বগুড়ায় হত্যা, ধর্ষণসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি মেহেদী হাসান শাওনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার দিবাগত রাত পৌণে চারটার দিকে শহরের মালগ্রাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শাওন সদর উপজেলার মানিকচক কর্ণপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মোজাম্মেল হোসেন ওরফে মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে। র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার শাওন বগুড়া জেলার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী?
এসব তথ্য নিশ্চিত করে র্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার বিএন এম আবুল হাশেম সবুজ জানান, বগুড়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বগুড়া জেলার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী, হত্যা ও ধর্ষণসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামী মেহেদী হাসান শাওন শহরের মালগ্রাম এলাকায় অবস্থান করছে। পরে অভিযান চালিয়ে শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়?
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার শাওনের বিরুদ্ধে সর্বশেষ বগুড়া জেলার সদর থানায় গত ১৫/০৯/২৪ ধর্ষণ মামলা নং-৪৪, ধারা-২০০০ সালের নারী ও শিশু ০০০ নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী-২০০৩) এর ৭/১০/৯(১)/৩০ তৎসহ ৩২৩/৫০৬ পেনাল কোড রুজু হওয়ার পর থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন কৌশলে দেশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ দিন হতে আত্মগোপনে ছিলো। গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বগুড়া জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মানিকচক গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন জিল্লারের ছেলে মেহেদী হাসান শাওনের বিরুদ্ধে ৩টি অস্ত্র মামলা, ৫টি মাদক মামলা ৯টি হত্যা/চাঁদাবাজি/ চুরির মামলাসহ প্রায় ২০টি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়াও বগুড়ার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ৫০টির অধিক জিডি ও অভিযোগও রয়েছে। বগুড়া জেলা প্রশাসনের তালিকাভুক্ত কিশোরগ্যাং নেতা শাওনের রয়েছে ৩০/৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী।
উল্লেখ, গ্রেপ্তারকৃত শাওন বগুড়া জেলার বগুড়া সদর পৌরসভার ১৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শাওন ওরফে ‘চাঁন্দা শাওন’ ওরফে ‘কিলার শাওন’ নামে পরিচিত। সময়-সুযোগ বুঝে নিজেকে যুবদলের নেতা বলে জাহির করে বেড়াচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। চিহ্নিত অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী এবং কিশোরগ্যাংয়ের দলপতি হিসেবে তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ২০টি মামলা চলমান রয়েছে।
জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যোগদান করে জাতীয় ও উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালালেও বর্তমানে সে নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে।
মেহেদী হাসান শাওনের মতো একজনের কারণে বিএনপির বদনাম হচ্ছে বলেও জানায় এলাকাবাসী। তারা বলছেন, চাঁন্দা শাওনের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠলে আমরা তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানালে র্যাব ১২ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গত ১০ অক্টোবর সকাল ৬ টায় সদর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। কয়েকদিন পর জেল থেকে বের হন এবং এলাকায় আবারও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে উঠেছেন।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করে বলেন, গত ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে মেহেদী হাসান শাওন তার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ে ১০/১৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
প্রথম ভোর ডেস্ক 



















