ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুর স্মৃতিসৌধে গার্মেন্টসকর্মী হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

চার বছর আগে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সায়মন নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত এ রায় দেন; একই মামলায় চোরাই মোবাইল কেনার দায়ে সুজন নামে একজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।

আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ বলেন, রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা তিন আসামি ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদীকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ১৭ বছর বয়সী সায়মন মিরপুর-১ নম্বরে সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর অফিস থেকে বেতন তুলে দুই সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সঙ্গে কেনাকাটা করতে মিরপুর-১ এ যান তিনি।

কেনাকাটা শেষে রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে অজ্ঞাতনামা তিন ছিনতাইকারীর একজন আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে সায়মনকে বলেন, তিনি নাকি তার ছোট ভাইকে মেরেছেন। ‘কথা আছে’ বলে সায়মন ও রিফাতকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে রিকশায় করে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে কাঁচাবাজারের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাঁচাবাজারের সামনে রিফাতকে রিকশা থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। আর সায়মনকে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিয়ে যায় তিন ছিনতাইকারী।

তিন ছিনতাইকারী চাকু বের করে ভয় দেখিয়ে সায়মনের কাছে থাকা সবকিছু দিয়ে দিতে বলে। সায়মন মোবাইল ও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় তারা।

সায়মনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে দারুস সালাম থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তে নেমে দারুস সালাম থানা পুলিশ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে। পরে সে ইকবাল ও মেহেদী হাসানও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করে। সায়মনের মোবাইল বিক্রির টাকা ইউসুফের বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। সুজনের কাছে সায়মনের মোবাইলটি ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করার কথাও সে স্বীকার করে।

মামলার তদন্ত শেষে ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল নিজের কাছে রাখার অপরাধে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন দারুস সালাম থানার এসআই সোহান আহমেদ।

২০২৩ সালের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এরপর আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি ও মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার আদালত আসামিদের সাজার রায় দেন।

হলান ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিদর্শনে এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন

মিরপুর স্মৃতিসৌধে গার্মেন্টসকর্মী হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ : ০৪:৫৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

চার বছর আগে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সায়মন নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত এ রায় দেন; একই মামলায় চোরাই মোবাইল কেনার দায়ে সুজন নামে একজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।

আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ বলেন, রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা তিন আসামি ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদীকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ১৭ বছর বয়সী সায়মন মিরপুর-১ নম্বরে সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর অফিস থেকে বেতন তুলে দুই সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সঙ্গে কেনাকাটা করতে মিরপুর-১ এ যান তিনি।

কেনাকাটা শেষে রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে অজ্ঞাতনামা তিন ছিনতাইকারীর একজন আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে সায়মনকে বলেন, তিনি নাকি তার ছোট ভাইকে মেরেছেন। ‘কথা আছে’ বলে সায়মন ও রিফাতকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে রিকশায় করে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে কাঁচাবাজারের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাঁচাবাজারের সামনে রিফাতকে রিকশা থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। আর সায়মনকে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিয়ে যায় তিন ছিনতাইকারী।

তিন ছিনতাইকারী চাকু বের করে ভয় দেখিয়ে সায়মনের কাছে থাকা সবকিছু দিয়ে দিতে বলে। সায়মন মোবাইল ও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় তারা।

সায়মনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে দারুস সালাম থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তে নেমে দারুস সালাম থানা পুলিশ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে। পরে সে ইকবাল ও মেহেদী হাসানও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করে। সায়মনের মোবাইল বিক্রির টাকা ইউসুফের বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। সুজনের কাছে সায়মনের মোবাইলটি ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করার কথাও সে স্বীকার করে।

মামলার তদন্ত শেষে ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল নিজের কাছে রাখার অপরাধে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন দারুস সালাম থানার এসআই সোহান আহমেদ।

২০২৩ সালের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এরপর আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি ও মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার আদালত আসামিদের সাজার রায় দেন।