ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার স্ত্রী। মূমুর্ষুু অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি

  • হাসেম রাজ
  • প্রকাশ : ১২:১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ মে ২০২৩
  • ২৬৫৯ বার পড়া হয়েছে

যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার স্চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের গড়চাপড়া গ্রামের গৃহবধূ রিয়া মনি (৩০) নামে এক নারীকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী শিলনের বিরুদ্ধে। এসময় জোরপূর্বক বিষপান করিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয় বলে দাবি মেয়ের পরিবারের সদস্যদের। গতকাল ৭ই মে রোববার মুমূর্ষু অবস্থায় রিয়া মনিকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলন পার্শ্ববর্তী গ্রামের দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায় একই গ্রামের তুলি খাতুন নামে এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন স্বামী শিলন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হতে থাকে। রিয়া মনির বাবা সাংবাদিক দের কে বলেন, মেয়ের বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ নগদ ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তাদের চাহিদা মোতাবেক মেয়ের সুখের কথা ভেবে সোনার গয়নাসহ আসবাবপত্রও দিয়েছি। তারপরেও মেয়ের সুখ হলো না। এখন আবার দাবী করছে পালসার মোটরসাইকেল দিতে হবে। আমরা দরিদ্র মানুষ দেবো কোথা থেকে? মোটরসাইকেল দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই আমাদের। এ জন্য শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই আমার মেয়েকে কটুক্তিমূলক কথাবার্তা শোনাতে থাকে। এ নিয়ে মেয়ে প্রতিবাদ করলে শিলন আমার মেয়ের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর জোরপূর্বক মেয়ের মুখের মধ্যে বিষ দেওয়া হয়। তারপরও নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে আমরা মেয়েকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। এ বিষয়ে আমি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

রিয়া মনির মা বলেন, তাদের আড়াই বছরের একটি সন্তান রয়েছে। তার কথা ভেবে আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছি না। আমরা চাই তারা সব কিছু ভুলে মিলেমিশে সংসার করুক। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন বলেন, রিয়া মনির শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের আলামত পাওয়া গেছে। এছাড়া তার পাকস্থলিতে বিষের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এখনো পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে

যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার স্ত্রী। মূমুর্ষুু অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশ : ১২:১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ মে ২০২৩

যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার স্চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের গড়চাপড়া গ্রামের গৃহবধূ রিয়া মনি (৩০) নামে এক নারীকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী শিলনের বিরুদ্ধে। এসময় জোরপূর্বক বিষপান করিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয় বলে দাবি মেয়ের পরিবারের সদস্যদের। গতকাল ৭ই মে রোববার মুমূর্ষু অবস্থায় রিয়া মনিকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলন পার্শ্ববর্তী গ্রামের দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায় একই গ্রামের তুলি খাতুন নামে এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন স্বামী শিলন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হতে থাকে। রিয়া মনির বাবা সাংবাদিক দের কে বলেন, মেয়ের বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ নগদ ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তাদের চাহিদা মোতাবেক মেয়ের সুখের কথা ভেবে সোনার গয়নাসহ আসবাবপত্রও দিয়েছি। তারপরেও মেয়ের সুখ হলো না। এখন আবার দাবী করছে পালসার মোটরসাইকেল দিতে হবে। আমরা দরিদ্র মানুষ দেবো কোথা থেকে? মোটরসাইকেল দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই আমাদের। এ জন্য শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই আমার মেয়েকে কটুক্তিমূলক কথাবার্তা শোনাতে থাকে। এ নিয়ে মেয়ে প্রতিবাদ করলে শিলন আমার মেয়ের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর জোরপূর্বক মেয়ের মুখের মধ্যে বিষ দেওয়া হয়। তারপরও নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে আমরা মেয়েকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। এ বিষয়ে আমি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

রিয়া মনির মা বলেন, তাদের আড়াই বছরের একটি সন্তান রয়েছে। তার কথা ভেবে আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছি না। আমরা চাই তারা সব কিছু ভুলে মিলেমিশে সংসার করুক। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন বলেন, রিয়া মনির শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের আলামত পাওয়া গেছে। এছাড়া তার পাকস্থলিতে বিষের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এখনো পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।