ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় খামেনির জানাজা, উপস্থিত ছিলেন তিন পুত্র

ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) সকালে (স্থানীয় সময় ৮টা ও বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১০টা) লাখো মানুষ এ জানাজায় অংশ নেন। ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, স্পিকারসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, দেশটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা ও তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজায় ইমামতি করেছেন।

জানাজায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি ইজেই উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন খামেনির তিন ছেলে—মাসুদ, মাইসাম ও মোস্তফা। তবে অসুস্থতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। এ ছাড়া জানাজায় অংশ নেন ইরানের অভিজাত ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক শোক ও দাফন প্রক্রিয়ার আজ দ্বিতীয় দিন। তেহরানে আজ এ নেতার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁরা নেতার জানাজায় অংশ নেন।

জানাজা উপলক্ষে আজ পুরো ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সন্ধ্যায় প্রয়াত নেতার মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে স্থানান্তর করা হবে। আগামীকাল সোমবার রাজধানীজুড়ে শোকমিছিল হবে। শোকমিছিল শেষে আগামী মঙ্গলবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন নিয়ে যাওয়া হবে কোম নগরীতে। এরপর বুধবার কফিন নেওয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে শোকযাত্রা হবে নাজাফ ও কারবালা শহরে। সেখানেও শোকাহত মানুষ তাঁর প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাবেন। অনুষ্ঠিত হবে জানাজা।

এরপর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ তাঁর জন্মস্থান ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ফিরিয়ে আনা হবে। সেখানেই তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন। গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরান শাসন করে আসছিলেন।

খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মোজতবাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় খামেনির জানাজা, উপস্থিত ছিলেন তিন পুত্র

প্রকাশ : ০৫:১৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) সকালে (স্থানীয় সময় ৮টা ও বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১০টা) লাখো মানুষ এ জানাজায় অংশ নেন। ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, স্পিকারসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, দেশটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা ও তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজায় ইমামতি করেছেন।

জানাজায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি ইজেই উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন খামেনির তিন ছেলে—মাসুদ, মাইসাম ও মোস্তফা। তবে অসুস্থতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। এ ছাড়া জানাজায় অংশ নেন ইরানের অভিজাত ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক শোক ও দাফন প্রক্রিয়ার আজ দ্বিতীয় দিন। তেহরানে আজ এ নেতার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁরা নেতার জানাজায় অংশ নেন।

জানাজা উপলক্ষে আজ পুরো ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সন্ধ্যায় প্রয়াত নেতার মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে স্থানান্তর করা হবে। আগামীকাল সোমবার রাজধানীজুড়ে শোকমিছিল হবে। শোকমিছিল শেষে আগামী মঙ্গলবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন নিয়ে যাওয়া হবে কোম নগরীতে। এরপর বুধবার কফিন নেওয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে শোকযাত্রা হবে নাজাফ ও কারবালা শহরে। সেখানেও শোকাহত মানুষ তাঁর প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাবেন। অনুষ্ঠিত হবে জানাজা।

এরপর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ তাঁর জন্মস্থান ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ফিরিয়ে আনা হবে। সেখানেই তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন। গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরান শাসন করে আসছিলেন।

খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মোজতবাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।