ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৮ সাল থেকে পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জীবন ও আত্মত্যাগ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি-এর জীবন, কর্ম, শাহাদাত এবং তার পরবর্তী ঘটনাবলি ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েকটি শিক্ষাবর্ষে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবইয়ে বেশ কিছু নতুন বিষয় সংযোজন এবং বিদ্যমান পাঠ পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ উদ্যোগের আওতায় নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক রচনার আলোকে নতুন পাঠ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব রচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, জাতির উত্থান এবং রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাস সম্পর্কে আরও সমৃদ্ধ ধারণা লাভ করবে।

একই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত শরিফ ওসমান হাদির জীবনসংগ্রাম, আদর্শিক অবস্থান, নেতৃত্বগুণ এবং আত্মত্যাগের ঘটনা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে তাকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে তার জীবন ও কর্মকে উপস্থাপন করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ অধ্যায়ে যেভাবে তিতুমীর, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নূর হোসেন, আবু সাঈদ এবং মীর মুগ্ধ-এর জীবন ও আত্মত্যাগ তুলে ধরা হয়েছে, একই ধরনের বিন্যাসে শরিফ ওসমান হাদির জীবনী, সংগ্রাম এবং শাহাদাতের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগী ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানতে পারবে।

ঝালকাঠির নলছিটির সন্তান শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাঠ্যবইয়ে শরিফ ওসমান হাদির জীবন ও আত্মত্যাগ অন্তর্ভুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা সমকালীন ইতিহাস, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি জাতীয় জীবনে আত্মত্যাগ ও নেতৃত্বের গুরুত্ব সম্পর্কেও তারা অনুপ্রাণিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

২০২৮ সাল থেকে পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জীবন ও আত্মত্যাগ

প্রকাশ : ০৫:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি-এর জীবন, কর্ম, শাহাদাত এবং তার পরবর্তী ঘটনাবলি ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েকটি শিক্ষাবর্ষে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবইয়ে বেশ কিছু নতুন বিষয় সংযোজন এবং বিদ্যমান পাঠ পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ উদ্যোগের আওতায় নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক রচনার আলোকে নতুন পাঠ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব রচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, জাতির উত্থান এবং রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাস সম্পর্কে আরও সমৃদ্ধ ধারণা লাভ করবে।

একই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত শরিফ ওসমান হাদির জীবনসংগ্রাম, আদর্শিক অবস্থান, নেতৃত্বগুণ এবং আত্মত্যাগের ঘটনা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে তাকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে তার জীবন ও কর্মকে উপস্থাপন করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ অধ্যায়ে যেভাবে তিতুমীর, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নূর হোসেন, আবু সাঈদ এবং মীর মুগ্ধ-এর জীবন ও আত্মত্যাগ তুলে ধরা হয়েছে, একই ধরনের বিন্যাসে শরিফ ওসমান হাদির জীবনী, সংগ্রাম এবং শাহাদাতের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগী ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানতে পারবে।

ঝালকাঠির নলছিটির সন্তান শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাঠ্যবইয়ে শরিফ ওসমান হাদির জীবন ও আত্মত্যাগ অন্তর্ভুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা সমকালীন ইতিহাস, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি জাতীয় জীবনে আত্মত্যাগ ও নেতৃত্বের গুরুত্ব সম্পর্কেও তারা অনুপ্রাণিত হবে।