কুমিল্লার কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে তিন দিনের রিমান্ড শেষে হাফিজুরকে মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক আব্দুল্লাহ আমান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান।
নওগাঁয় এক পরিবারে চার খুন: বাবা-ছেলের পরিকল্পনায় হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার হাফিজুরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।”
পুলিশ জানায়, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে বুধবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।
আদালত থেকে জানা যায়, মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে আদালত থেকে সম্প্রতি পিবিআইকে চিঠি দেওয়া হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা ৬ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য অনুমতি চান। পরে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
এ পর্যন্ত মামলার ৮০টি ধার্য তারিখ পার হয়েছে এবং চারটি সংস্থার সাত তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি পরিচালনা করেছেন বলে জানা গেছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি।
প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
প্রথম ভোর ডেস্ক,ঢাকা 


















