দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এশিয়ান টিভি পা রাখল তার গৌরবময় ১৪ বছরে। বর্ণাঢ্য আয়োজন, কেক কাটা, আলোচনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর গুলশান শুটিংক্লাবে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান টিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিক, কলাকুশলীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। শুরুতেই ফুলেল শুভেচ্ছা ও অনুভূতি প্রকাশ, আর ফাঁকে ফাঁকে কেক কেটে উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক খ্যাতনামা ব্যক্তিরা শুরুতেই এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তারা এশিয়ান টিভির যাত্রাপথ, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
শুভেচ্ছা জানাতে আসা রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের খ্যাতনামা ব্যক্তিরা বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এশিয়ান টিভি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং বিনোদনের সমন্বয়ে দর্শকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সংবাদ, নাটক, টকশো ও নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চ্যানেলটি ইতিমধ্যে দেশে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি ও কনটেন্টে নতুনত্ব আনতে কাজ করে যাচ্ছে এশিয়ান টিভি। ডিজিটাল প্ল্যাটফরমেও নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করে তরুণ দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এশিয়ান টিভির চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল ১৩ বছরের পথচলায় দর্শক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও মানসম্মত ও দায়িত্বশীল সম্প্রচার অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গণমাধ্যমের এ প্রতিযোগিতামূলক সময়ে এশিয়ান টিভির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল একটি উদযাপন নয়, বরং নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার এক দৃঢ় অঙ্গীকার এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘যত বড় বড় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আছে, তা মূলত সমাজ ও রাজনীতিকে বিনির্মাণের কাজে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমন উদ্যোক্তারা জড়িত থাকেন, তারা কেউ-ই গণমাধ্যমের মালিক হওয়ার কারণে পৃথিবীর ধনীদের তালিকায় তাদের নাম ওঠে না। কিন্তু গণমাধ্যমের এই উদ্যোক্তার দায়িত্ব সমাজের প্রত্যেকটি মানুষকে সচেতন করা এবং সমাজের প্রত্যেকটা মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা। এর জন্য একটা আলাদা প্যাশন লাগে। আমি বিশ্বাস করতে চাই এশিয়ান টিভির মালিকদের অন্যান্য যে ব্যবসা থাকুক না কেন, এই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে তারা জনগণের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করবেন এবং এর বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষতাকে তারা সেভাবেই রক্ষা করার চেষ্টা করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো দেশগুলোয় সাম্প্রতিককালের একটি প্রবণতা হচ্ছে গণমাধ্যমকে একটা ইনস্ট্রুমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা। সেটি যেমন ক্ষমতার প্রতিযোগিতা হতে পারে, সেটি তেমনি বাণিজ্যিক ফায়দা তোলার জন্যও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমি আজকের এই শুভদিনে বিশ্বাস করতে চাই এশিয়ান টিভির ভবিষ্যৎ যাত্রায় তার প্রধান মোটিভ থাকবে সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতাকে হাজির করে দেওয়া। কারণ সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের প্রধান বিষয়।’
জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, এশিয়ান টিভি আগামী দিনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আপনাদের সবাইকে আবারও ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং আপনাদের যাত্রাপথে আপনারা আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। জাতির প্রত্যাশা পূরণ করবেন এবং কঠিন দুঃসময়েও সত্যের পক্ষে থাকবেন। মাথা নত করবেন না এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘আমি আশা করি দেশ গঠনে এশিয়ান টিভি, দেশ রূপান্তর ও মুকুল সাহেব একটা বিশাল ভূমিকা রাখতে পারেন। কারণ মিডিয়াই জাতির দর্পণ। যদিও মিডিয়া আনথ্যাঙ্কফুল জব।’
তিনি বলেন, ‘মিডিয়া একমাত্র জায়গা যেখানে দেশ-জাতি ও মানুষ সম্পর্কে বলা যায়। সবার কাছে আমার অনুরোধ রইল আপনারা মিডিয়ার সমালোচনা সহ্য করবেন, ইভেন সরকারও যেন মিডিয়ার সমালোচনা সহ্য করতে পারে, সেটি আমি সরকারকে অনুরোধ জানাব।’
রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান ও এশিয়ান টেলিভিশনের পরিচালক মাহির আলী খান রাতুল বলেন, নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এশিয়ান টিভি ১৪ বছরে পদার্পণ করেছে। এই পথচলায় আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের দেশ-বিদেশে থাকা সব দর্শক-বিজ্ঞাপনদাতা, ক্যাবল অপারেটর এবং শুভানুধ্যায়ীদের। নতুন বছরে এশিয়ান টিভিকে আমাদের দর্শকের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরতে চাচ্ছি। আমরা নতুন প্রযুক্তি, আধুনিক অনুষ্ঠান এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে এশিয়ান টিভিকে এ বছর নিয়ে যেতে চাই নতুনমাত্রায়। তরুণদের শক্তি নিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে এশিয়ান টিভি একটি মুখ্য ভূমিকা রাখবে। তরুণদের সহযোগিতা এবং নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব এবং গণমাধ্যমকে আমরা একটি নতুন ধারায় রূপান্তর করতে পারব।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠ সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে দেশের সংকট মোকাবিলা করব, ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করব সেই প্রত্যয়, স্বপ্ন ও প্রত্যাশা আমাদের থাকবে এবং এশিয়ান টিভিকে আবারও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, আশা করছি এশিয়ান টিভি অতীতে যেমন সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেছে, ভবিষ্যতেও একইভাবে সংবাদ পরিবেশন করবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















