিদ্ধার্থ দাসকে দেখে ফেললে তাকেও হত্যা করা হয়।

বৃহস্পতিবার(২৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় রংপুর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মাবুদ এসব তথ্য জানান।

পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনের জন্য যেতেন গ্রেপ্তার দুই তরুণ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। পাশের বাড়ির ছাদ ফাঁকা থাকলেও গণপতি চক্রবর্তীর ছাদে দেয়াল থাকায় বাইরে থেকে সহজে দেখা যেত না। এ কারণে তাঁরা পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে ইয়াবা সেবন করতেন।

সিদ্ধার্থর জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আটটি ইয়াবা সেবন করেন। এটি তাঁদের জীবনে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা সেবনের ঘটনা। দিনের আলো ফোটার পর সকালে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে গিয়ে তাঁদের দেখে ফেলেন। তিনি ধমক দিয়ে বলেন, ‘তোরা এত সকালে কী করিস?’ তখন তাঁদের মাথা কাজ করছিল না। আত্মসম্মানের ভয়ে তাঁরা গণপতি চক্রবর্তীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে টান দিয়ে তাঁকে হত্যা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মাবুদ আরও বলেন, ‘সম্ভবত স্যারের (গণপতি চক্রবর্তী) স্ত্রী ও মেয়ে শব্দ পেয়ে তখন ছাদে চলে আসেন। তাঁরা চিৎকার করলে মুগ্ধ গণপতির গলায় থাকা গামছা দিয়ে স্ত্রীর গলা চেপে ধরেন। আর সিদ্ধার্থ এক হাতে মেয়ের গলা এবং অন্য হাতে তাঁর মুখ চেপে ধরেন। পরে দুজন মিলে গামছা দিয়ে মেয়ের গলায় পেঁচিয়ে ধরেন। তাতেও তাঁর মৃত্যু না হলে কবুতরের খাবার রাখার বাক্সের পাশ থেকে রশি এনে গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেন।’

এরপর ছাদে পাওয়া একটি পুরোনো প্লাস (বৈদ্যুতিক তার কাটার যন্ত্র) নিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নিচতলায় যান এবং বিদ্যুতের তার কেটে দেন। পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে সেটি যাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সে কারণে তাঁরা বিদ্যুতের তার কেটে দেন।

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, এরপর সিদ্ধার্থ আবার ছাদে গিয়ে মুগ্ধকে সঙ্গে নিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী ও মেয়ের লাশ ছাদের গেটের ভেতরে সিঁড়ির দিকে রেখে দেন। পাশের বাড়ির ছাদ মাত্র দুই ফুট দূরে হলেও সেখান থেকে যেন লাশ দেখা না যায়, সে জন্য এভাবে রাখা হয়। দুই তরুণ গণপতি চক্রবর্তীর কক্ষে ঢোকার পর তাঁর ছেলে আয়ুশ ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধার্থকে দেখে ফেলে। শিশুটি সিদ্ধার্থকে দেখে জিজ্ঞাসা করে, ‘সিদ্ধার্থ দাদা, তুমি এখানে কেন?’ পাশের বাড়ির কেউ শব্দ শুনে ফেলতে পারে-এমন আশঙ্কায় কাপড় দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শিশুটিকেও হত্যা করা হয়।

আগের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নতা

গত রোববার একই স্থানে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার গ্রেপ্তার দুই তরুণের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলেছিলেন, গণপতি চক্রবর্তীকে ভোরে বাসার ছাদে, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে তিনতলার সিঁড়িতে এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। তখন বলা হয়েছিল, ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটির ওপর হামলা চালানো হয়।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে কমিশনার বলেন, ‘আমরা এর আগে বলেছিলাম বাচ্চাটা ঘুমিয়ে ছিল, তারা ঘুমন্ত বাচ্চার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে—এটা তাদের থেকে যেটুকু আমরা বক্তব্য পেয়েছিলাম, তখন আমরা সেটুকু বলেছিলাম। কোর্টে গিয়ে তারা বলেছে, বিজ্ঞ আদালতে তারা স্বীকারোক্তি দিয়েছে, বাচ্চাটা ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধার্থকে দেখে।’

হত্যার কারণেও নতুন তথ্য

হত্যার কারণ নিয়ে আগের বক্তব্য থেকে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। গত রোববার তিনি বলেছিলেন, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে দুই তরুণ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে আজ তিনি বলেন, ইয়াবা সেবনে বাধার পাশাপাশি গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে সিদ্ধার্থর অসন্তোষও থাকতে পারে।

সিদ্ধার্থ দাসের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে আব্দুল মাবুদ বলেন, গণপতি চক্রবর্তীরা সিদ্ধার্থর পূর্বপুরুষের জমি কিনেছিলেন। সেই জমি তুলনামূলক বেশি দামে কেনা হলেও সিদ্ধার্থের পরিবারের শরিকেরা তাঁদের প্রাপ্য টাকা পাননি—এমন একটি বিষয় তাঁরা তদন্ত করে দেখছেন। এ নিয়ে সিদ্ধার্থের মনে ক্ষোভ থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টিও তদন্তে দেখা হচ্ছে বলে আজ সংবাদ সম্মেলনে জানান পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, মাছুয়াপাড়ার অধিকাংশ বাসিন্দা দাস বংশের এবং গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের। তাঁদের মধ্যে রাস্তাঘাটে দেখাসাক্ষাৎ হলেও বাসায় যাতায়াত বা ঘনিষ্ঠ মেলামেশা ছিল না। এটিও দুই তরুণের মনে কোনো ক্ষোভের কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রশ্নের মুখে সংবাদ সম্মেলন

লিখিত বক্তব্য পাঠ করার পর পুলিশ কমিশনারকে প্রশ্ন করতে থাকেন সাংবাদিকেরা। তবে তিনি মাত্র দুটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দ্রুত সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। এতে হত্যাকাণ্ডের স্থান, সময় ও কারণ নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে পরিবর্তনের বিষয়ে আর কোনো প্রশ্নের সুযোগ না থাকায় সাংবাদিকেরা প্রতিক্রিয়া জানান।

পুলিশ কমিশনারের উদ্দেশে একজন গণমাধ্যমকর্মীকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘যদি প্রশ্নের জবাব দিতে না পারেন, তাহলে অফিসে নিজের বক্তব্য ভিডিও করেই পাঠাতে পারতেন।’

গত শনিবার রাতে রংপুর নগরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।