ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে দুই আসনে দুই চিত্র: রূপগঞ্জে জমজমাট প্রচারণা, আড়াইহাজারে নির্বাচনী নীরবতা

নারায়ণগঞ্জ জেলার রাজনীতির মাঠে এখন নির্বাচনী হাওয়া বইছে। তবে এই হাওয়ার গতি সব আসনে একরকম নয়। নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) ও নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে একই জেলার ভেতরেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দুই রকম নির্বাচনী বাস্তবতা।

রূপগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উঠান বৈঠক, পথসভা ও মতবিনিময় সভা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পদচারণায় মুখরিত পুরো এলাকা। প্রার্থীরা সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, তুলে ধরছেন নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি।

এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। প্রায় প্রতিদিনই তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। তার সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। পোস্টার, লিফলেট ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা আরও জোরদার করা হয়েছে।

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসাইন মোল্লাও নিয়মিত গণসংযোগ ও পথসভা করছেন। তার উপস্থিতিতে রূপগঞ্জের নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ এখনো সেভাবে মাঠে নামেননি। ভোটারদের সঙ্গে তার দৃশ্যমান গণসংযোগ বা বড় কোনো সভা চোখে পড়েনি। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও কিছুটা হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। তবে তার প্রচারণাও খুব একটা জোরালো নয়। মাঝে মাঝে এলাকায় উপস্থিত থাকলেও বড় ধরনের সভা বা ব্যাপক গণসংযোগে তাকে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না।

এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লার প্রচারণাও সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী উত্তেজনা তেমন তৈরি হয়নি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রূপগঞ্জে যেখানে চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লা সর্বত্র নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে, সেখানে আড়াইহাজারে এখনো সেই আমেজ দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীদের মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি না থাকলে ভোটের দিন এর প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের দুইটি সংসদীয় আসনে একই জেলার ভেতরেই দুই রকম নির্বাচনী বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রূপগঞ্জে যেখানে প্রতিযোগিতার উত্তাপে মাঠ গরম, সেখানে আড়াইহাজারে এখনো সেই উত্তাপ ছড়াতে পারেনি। সামনে দিনগুলোতে এই চিত্র বদলায় কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিহত হওয়ার গুঞ্জনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহুর বার্তা

নারায়ণগঞ্জে দুই আসনে দুই চিত্র: রূপগঞ্জে জমজমাট প্রচারণা, আড়াইহাজারে নির্বাচনী নীরবতা

প্রকাশ : ১০:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ জেলার রাজনীতির মাঠে এখন নির্বাচনী হাওয়া বইছে। তবে এই হাওয়ার গতি সব আসনে একরকম নয়। নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) ও নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে একই জেলার ভেতরেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দুই রকম নির্বাচনী বাস্তবতা।

রূপগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উঠান বৈঠক, পথসভা ও মতবিনিময় সভা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পদচারণায় মুখরিত পুরো এলাকা। প্রার্থীরা সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, তুলে ধরছেন নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি।

এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। প্রায় প্রতিদিনই তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। তার সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। পোস্টার, লিফলেট ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা আরও জোরদার করা হয়েছে।

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসাইন মোল্লাও নিয়মিত গণসংযোগ ও পথসভা করছেন। তার উপস্থিতিতে রূপগঞ্জের নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ এখনো সেভাবে মাঠে নামেননি। ভোটারদের সঙ্গে তার দৃশ্যমান গণসংযোগ বা বড় কোনো সভা চোখে পড়েনি। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও কিছুটা হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। তবে তার প্রচারণাও খুব একটা জোরালো নয়। মাঝে মাঝে এলাকায় উপস্থিত থাকলেও বড় ধরনের সভা বা ব্যাপক গণসংযোগে তাকে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না।

এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লার প্রচারণাও সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী উত্তেজনা তেমন তৈরি হয়নি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রূপগঞ্জে যেখানে চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লা সর্বত্র নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে, সেখানে আড়াইহাজারে এখনো সেই আমেজ দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীদের মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি না থাকলে ভোটের দিন এর প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের দুইটি সংসদীয় আসনে একই জেলার ভেতরেই দুই রকম নির্বাচনী বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রূপগঞ্জে যেখানে প্রতিযোগিতার উত্তাপে মাঠ গরম, সেখানে আড়াইহাজারে এখনো সেই উত্তাপ ছড়াতে পারেনি। সামনে দিনগুলোতে এই চিত্র বদলায় কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।