ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজী নজরুল ৪, প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ১ দিনের রিমান্ডে

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে তাদের জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে সোমবার দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ একটি মাইক্রোবাসে করে দুই আসামিকে ঢাকার সিএমএম আদালতে নিয়ে যায়। পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানির সময় তাদের এজলাসে তোলা হয়।

পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চাওয়ার আবেদনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে। এর মধ্যে রয়েছে—মরিয়ম গলায় ফাঁস দেওয়ার সময় আসামিরা বাসায় ছিলেন কি না এবং আত্মহত্যায় তাদের কোনো প্ররোচনা ছিল কি না, তা জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা; মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উস্কানি, মানসিক চাপ বা ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা; পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা ও অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা; অজ্ঞাত কোনো আসামি জড়িত কি না, তা শনাক্ত করা এবং মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করা।

রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ওই রাতেই মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। ওবায়দুর রহমান বর্তমানে পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেছেন, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও মাকছুদা তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। পুলিশ মরিয়ম যে কক্ষে থাকতেন, সেখান থেকে তার লেখা বলে দাবি করা কয়েকটি চিরকুটও উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। তবে মরিয়মের বাবা গণমাধ্যমকে বলেছেন, উদ্ধার হওয়া লেখাগুলো তার মেয়েরই কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।

মরিয়মের মৃত্যুর আগে গত জুলাইয়ে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে গাজী নজরুলের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের কেউ কেউ ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে গাজী নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেন। এরপর জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় এখন গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা বেগমকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। মামলার অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

গাজী নজরুল ৪, প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ১ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশ : ০৪:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে তাদের জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে সোমবার দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ একটি মাইক্রোবাসে করে দুই আসামিকে ঢাকার সিএমএম আদালতে নিয়ে যায়। পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানির সময় তাদের এজলাসে তোলা হয়।

পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চাওয়ার আবেদনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে। এর মধ্যে রয়েছে—মরিয়ম গলায় ফাঁস দেওয়ার সময় আসামিরা বাসায় ছিলেন কি না এবং আত্মহত্যায় তাদের কোনো প্ররোচনা ছিল কি না, তা জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা; মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উস্কানি, মানসিক চাপ বা ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা; পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা ও অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা; অজ্ঞাত কোনো আসামি জড়িত কি না, তা শনাক্ত করা এবং মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করা।

রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ওই রাতেই মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। ওবায়দুর রহমান বর্তমানে পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেছেন, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও মাকছুদা তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। পুলিশ মরিয়ম যে কক্ষে থাকতেন, সেখান থেকে তার লেখা বলে দাবি করা কয়েকটি চিরকুটও উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। তবে মরিয়মের বাবা গণমাধ্যমকে বলেছেন, উদ্ধার হওয়া লেখাগুলো তার মেয়েরই কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।

মরিয়মের মৃত্যুর আগে গত জুলাইয়ে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে গাজী নজরুলের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের কেউ কেউ ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে গাজী নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেন। এরপর জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় এখন গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা বেগমকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। মামলার অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।