ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

চট্টগ্রামে ১১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি, পানি জমলেও কোথাও নেই জলাবদ্ধতা

চট্টগ্রাম নগরীতে ২৪ ঘণ্টায় ১১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে কয়েকটি সড়কে অল্প সময়ের জন্য পানি জমলেও কোথাও জলাবদ্ধতা দেখা যায়নি। পানি জমেছিল কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার দুয়েকটি স্থানে এবং প্রবর্তক মোড়ের একাংশে; পরে ওই এলাকাগুলোর নালায় জমে থাকা আবর্জনা সরিয়ে নিলে পানি সরে যায়।

নগরীতে বৃষ্টি শুরু হয় রোববার ভোর থেকে, রাতে বেগ বাড়ে। সোমবারও দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, আজ বেলা ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মোট ১১৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সোমবার সকালের পূর্বাভাস বার্তায় বলা হয়, দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থানকারী মৌসুমি স্থল নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। সেকারণে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সোমবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছি। খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণেই টানা দুই দিনের বৃষ্টির পরও নগরীতে কোনো উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।

বর্ষা মৌসুমে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনের সব বিভাগ প্রস্তুত আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মেয়র শাহাদাত বলেন, কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি।

কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার ১ ও ২ নম্বর সড়কে নালায় ফলের টুকরি ও পলিথিনের কারণে পানি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি জমে গিয়েছিল। সেগুলো সরানো হয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নগরবাসীর উদ্দেশে মেয়র বলেন, নালা-নর্দমা, খাল কিংবা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেন মেয়র।

অন্যদিকে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন ফেসবুকে রোববার রাতে প্রবর্তক মোড়ে এক অংশে সড়কে পানি জমে থাকার একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, চট্টগ্রামে বৃষ্টির কারণে যাতে পানি না উঠে সেজন্য প্রকল্প পরিচালক গভীর রাত পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে সাথে নিয়ে নিম্ন অঞ্চল গুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি চলাচল তদারকি করেন।

সেখানে নালায় পানি নামার পথ বন্ধ থাকায় সড়কে কিছু পানি জমেছিল। পরে আবর্জনা সরিয়ে নিলে পানি নেমে যায়।

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ও মে মাসের শুরুতে কয়েকদিন বৃষ্টিতে নগরীর কেন্দ্রে কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পর হিজরা খাল ও জামালখান খালে সংস্কার কাজের জন্য দেওয়া বাঁধ গুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

চট্টগ্রামে ১১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি, পানি জমলেও কোথাও নেই জলাবদ্ধতা

প্রকাশ : ০৫:২৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীতে ২৪ ঘণ্টায় ১১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে কয়েকটি সড়কে অল্প সময়ের জন্য পানি জমলেও কোথাও জলাবদ্ধতা দেখা যায়নি। পানি জমেছিল কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার দুয়েকটি স্থানে এবং প্রবর্তক মোড়ের একাংশে; পরে ওই এলাকাগুলোর নালায় জমে থাকা আবর্জনা সরিয়ে নিলে পানি সরে যায়।

নগরীতে বৃষ্টি শুরু হয় রোববার ভোর থেকে, রাতে বেগ বাড়ে। সোমবারও দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, আজ বেলা ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মোট ১১৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সোমবার সকালের পূর্বাভাস বার্তায় বলা হয়, দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থানকারী মৌসুমি স্থল নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। সেকারণে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সোমবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছি। খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণেই টানা দুই দিনের বৃষ্টির পরও নগরীতে কোনো উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।

বর্ষা মৌসুমে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনের সব বিভাগ প্রস্তুত আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মেয়র শাহাদাত বলেন, কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি।

কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার ১ ও ২ নম্বর সড়কে নালায় ফলের টুকরি ও পলিথিনের কারণে পানি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি জমে গিয়েছিল। সেগুলো সরানো হয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নগরবাসীর উদ্দেশে মেয়র বলেন, নালা-নর্দমা, খাল কিংবা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেন মেয়র।

অন্যদিকে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন ফেসবুকে রোববার রাতে প্রবর্তক মোড়ে এক অংশে সড়কে পানি জমে থাকার একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, চট্টগ্রামে বৃষ্টির কারণে যাতে পানি না উঠে সেজন্য প্রকল্প পরিচালক গভীর রাত পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে সাথে নিয়ে নিম্ন অঞ্চল গুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি চলাচল তদারকি করেন।

সেখানে নালায় পানি নামার পথ বন্ধ থাকায় সড়কে কিছু পানি জমেছিল। পরে আবর্জনা সরিয়ে নিলে পানি নেমে যায়।

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ও মে মাসের শুরুতে কয়েকদিন বৃষ্টিতে নগরীর কেন্দ্রে কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পর হিজরা খাল ও জামালখান খালে সংস্কার কাজের জন্য দেওয়া বাঁধ গুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।