ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-১১ আসনের ইফতার মাহফিলে বিএনপি নেতাদের ঐক্যের বার্তা

ঢাকা-১১ আসনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল; উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও ডিএনসিসি প্রশাসক মিল্টন।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১১ আসনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেই সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চায়।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের জনগণ স্বৈরাচারী শাসনের নানা জুলুম, অত্যাচার ও অন্যায়ের শিকার হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়জুড়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা নানা বাধা ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন।

আমিনুল হক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে এবং জনগণের সমর্থন ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে বিএনপি সরকার গঠন করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং দেশের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় বছর ধরে একটি মহল বিএনপিকে নিয়ে নানা ধরনের মিথ্যাচার করেছে। এই মিথ্যাচারের জবাব জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেতাকর্মীদেরই নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, দেশের মানুষ ও বিভিন্ন টকশোতে প্রায়ই একটি বিষয় আলোচনায় আসে—ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিএনপির বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আইনের মাধ্যমে লড়াই করে সেই বিজয় ফিরে আনবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, দলের নেতা তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা রাষ্ট্র পরিচালনা ও দলের স্বার্থে সবাইকে মেনে চলতে হবে।

দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ড. কাইয়ুম বলেন, রাজনীতি করতে হলে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্ত্রাস, মাদক কিংবা চাঁদাবাজির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকতে পারবে না। যদি দলের কেউ এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে তবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং দলের পক্ষ থেকেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা-১১ আসনের জনগণকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদামুক্ত সমাজ উপহার দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ড. এম এ কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বহু নেতাকর্মী তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, আমরা তার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় রাজনীতিতে কাজ করে যাচ্ছি।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের রাত দুইটার সময় ঢাকা-১১ আসনে কী হয়েছিল তা অনেকেই জানেন। সেখানে কী ধরনের নাটক হয়েছে তা সবারই জানা। এখানে আমাদের এবং জনতার এমপি কাইয়ুম ভাই।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রাজনীতিতে যারা ত্যাগ স্বীকার করেন দল একদিন না একদিন তাদের মূল্যায়ন করে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে নেতাকর্মীরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের অবদান ছাড়া দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হতো না।

উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

ইফতার মাহফিলে প্রায় ৮ হাজারের বেশি রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজসেবক ও নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ইফতারের আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা: রমনা থানা বিএনপি সভাপতিকে শোকজ

ঢাকা-১১ আসনের ইফতার মাহফিলে বিএনপি নেতাদের ঐক্যের বার্তা

প্রকাশ : ০৯:২৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ঢাকা-১১ আসনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল; উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও ডিএনসিসি প্রশাসক মিল্টন।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১১ আসনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেই সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চায়।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের জনগণ স্বৈরাচারী শাসনের নানা জুলুম, অত্যাচার ও অন্যায়ের শিকার হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়জুড়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা নানা বাধা ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন।

আমিনুল হক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে এবং জনগণের সমর্থন ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে বিএনপি সরকার গঠন করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং দেশের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় বছর ধরে একটি মহল বিএনপিকে নিয়ে নানা ধরনের মিথ্যাচার করেছে। এই মিথ্যাচারের জবাব জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেতাকর্মীদেরই নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, দেশের মানুষ ও বিভিন্ন টকশোতে প্রায়ই একটি বিষয় আলোচনায় আসে—ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিএনপির বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আইনের মাধ্যমে লড়াই করে সেই বিজয় ফিরে আনবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, দলের নেতা তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা রাষ্ট্র পরিচালনা ও দলের স্বার্থে সবাইকে মেনে চলতে হবে।

দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ড. কাইয়ুম বলেন, রাজনীতি করতে হলে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্ত্রাস, মাদক কিংবা চাঁদাবাজির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকতে পারবে না। যদি দলের কেউ এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে তবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং দলের পক্ষ থেকেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা-১১ আসনের জনগণকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদামুক্ত সমাজ উপহার দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ড. এম এ কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বহু নেতাকর্মী তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, আমরা তার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় রাজনীতিতে কাজ করে যাচ্ছি।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের রাত দুইটার সময় ঢাকা-১১ আসনে কী হয়েছিল তা অনেকেই জানেন। সেখানে কী ধরনের নাটক হয়েছে তা সবারই জানা। এখানে আমাদের এবং জনতার এমপি কাইয়ুম ভাই।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রাজনীতিতে যারা ত্যাগ স্বীকার করেন দল একদিন না একদিন তাদের মূল্যায়ন করে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে নেতাকর্মীরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের অবদান ছাড়া দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হতো না।

উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

ইফতার মাহফিলে প্রায় ৮ হাজারের বেশি রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজসেবক ও নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ইফতারের আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।