পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু হয়েছে। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে অন্তত ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী দেশ। এটি দেশের কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে, ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) প্রথম ইউনিটের কার্যক্রম শুরুর লাইসেন্স ও ৫২ জন বিশেষজ্ঞের অনুমোদন দেয়। কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে পূর্বের নির্ধারিত সময় পিছিয়ে এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের পর তিন মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। শুরুতে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগস্টের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করবে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের শক্তি প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় বহু গুণ বেশি। মাত্র সাড়ে ৪ গ্রাম ওজনের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট প্রায় ৪১৭ লিটার ডিজেলের সমান শক্তি উৎপাদনে সক্ষম। একই পরিমাণ শক্তি পেতে প্রয়োজন হয় প্রায় ৪০০ কেজি কয়লা বা ৩৬০ ঘনমিটার গ্যাস। ফলে স্বল্প জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদে বিপুল বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকর গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, জ্বালানি লোডিং একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালন পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে প্রকল্পটি নির্মাণপর্ব থেকে পরিচালনপর্বে প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়ায় ১২শ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে নতুন জ্বালানি প্রবেশ করানো হবে, যা পরবর্তীতে প্রথমে তাপ উৎপাদন এবং নিউক্লিয়ার চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করার পথ তৈরি করবে— বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে যা শেষ ধাপগুলোর অন্যতম।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
প্রথম ভোর ডেস্ক,ঢাকা 


















